ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: সৌদি ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র লালমনিরহাটে জমির বিরোধ মিমাংসার নামে  নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের জেরে যুবককে নিরাপত্তা ঘটনায়, হাসপাতালে আবার বাড়ল এলপিজির দাম, আজ থেকেই কার্যকর পূজায় গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার রাণীশংকৈলে বিষাক্ত ট্যাবলেট খেয়ে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীর মৃত্যু বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রমে আইনি বাধা কাটল নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ সরকারের প্রয়োজন নেই: শফিকুর রহমান শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা: ইয়াশের কোল থেকে দুইবার পড়লেন নীহা ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না: এম জে আকবর

নওগাঁ বলিহার ইউপিতে মাখনা গ্রামে যৌতুকের দায়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে যখন করার অভিযোগ

মান্দা (নওগাঁ ) থেকে আমজাদ হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৩০৯ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁ বলিহার ইউপিতে মাখনা গ্রামে যৌতুকের দায়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে যখন করার অভিযোগ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁ বলিহার ইউপিতে মাখনা গ্রামে যৌতুকের দায়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে যখন করার অভিযোগ

সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে অমানুষিক ভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর তার স্বামী, শ্বশুর ও দুই ননদ মিলে দুই হাত রশিতে বেঁধে তাকে বেধড়ক মারধর করেছেন।

গত শনিবার দুপুরে ইউনিয়নের মাখনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গ্রামের লোকজন ঘটনা দেখতে পেয়ে তাদের হাত থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। তার বাবা কে ফোনে জানায় ঘটনাস্থলে তার বাবা উপস্থিত হয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম মাহফুজা বেগম (৩৫)। তার স্বামীর নাম মোঃ মামুন সরদার (৩৯), শ্বশুর সাওার সরদার এবং দুই ননদ মোছাঃ মাহমুদা (৩০)ও মোছাঃ পরি (৩৩)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে শনিবার রাতে ভীমপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নওগাঁয় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, তার ২০ বছরের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। গত দুই বছর থেকে তার স্বামী মামুন সরদার কোন কাজ কর্ম করেন না বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসতে বলে ভুক্তভোগীর স্বামী। তার বাবা একবার দোকান করার জন্য ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিল দোকানও বেঁচে খেয়ে ফেলেছে।

আবার ওর দোকান করবে বলে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকার দাবি করে। তার শ্বশুর-শাশুড়ি, চাচা শ্বশুর ও ননদীরা ও অশ্লীল কথাবার্তা সহ লাঞ্ছিত করে টাকা দিতে অস্বীকার করলে এরপর থেকে তার ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকে।

এর জের ধরে গত তিন-চার দিন থেকে তাকে ধারাবাহিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। শনিবার স্বামী, শ্বশুর ও ননদীরা মিলে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে তার দুই হাত বেঁধে মারতে থাকে
এবং নাক ফুল জুর করে খুলে নেই তার স্বামী এবং ডান হাতে ও পায়ে লোহার রড দিয়ে থেতলিয়ে রক্তাক্ত ও মাথায় প্রচুর আঘাত করে ।

মাহফুজা বলেন, ‘আমার স্বামী প্রতিনিয়ত আমাকে বলে তোর বাবার বাড়ি থেকে কিছু টাকা এনে দে সে টাকা দিয়ে আমি ব্যবসা করব কিন্তু আমার বাবা তথ্য গরিব মানুষ হওয়ায় বাবাকে ওইভাবে টাকার কথা বলতে পারি না, সেই কারণে প্রতিনিয়তই আমাকে সামান্য বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় আমাকে মারধর করে, আমার স্বামীর কথার সায় দিয়ে, আমার শ্বশুর ও ননদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও করে, ও পেটাতে থাকেন । পশুকেও এমন নির্যাতন করে না কেউ। আমি এই নির্যাতনের বিচার চাই।’

