ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিমলায় ভারতীয় পণ্য জব্দ, পালিয়ে গেল চোরাকারবারিরা সাপাহারে মাদ্রাসার নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, ভোট ২৯ অক্টোবর বাবার ধার করা টাকা আর প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে সাফল্যের চূড়ায় গোবিপ্রবিতে ১৯ প্রভাষক নিয়োগ, বেতন ৪৪ হাজার টাকা নির্মাণ চুক্তিভঙ্গের দায়ে কোম্পানিকে ১২ লাখ রিয়াল পরিশোধের নির্দেশ পাবনায় নকল দুধ উৎপাদন: গৃহবধূকে এক লাখ টাকা জরিমানা দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটি একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন গাজায় ইসরায়েলকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সরবরাহ ভারতের: প্রতিবেদন

তাহিরপুরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ বাড়ছে

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ ২১৪৮ বার পড়া হয়েছে

তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

তাহিরপুরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ বাড়ছে

 

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব পালনে তার অস্বচ্ছ আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্টরা।

 

 

গোসাইরহাট উপজেলা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ হয়ে সম্প্রতি তাহিরপুরে যোগদান করেন আফজাল হোসেন। তবে তার দায়িত্ব পালনের ধরন ও আচরণে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি অফিসের কার্যক্রম নিজের ইচ্ছে মতো পরিচালনা করছেন।

 

 

সহকর্মী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেখানে থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। নতুন কর্মস্থলে এসেও তিনি একই ধরণের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

পড়ুন>> দৌলতপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার আচরণে মনে হয় তিনি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। কাকে কী বলতে হবে সে বিষয়ে তার কোন সচেতনতা নেই। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সবাই। তারা মনে করেন, তাকে অন্যত্র বদলি করা ছাড়া আর কোনো সমাধান নেই।

 

 

আফজাল হোসেন শুধু তাহিরপুর নয়, জেলার জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার এবং জামালগঞ্জ উপজেলায়ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

এতে তার প্রভাব আরও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিক উপজেলায় দায়িত্ব নেয়ার সুবাদে “অবৈধ আয়ের পথ” তার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে বলেও তারা মনে করেন।

 

 

সহকর্মীদের অভিযোগ, আফজাল হোসেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম নিজের মতো করে পরিচালনা করছেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ মানতে নারাজ তিনি। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের সঙ্গেও তার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে মাত্র সাত-আট মাসের মধ্যে।

পড়ুন>> ডাকসু নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, “তার আচরণে মনে হয় তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। কখন কাকে কী বলতে হয় সে বিষয়ে তার কোনো সচেতনতা নেই। তার কর্মকাণ্ডে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।” তাদের মতে, তাকে বদলি ছাড়া আর কোনো সমাধান নেই।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার কৃষি বাজার শাখার সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব একাউন্টে সম্প্রতি তিনি মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করেছেন। আর্থিক লেনদেনে রহস্য অনুসন্ধানে জানা গেছে,
ঢাকার কৃষি বাজার শাখার সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব একাউন্টে আফজাল হোসেন গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা লেনদেন করেছেন।

 

 

তার নিজ একাউন্ট নং-৪৪৪৬১০১০০৬৩৬৩ তে চলতি বছরের, ২ জুন জমা দিয়েছেন ৬২ হাজার টাকা৷ ২৩ এপ্রিল জমা দিয়েছেন ৭৫ হাজার টাকা৷ ১৫ জুন জমা দিয়েছেন ৬৫ হাজার টাকা৷ প্রশ্ন উঠেছে, এত টাকা তিনি কোথা থেকে পেলেন? সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার বেতন-ভাতা দিয়ে এ ধরনের মোটা অঙ্কের টাকা জমা দেওয়া সম্ভব নয়।

 

 

 

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, অবৈধ আয়ের উৎস থেকেই এ অর্থ এসেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আফজাল হোসেন অত্যন্ত কৌশলীভাবে দুর্নীতির পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি জেলার একাধিক উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের সুযোগ নিয়েছেন। “ধরি মাছ না ছুঁই পানি” কায়দায় তিনি কাজ করেন। সরাসরি হাত না লাগিয়েও নানা উপায়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করছেন।

