ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধ-অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই: তথ্যমন্ত্রী ১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে: আবিদ বিশ্ব বাণিজ্যকে ফের ঔপনিবেশিক মডেলে ফেরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: রেহমান সোবহান বিশ্বের রাজনীতিতে বাড়ছে এআই ব্যবহারের প্রবণতা মাদকব্যবসায়ীর মুক্তির দাবিতে এসপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, আটক ১০ বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসন্ন: আলী রীয়াজ বিএনপি টাকা নিয়ে আ.লীগকে মিছিলের সুযোগ দিচ্ছে: এটিএম আজহারুল গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: ৬৭ শ্রমিক উদ্ধার আমরা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

কুড়িগ্রাম-১ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে সরব: বিএনপি ও জাপার একক প্রার্থী 

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩ ৪৫৯ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম-১ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে সরব: বিএনপি ও জাপার একক প্রার্থী 

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রাম-১ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে সরব বিএনপি ও জাপার একক প্রার্থী।

 আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনটি ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় আওয়ামী লীগ। আর হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া জাপা। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনের ভোটারদের মধ্যে চলছে ব্যাপক নির্বাচনী আলোচনা ও ভোটের হিসাব নিকাশ। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও সমমনা দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশিরা জনসংযোগে অব্যাহত।

অনেক প্রার্থী নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও দলীয় জনসভায় অংশ গ্রহণ করে জনসমর্থন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশপাশি বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করে উর্ধ্বতন নেতাদের দৃষ্টি আর্কষনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর অধিকাংশ নেতাকর্মী মামলা হামলার কারণে আত্মগোপনে রয়েছে। যারা আছে তারাও মামলার ভয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

স্বাধীনতার পর এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলেই ছিল। তবে ৩য় সংসদ নির্বাচন থেকে দশম সংসদ পর্যন্ত (৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদের ১৫ ফ্রেব্রুয়ারীর নির্বাচন ছাড়া) ছিলো জাপার দখলে। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে উন্মুক্ত (জোটগতভাবে নয়) নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করে। 

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে সরব থাকলেও বিএনপি ও জাপার একক প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আসলাম হোসেন সওদাগর ছাড়াও দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, নাগেশ্বরী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মাজু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-সম্পাদক ডা. মাহফুজার রহমান উজ্জ্বল। 

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সম্পাদক ও সাবেক এমপি সাইফুর রহমান রানা, জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪বার নির্বাচিত সাবেক এমপি একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাকের পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই মাস্টার। 

কুড়িগ্রাম-১ আসন নাগেশ্বরী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ভূরুঙ্গামারীর কয়েকজন ভোটারে সাথে আলাপকালে জানান,  এ আসনে এবার জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে দুই উপজেলার উন্নয়ন বৈষম্য। 

নাগেশ্বরী উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। নাগেশ্বরীতে পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, মডেল মসজিদ, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম, রাস্তা-ঘাট নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হলেও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এসবের কোনটিই হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জনপ্রতিনিধি জানান, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের ১ম পর্যায়ের জন্য এই আসনে জাতীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ ছিল কাবিটা-১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, কাবিখা চাল-৬৩ মেট্রিক টন, কাবিখা গম ৬৩ মেট্রিক টন, টি. আর-১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যার মধ্যে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র টিআর-এর ৩০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

 তিনি জানান, বিগত অর্থ বছর গুলোতেও বরাদ্দে প্রায় একই রকম বৈষম্য ছিলো। এসব কারণে স্থানীয় ভোটার ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। এছাড়া কচাকাটা থানাকে উপজেলা করা ঐ এলাকার গণমানুষের দাবী হলেও তার কোন অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় জনমনে রয়েছে ক্ষোভ।

এ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত‍্যাশী থাকায় দলের অভ‍্যন্তরে রয়েছে কোন্দল ও গ্রুপিং। দলীয় কোন্দল আর একাধিক প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগ অনেকটাই অগোছালো। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় দলটির স্থানীয় কিছু নেতার ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের অনেকেই তাদের ওপর বেশ নাখোশ। যার প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির স্থানীয় ত্যাগী নেতারা।

