সবজির পর ডিমের বাজারে উত্তাপ: ডজনপ্রতি দাম পৌঁছাল ১৬৫ টাকায়, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
- আপডেট সময় : ০৫:২১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
সবজির চড়া দামের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ আমিষের চাহিদা মেটাতে ডিমের ওপর ভরসা করতেন, কিন্তু সেই ডিমের দামও এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে এক হালি ডিমের দাম রাখা হচ্ছে ৫৫ টাকা, সেই হিসাবে ডজনপ্রতি ডিমের দাম পড়ছে ১৬৫ টাকা।
তেজগাঁওয়ের পূর্ব নাখালপাড়া সমিতি বাজারে ডিম কিনতে আসা আলেয়া বেগম বলেন, সবজির দাম বেশি হওয়ায় আমিষের একমাত্র ভরসা ছিল ডিম। কিন্তু ডিমের দামেও আগুন লেগেছে। তিনি জানান, রংমিস্ত্রি স্বামীর দৈনিক ৬০০ টাকা আয়ে সংসার চলে, আর এখন ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ-মাংসের স্বপ্ন দূরে রেখে সবজি ও ডিমের ওপর নির্ভর করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় চার মাস আগে ডিমের ডজন ১০০ থেকে ১১০ টাকায় নেমে এসেছিল। কিন্তু গত দুই মাস ধরে দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, গত এক মাসে ডিমের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাদা ডিম ১৪০-১৪৫ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪৫-১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার খুচরা ব্যবসায়ীরা আরও চড়া দাম নিচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ডিম ঢাকায় এলেও এর দাম নিয়ন্ত্রণ করা হয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে। খুচরা বিক্রেতা সাইফুল গাজী জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রায়শই দামের কারসাজি করে থাকেন, যার ফলে ডিমের দাম বেড়ে দেড়শ টাকায় ঠেকেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডিমের ডজন ১৬০-১৬৫ টাকায় পৌঁছালে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল, তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিটি ডিমের দাম ১১ টাকা ৮৭ পয়সা অর্থাৎ ডজনপ্রতি ১৪২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চিত্রও প্রায় একই। গত এক সপ্তাহে সেখানে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৪০-১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০-১৬৫ টাকায় উঠেছে। বহদ্দারহাটের পাইকারি ব্যবসায়ী আহমেদ ফারুক জানান, কিছুদিন বাজার স্থিতিশীল থাকলেও বৃষ্টির পরপরই দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জুলাইয়ের বন্যায় ছয় হাজারের বেশি হাঁস-মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ডিমের সরবরাহ এমনিতেই কম।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজার তদারকির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে কারসাজি করছেন। তিনি হুশিয়ারি দেন যে, গত বছরের ন্যায় পরিস্থিতি এড়াতে বাজার তদারকি জোরদার করা এবং ভোক্তাদের হয়রানি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ ডিমের চাহিদা রয়েছে।
এদিকে, সরকারি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা। তিনি জানান, প্রতিদিনই বাজার তদারকি করা হচ্ছে এবং ডিমের দামের অস্থিরতার পেছনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি রয়েছে কি না, তা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক হালি নিয়েছি ৫৫ টাকা।’ তিনি জানান, তাঁর স্বামী একটি ওয়ার্কশপে দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিতে রংমিস্ত্রির কাজ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য না থাকায় ডিম ও সবজি দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাতে হচ্ছে তাঁদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারওয়ান বাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা সাইফুল গাজী বলেন, পাইকাররা কখনও দুদিন দাম কমান, আবার তিন দিন বাড়ান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরবরাহকারী খামারি ও আড়তদারদের দাম বাড়ানোর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গরিবের পাত থেকে ডিম কেড়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি বাজারে ব্যবসায়ীদের কারসাজিও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
সূত্র: দৈনিক এইদিন























