রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার কি কিলিং মিশনের পরবর্তী টার্গেট?
- আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৩৪০ বার পড়া হয়েছে
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার কি কিলিং মিশনের পরবর্তী টার্গেট?
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার কি কিলিং মিশনের পরবর্তী টার্গেট?
জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী সময়ে বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে হুমকি, ভয়ভীতি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে একাধিক উস্কানিমূলক ফেসবুক পোস্ট এবং প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কায় পড়েছেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার।
গত ১১ নভেম্বর আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে জুলাই বিপ্লবের কয়েকজন সক্রিয় কর্মীর নাম উল্লেখ করে ‘পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়। ওই পোস্টে ওসমান হাদির নামের পাশাপাশি সালাহউদ্দিন আম্মারের নামও উল্লেখ ছিল। এর পরপরই ওসমান হাদির ওপর ভয়াবহ হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—কিলিং মিশনের পরবর্তী টার্গেট কি সালাহউদ্দিন আম্মার?
পড়ুন>>ওসমান হাদির উপর হামলাকারীদের শনাক্ত করেছে ডিএমপি
সালাহউদ্দিন আম্মার জানিয়েছেন, তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নম্বর ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে নিয়মিত হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
আমার দেশকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,
“প্রতিদিন শতশত ম্যাসেজ ও কল পাচ্ছি। হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আব্বু-আম্মুর ছবি পাঠিয়েও ভয় দেখানো হয়। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। তবে বিন্দুমাত্র ভীত নই। এখনো আমার নম্বর পরিবর্তন করিনি। এই শতশত হুমকির মাঝেও হাজার হাজার মানুষ আমাকে নিয়ে শঙ্কিত—এটাই আমার জীবনের বড় পাওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা লড়ব ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, লড়ব ইনসাফের পক্ষে। লড়ব, না হয় মরব—পিছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহর জান আল্লাহ নেবেন। আমার কিছু হলে আপনারা আমার আব্বু-আম্মুর দিকে তাকাবেন। হাদি ভাইয়ের ১০ মাসের সন্তান আছে, আর আমি রেখে যাব দুটি বৃদ্ধ সন্তান।”
এর আগেও আন্দোলন চলাকালে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন আম্মার। তার দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও সাবেক রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে সার্ফ শুটার ভাড়া করেছিলেন।
পড়ুন>> আতঙ্কমুক্ত নির্বাচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুলা-হিল-গালিব গতকাল ফেসবুকে একটি বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি সালাহউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ করে লেখেন— “দয়া করে আমার ক্যাম্পাসের টাকে কেউ কিছু করবেন না। ওইটা শুধু আমার আর আমার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ভাগ। ছোটভাই প্রটেকশন বাড়াও। ৮০ সিসি বাইক নিয়ে একা একা ঘুরাঘুরি করো না। যমুনার আগে ও পরে একটা কিছু হলেও হতে পারে। আমি চাই তুমি বেঁচে থাকো, অনেক হিসাব আছে।”
এ ছাড়া ‘ড্যাল্টন সৌভত হীরা’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত ৯ নভেম্বর দেওয়া আরেকটি পোস্টেও প্রকাশ্য উস্কানি দেওয়া হয়। সেখানে ১৩ তারিখের মধ্যে “কিছু মানুষের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার” কথা উল্লেখ করে ওসমান হাদি, সালাহউদ্দিন আম্মারসহ আরও কয়েকজনের নাম লেখা হয়।

ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবীদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন,“বিপ্লব–পরবর্তী সময়ে বিপ্লবীরা ধারাবাহিকভাবে হুমকি ও হামলার শিকার হচ্ছেন। সরকারের জরুরি পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়বে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।”
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিপ্লবী নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তথ্য সুত্র ও ছবি
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























