ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২৫ হাজার বছর আগেও মাদক হিসেবে সুপারির ব্যবহার ছিল, বলছে নতুন গবেষণা নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের সন্ধান মিলেছে জ্বালানি সংকটে শিল্পখাত ধুঁকছে, সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা জামায়াত আমীরের ব্রিকসের বিবর্তন ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ: ঐকমত্যে পৌঁছানোই এখন বড় বাধা পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে প্রাণ হারানো সীতাকুণ্ডের রমজান আলীর মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি নিজ গ্রামে দাফন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের প্রত্যেকেই বর্তমান সরকারের অংশ: রুহুল কবির রিজভী

লাভজনক পদ্ধতিতে ঝিঙ্গা চাষ পদ্ধতি

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০ ২৪৪৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিংগা একটি উৎকৃষ্ট সবজি। সুস্বাদু সবজীগুলোর মধ্যে অন্যতম।

জাত: স্থানীয় জাতের  ছাড়া ঝিংগা উফসী জাতের বারী-১ ও বারী-২ বেশ ভালো। হাইব্রিড জাতের ঝিংগা চাষ করলে ফলন অনেক বেশী পাওয়া যায়। সুপ্রিম সীড, লালতীর, গেটকো, এসিআই, ইয়ং এর হাইব্রিড বীজ গুলো বেশ ভালো।

জমিঃ বাংলাদেশের সব এলাকা ঝিংগা চাষের উপযোগী।দোঁআশ,পলি দো-আশ মাটি ঝিংগা চাষের জন্য বেশী উপযোগী। ঝিংগা চাষের জন্য মাটির কাঙ্কিত মান  পি এইচ ৫.৫ থেকে ৬.৭ এবং তাপমাত্রা ২৫সেঃ থেকে ৩০0 সেঃ।

বীজ বপনের সময়ঃ পৌষ ও মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই ঝিংগা চাষ করা যায়।তবে ফাল্গুন-চৈত্র মাস ঝিংগা বপনের উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমানঃ প্রতি শতাংশে ১০-১৫ গ্রাম এবং প্রতি একরে ১.২৫ কেজি থেকে ১.৫০ কেজি। তবে চারা শেডে(পলি ব্যাগে) তৈরী করলে বীজের পরিমান অনেক কম লাগে

বীজ বপন পদ্ধতিঃ করলার বীজ সরাসরি বেডে বপন করা যায়। তবে শেডে চারা তৈরী করলে উৎপাদন খরচ কম হয়। বীজ বপনের পূর্বে বীজ রোদে  ১-২ ঘন্টা  রেখে ঠান্ডা করার পর ১২-১৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুততর হয়।সারি থেকে সারি ৫ ফুট এবং চারা থেকে চারার দুরত্ব ৩ ফুট। নিদৃষ্ট দুরত্বে ২টি বীজ বপন করতে হবে।চারা একটু বড় হলে সুস্থ একটি চারা রেখে অন্যটি তুলে ফেলতে হবে।

প্যাকেট এর চারা হলে চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা (চারার বয়স ১৫-২০ দিন) হলে নিদৃষ্ট দুরত্বে একটি সবল চারা রোপন করতে হবে।

জেনে নিন>>  আমের রোগ বালাই ও প্রতিকার

তৈরী সার প্রয়োগঃভালো ভাবে জমি চাষ করে রোদে শুকানোর সোর প্রয়োগ করতে হবে।

(প্রতি শতাংশে সার প্রয়োগ)

সার জমি তৈরীর সময় শেষ চাষের সময় প্রথম উপরী প্রয়োগ ২য় উপরী প্রয়োগ ৩য় উপরী প্রয়োগ
গোবর ৫০ কেজি
ইউরিয়া ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
টিএসপি ৮০০ গ্রাম
এমওপি ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
জিপসাম ৪০০ গ্রাম
জিংক ৫০ গ্রাম
বোরণ ৫০ গ্রাম

গাছের আকার ভালো না হলে ২য় ও ৩য় উপরী সার প্রয়োগের সময় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ডিএপি প্রয়োগ করতে হবে।

সংগ্রহ ফলনঃ বীজ বপনের ৬০-৭০ দিন পর ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।প্রতি একরে প্রায় ১১-১২ টন করলা পাওয়া যায়।

পোকামাকড় বলাই দমনঃ ঝিংগা চারা গজানোর পর থেকে নিয়মিত ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। ঝিংগা পোকা দ্বারা আক্রান্ত হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হরে।

ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত বালাই নাশক ব্যবহার ছত্রাক দ্বারা সহজে আক্রান্ত হবে না।ফলের সাইজ ছোট ও ফলন কম হলে সলুবর বোরণ ও  জৈব উদ্দীপক হরমোন( জিবরেলিক এসিড, নাইট্রো বেনজিন ইত্যাদি) ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে।