স্ত্রীকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মামুন সরদার তবে তার দাবি, তিনি নিজে স্ত্রীকে পেটালেও তার বাবা ও ননদী স্পর্শ করেননি।তবে আমার পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করতে থাকতো এজন্য তাকে আমি মেরেছি এটা সবাই জানে, এতে আমার জেল ফাঁসি যাই হয়, হোক।

এ বিষয়ে ভিমপুর তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুর আলম জানান, একটা অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনা সত্যতা যাচাই করে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নওগাঁ বলিহার ইউপিতে মাখনা গ্রামে যৌতুকের দায়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে যখন করার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নওগাঁ বলিহার ইউপিতে মাখনা গ্রামে যৌতুকের দায়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে যখন করার অভিযোগ

সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে অমানুষিক ভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর তার স্বামী, শ্বশুর ও দুই ননদ মিলে দুই হাত রশিতে বেঁধে তাকে বেধড়ক মারধর করেছেন।

গত শনিবার দুপুরে ইউনিয়নের মাখনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গ্রামের লোকজন ঘটনা দেখতে পেয়ে তাদের হাত থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। তার বাবা কে ফোনে জানায় ঘটনাস্থলে তার বাবা উপস্থিত হয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম মাহফুজা বেগম (৩৫)। তার স্বামীর নাম মোঃ মামুন সরদার (৩৯), শ্বশুর সাওার সরদার এবং দুই ননদ মোছাঃ মাহমুদা (৩০)ও মোছাঃ পরি (৩৩)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে শনিবার রাতে ভীমপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নওগাঁয় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, তার ২০ বছরের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। গত দুই বছর থেকে তার স্বামী মামুন সরদার কোন কাজ কর্ম করেন না বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসতে বলে ভুক্তভোগীর স্বামী। তার বাবা একবার দোকান করার জন্য ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিল দোকানও বেঁচে খেয়ে ফেলেছে।

আবার ওর দোকান করবে বলে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকার দাবি করে। তার শ্বশুর-শাশুড়ি, চাচা শ্বশুর ও ননদীরা ও অশ্লীল কথাবার্তা সহ লাঞ্ছিত করে টাকা দিতে অস্বীকার করলে এরপর থেকে তার ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকে।

এর জের ধরে গত তিন-চার দিন থেকে তাকে ধারাবাহিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। শনিবার স্বামী, শ্বশুর ও ননদীরা মিলে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে তার দুই হাত বেঁধে মারতে থাকে
এবং নাক ফুল জুর করে খুলে নেই তার স্বামী এবং ডান হাতে ও পায়ে লোহার রড দিয়ে থেতলিয়ে রক্তাক্ত ও মাথায় প্রচুর আঘাত করে ।

মাহফুজা বলেন, ‘আমার স্বামী প্রতিনিয়ত আমাকে বলে তোর বাবার বাড়ি থেকে কিছু টাকা এনে দে সে টাকা দিয়ে আমি ব্যবসা করব কিন্তু আমার বাবা তথ্য গরিব মানুষ হওয়ায় বাবাকে ওইভাবে টাকার কথা বলতে পারি না, সেই কারণে প্রতিনিয়তই আমাকে সামান্য বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় আমাকে মারধর করে, আমার স্বামীর কথার সায় দিয়ে, আমার শ্বশুর ও ননদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও করে, ও পেটাতে থাকেন । পশুকেও এমন নির্যাতন করে না কেউ। আমি এই নির্যাতনের বিচার চাই।’

স্ত্রীকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মামুন সরদার তবে তার দাবি, তিনি নিজে স্ত্রীকে পেটালেও তার বাবা ও ননদী স্পর্শ করেননি।তবে আমার পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ করতে থাকতো এজন্য তাকে আমি মেরেছি এটা সবাই জানে, এতে আমার জেল ফাঁসি যাই হয়, হোক।

এ বিষয়ে ভিমপুর তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুর আলম জানান, একটা অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনা সত্যতা যাচাই করে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Facebook Comments Box