এছাড়া জেলা পর্যায়ে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে রয়েছে প্রকাশ্য অর্ন্তদ্বন্ধ। যা উপজেলা গুলোতেও বিস্তার লাভ করছে।

 দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি ধরে রাখার চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ, অপরদিকে হারানো মসনদ ফিরে পেতে মরিয়া জাপা।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রাম-১ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে সরব: বিএনপি ও জাপার একক প্রার্থী 

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩

কুড়িগ্রাম-১ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে সরব বিএনপি ও জাপার একক প্রার্থী।

 আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনটি ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় আওয়ামী লীগ। আর হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া জাপা। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনের ভোটারদের মধ্যে চলছে ব্যাপক নির্বাচনী আলোচনা ও ভোটের হিসাব নিকাশ। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও সমমনা দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশিরা জনসংযোগে অব্যাহত।

অনেক প্রার্থী নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও দলীয় জনসভায় অংশ গ্রহণ করে জনসমর্থন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশপাশি বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করে উর্ধ্বতন নেতাদের দৃষ্টি আর্কষনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর অধিকাংশ নেতাকর্মী মামলা হামলার কারণে আত্মগোপনে রয়েছে। যারা আছে তারাও মামলার ভয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

স্বাধীনতার পর এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলেই ছিল। তবে ৩য় সংসদ নির্বাচন থেকে দশম সংসদ পর্যন্ত (৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদের ১৫ ফ্রেব্রুয়ারীর নির্বাচন ছাড়া) ছিলো জাপার দখলে। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে উন্মুক্ত (জোটগতভাবে নয়) নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করে। 

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে সরব থাকলেও বিএনপি ও জাপার একক প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আসলাম হোসেন সওদাগর ছাড়াও দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, নাগেশ্বরী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মাজু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-সম্পাদক ডা. মাহফুজার রহমান উজ্জ্বল। 

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সম্পাদক ও সাবেক এমপি সাইফুর রহমান রানা, জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪বার নির্বাচিত সাবেক এমপি একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাকের পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই মাস্টার। 

কুড়িগ্রাম-১ আসন নাগেশ্বরী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ভূরুঙ্গামারীর কয়েকজন ভোটারে সাথে আলাপকালে জানান,  এ আসনে এবার জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে দুই উপজেলার উন্নয়ন বৈষম্য। 

নাগেশ্বরী উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। নাগেশ্বরীতে পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, মডেল মসজিদ, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম, রাস্তা-ঘাট নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হলেও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এসবের কোনটিই হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জনপ্রতিনিধি জানান, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের ১ম পর্যায়ের জন্য এই আসনে জাতীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ ছিল কাবিটা-১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, কাবিখা চাল-৬৩ মেট্রিক টন, কাবিখা গম ৬৩ মেট্রিক টন, টি. আর-১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যার মধ্যে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র টিআর-এর ৩০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

 তিনি জানান, বিগত অর্থ বছর গুলোতেও বরাদ্দে প্রায় একই রকম বৈষম্য ছিলো। এসব কারণে স্থানীয় ভোটার ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। এছাড়া কচাকাটা থানাকে উপজেলা করা ঐ এলাকার গণমানুষের দাবী হলেও তার কোন অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় জনমনে রয়েছে ক্ষোভ।

এ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত‍্যাশী থাকায় দলের অভ‍্যন্তরে রয়েছে কোন্দল ও গ্রুপিং। দলীয় কোন্দল আর একাধিক প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগ অনেকটাই অগোছালো। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় দলটির স্থানীয় কিছু নেতার ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের অনেকেই তাদের ওপর বেশ নাখোশ। যার প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির স্থানীয় ত্যাগী নেতারা।

এছাড়া জেলা পর্যায়ে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে রয়েছে প্রকাশ্য অর্ন্তদ্বন্ধ। যা উপজেলা গুলোতেও বিস্তার লাভ করছে।

 দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি ধরে রাখার চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ, অপরদিকে হারানো মসনদ ফিরে পেতে মরিয়া জাপা।

 

Facebook Comments Box