পরবর্তী পরিচর্যাঃ চারা মাঁচায় উঠার পযর্ন্ত পার্শ্ব কুশি ও মরা পাতা ছাঁটাই করতে হবে।নিড়ানী দিয়ে হবে।প্রয়োজনে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

আগাছা দমন করতে হবে।মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

12 thoughts on “লাভজনক পদ্ধতিতে ঝিঙ্গা চাষ পদ্ধতি

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লাভজনক পদ্ধতিতে ঝিঙ্গা চাষ পদ্ধতি

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০

ঝিংগা একটি উৎকৃষ্ট সবজি। সুস্বাদু সবজীগুলোর মধ্যে অন্যতম।

জাত: স্থানীয় জাতের  ছাড়া ঝিংগা উফসী জাতের বারী-১ ও বারী-২ বেশ ভালো। হাইব্রিড জাতের ঝিংগা চাষ করলে ফলন অনেক বেশী পাওয়া যায়। সুপ্রিম সীড, লালতীর, গেটকো, এসিআই, ইয়ং এর হাইব্রিড বীজ গুলো বেশ ভালো।

জমিঃ বাংলাদেশের সব এলাকা ঝিংগা চাষের উপযোগী।দোঁআশ,পলি দো-আশ মাটি ঝিংগা চাষের জন্য বেশী উপযোগী। ঝিংগা চাষের জন্য মাটির কাঙ্কিত মান  পি এইচ ৫.৫ থেকে ৬.৭ এবং তাপমাত্রা ২৫সেঃ থেকে ৩০0 সেঃ।

বীজ বপনের সময়ঃ পৌষ ও মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই ঝিংগা চাষ করা যায়।তবে ফাল্গুন-চৈত্র মাস ঝিংগা বপনের উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমানঃ প্রতি শতাংশে ১০-১৫ গ্রাম এবং প্রতি একরে ১.২৫ কেজি থেকে ১.৫০ কেজি। তবে চারা শেডে(পলি ব্যাগে) তৈরী করলে বীজের পরিমান অনেক কম লাগে

বীজ বপন পদ্ধতিঃ করলার বীজ সরাসরি বেডে বপন করা যায়। তবে শেডে চারা তৈরী করলে উৎপাদন খরচ কম হয়। বীজ বপনের পূর্বে বীজ রোদে  ১-২ ঘন্টা  রেখে ঠান্ডা করার পর ১২-১৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুততর হয়।সারি থেকে সারি ৫ ফুট এবং চারা থেকে চারার দুরত্ব ৩ ফুট। নিদৃষ্ট দুরত্বে ২টি বীজ বপন করতে হবে।চারা একটু বড় হলে সুস্থ একটি চারা রেখে অন্যটি তুলে ফেলতে হবে।

প্যাকেট এর চারা হলে চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা (চারার বয়স ১৫-২০ দিন) হলে নিদৃষ্ট দুরত্বে একটি সবল চারা রোপন করতে হবে।

জেনে নিন>>  আমের রোগ বালাই ও প্রতিকার

তৈরী সার প্রয়োগঃভালো ভাবে জমি চাষ করে রোদে শুকানোর সোর প্রয়োগ করতে হবে।

(প্রতি শতাংশে সার প্রয়োগ)

সার জমি তৈরীর সময় শেষ চাষের সময় প্রথম উপরী প্রয়োগ ২য় উপরী প্রয়োগ ৩য় উপরী প্রয়োগ
গোবর ৫০ কেজি
ইউরিয়া ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
টিএসপি ৮০০ গ্রাম
এমওপি ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
জিপসাম ৪০০ গ্রাম
জিংক ৫০ গ্রাম
বোরণ ৫০ গ্রাম

গাছের আকার ভালো না হলে ২য় ও ৩য় উপরী সার প্রয়োগের সময় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ডিএপি প্রয়োগ করতে হবে।

সংগ্রহ ফলনঃ বীজ বপনের ৬০-৭০ দিন পর ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।প্রতি একরে প্রায় ১১-১২ টন করলা পাওয়া যায়।

পোকামাকড় বলাই দমনঃ ঝিংগা চারা গজানোর পর থেকে নিয়মিত ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। ঝিংগা পোকা দ্বারা আক্রান্ত হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হরে।

ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত বালাই নাশক ব্যবহার ছত্রাক দ্বারা সহজে আক্রান্ত হবে না।ফলের সাইজ ছোট ও ফলন কম হলে সলুবর বোরণ ও  জৈব উদ্দীপক হরমোন( জিবরেলিক এসিড, নাইট্রো বেনজিন ইত্যাদি) ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে।

পরবর্তী পরিচর্যাঃ চারা মাঁচায় উঠার পযর্ন্ত পার্শ্ব কুশি ও মরা পাতা ছাঁটাই করতে হবে।নিড়ানী দিয়ে হবে।প্রয়োজনে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

আগাছা দমন করতে হবে।মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

Facebook Comments Box