 

 

অনিয়ম দূর্নীতি বিষয়ে মোবাইল ফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আফজাল হোসেনে গাড়িতে আছি বলে ফোন বন্ধ করে ফেলেন৷ একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাহিরপুরসহ জেলার একাধিক উপজেলায় দায়িত্ব পালনকারী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

 

 

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার অব্যাহত স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তাহিরপুরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

 

 

তাহিরপুরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ বাড়ছে

 

 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব পালনে তার অস্বচ্ছ আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্টরা।

 

 

গোসাইরহাট উপজেলা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ হয়ে সম্প্রতি তাহিরপুরে যোগদান করেন আফজাল হোসেন। তবে তার দায়িত্ব পালনের ধরন ও আচরণে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি অফিসের কার্যক্রম নিজের ইচ্ছে মতো পরিচালনা করছেন।

 

 

সহকর্মী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেখানে থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। নতুন কর্মস্থলে এসেও তিনি একই ধরণের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

পড়ুন>> দৌলতপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার আচরণে মনে হয় তিনি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। কাকে কী বলতে হবে সে বিষয়ে তার কোন সচেতনতা নেই। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সবাই। তারা মনে করেন, তাকে অন্যত্র বদলি করা ছাড়া আর কোনো সমাধান নেই।

 

 

আফজাল হোসেন শুধু তাহিরপুর নয়, জেলার জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার এবং জামালগঞ্জ উপজেলায়ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

এতে তার প্রভাব আরও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিক উপজেলায় দায়িত্ব নেয়ার সুবাদে “অবৈধ আয়ের পথ” তার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে বলেও তারা মনে করেন।

 

 

সহকর্মীদের অভিযোগ, আফজাল হোসেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম নিজের মতো করে পরিচালনা করছেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ মানতে নারাজ তিনি। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের সঙ্গেও তার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে মাত্র সাত-আট মাসের মধ্যে।

পড়ুন>> ডাকসু নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, “তার আচরণে মনে হয় তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। কখন কাকে কী বলতে হয় সে বিষয়ে তার কোনো সচেতনতা নেই। তার কর্মকাণ্ডে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।” তাদের মতে, তাকে বদলি ছাড়া আর কোনো সমাধান নেই।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার কৃষি বাজার শাখার সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব একাউন্টে সম্প্রতি তিনি মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করেছেন। আর্থিক লেনদেনে রহস্য অনুসন্ধানে জানা গেছে,
ঢাকার কৃষি বাজার শাখার সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব একাউন্টে আফজাল হোসেন গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা লেনদেন করেছেন।

 

 

তার নিজ একাউন্ট নং-৪৪৪৬১০১০০৬৩৬৩ তে চলতি বছরের, ২ জুন জমা দিয়েছেন ৬২ হাজার টাকা৷ ২৩ এপ্রিল জমা দিয়েছেন ৭৫ হাজার টাকা৷ ১৫ জুন জমা দিয়েছেন ৬৫ হাজার টাকা৷ প্রশ্ন উঠেছে, এত টাকা তিনি কোথা থেকে পেলেন? সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার বেতন-ভাতা দিয়ে এ ধরনের মোটা অঙ্কের টাকা জমা দেওয়া সম্ভব নয়।

 

 

 

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, অবৈধ আয়ের উৎস থেকেই এ অর্থ এসেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আফজাল হোসেন অত্যন্ত কৌশলীভাবে দুর্নীতির পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি জেলার একাধিক উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের সুযোগ নিয়েছেন। “ধরি মাছ না ছুঁই পানি” কায়দায় তিনি কাজ করেন। সরাসরি হাত না লাগিয়েও নানা উপায়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করছেন।

 

 

অনিয়ম দূর্নীতি বিষয়ে মোবাইল ফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আফজাল হোসেনে গাড়িতে আছি বলে ফোন বন্ধ করে ফেলেন৷ একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাহিরপুরসহ জেলার একাধিক উপজেলায় দায়িত্ব পালনকারী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

 

 

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার অব্যাহত স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

Facebook Comments Box