ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০২২ ৭৯৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের যে সব বিল, ঢোবা, হাওড় বছরের ৬-৭ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে।  চাষাবাদের সুযোগ নেই। সেখানে পানির উপরে ভাসমান অবস্থায় কচুরিপানার সাহায্যে বেড তৈরি করে চাষাবাদের প্রক্রিয়াকে ভাসমান বেডে সবজি চাষ বলা হয়।

কৃষি জমি ক্রমাগত কমছে। বাড়ছে জনসংখ্যা সঙ্গে বাড়ছে বেঁচে থাকার জন্য মোট খাদ্যের পরিমান। এ পরিস্থিতিতে পুষ্টি উৎপাদনের জন্য নানান পদ্ধতি আবিস্কার করেই চলেছেন বিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় চাষাবাদ অনন্য রুপ লাভ করছে। তেমনিই একটি চাষাবাদ পদ্ধতি ভাসমান সবজি চাষ। বাড়ির পাশের ডোবায় ভাসমান বেড করে সবজি চাষ করতে পারেন। পড়ুন>>রসুনের পরিচিতি ও চাষ পদ্ধতি (Garlic cultivation)

নভেম্বর-ডিসেম্বরে যেসব সবজি ও ফসল চাষ করা হয় সে ফসল গুলো চাষ খুব সহজেই ভাসমান বেডে চাষ করা যায়।

ভাসমান বেড প্রস্তুতি উপকারিতা:
১. বর্ষা মৌসুমে সবজির সরবরাহ বাড়াতে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে।
২. পরিবেশ বান্ধব সবজি ও মসলা উৎপাদন করতে এবং
৩. জলাবদ্ধ এলাকায় সুষম খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে; জেনে নিন>>মাটি ছাড়া ছাদে কিংবা পুকুরে সবজি চাষ

 

৪. খাদ্য নিরাপত্তার কারণে কৃষক ধান চাষকে প্রাধান্য দিচ্ছে;
৫. দেশে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাষের জমি কমছে।

ভাসমান বেডে ফসল উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তাঃ
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা ক্রমাগত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

 

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঝুঁকি মোকাবেলা করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষিকে খাপ খেয়ে নিতে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ প্রযুক্তি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় উদ্যোগ

 

 

ভাসমান বেড তৈরি:
ভাসমান বেড তৈরির জন্য পানির গভীরতা মূখ্য বিষয় নয়। যে কোন গভীরতায় ভাসমান বেড তৈরি করা যায়। পানির গভীরতা কম হলে পানিতে দাঁড়িয়ে পাশ থেকে কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ আগাছা সংগ্রহ করে বেড তৈরি করতে হয়।

 

পানির গভীরতা বেশি হলে নির্বাচিত ঘন কচুরিপানার উপরে বাঁশ ফেলতে হয়। এরপর বাঁশের উপর দাঁড়িয়ে বাঁশের চারপাশ থেকে কচুরিপানা টেনে এনে জড়ো করে ভাসমান বেড তৈরি করতে হয়।

বেড তৈরি শেষে বাঁশ বের করে নেয়া যায়। তবে ভাসমান বেডকে শক্তিশালী করা এবং ভেসে থাকার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাঁশ রেখে দেয়া ভাল।

ভাসমান বেডের পুরুত্ব ও আকার হবে- দৈর্ঘ্য ২০মিটার, প্রস্থ ১.৫ মিটার ও পুরুত্ব ২.৫ মিটার (১ম কাঁচা অবস্থায়)।

পুরুত্ব কম হলে ফসল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পায় না এবং বেড সব সময় আর্দ্রভাব থাকবে ফলে ফসলের বৃদ্ধি সঠিক ভাবে হয় না, গাছ মারাও যেতে পারে। বেড তৈরির ২/৩ অংশ শেষ হলে উপরের দিকের ১/৩ অংশের কচুরিপানার শিকড় উপরের দিকে এবং কান্ডগুলো নিচের দিক করে আস্তে আস্তে প্রস্থ থেকে দৈর্ঘ্যরে বরাবরে সাজাতে হবে।

বেডের উপরের ১/৩ অংশে অপেক্ষাকৃত ছোট কচুরিপানা দিতে হবে। এভাবে কচুরিপানা স্তুপ করে প্রয়োজনীয় মাপ অনুযায়ী বেড তৈরি করতে হয়।

 

প্রাথমিক ভাবে ১ (এক) বর্গমিটারের একটি ছোট বেড (ধাপ) তৈরি করতে হবে। বেডের চার পাশে আরো কচুরিপানা দিয়ে স্তুপ করতে হবে যাতে স্তুপের উপরে অন্ততঃ একজন মানুষ উঠে দাঁড়াতে পারে।

এরপরে চারপাশ থেকে আরো কচুরিপানা লাঠি দিয়ে টেনে টেনে স্তুপের উপর এবং পাশে ফেলতে হবে। বেডের স্থায়িত্ব নির্ভর করে ১ম স্তরের উপর। বেডের ১ম স্তরে যদি ঘন, লম্বা ও পুরু কচুরিপানা ব্যবহার করা হয় তাহলে বেডের স্থায়িত্ব বেশি হয়। ভাসমান বেডের নিচের দিকে লম্বা ও বড় আকারের কচুরিপানা দিতে হয়।

পানিতে ভেসে থাকা প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো কচুরিপানার স্তর যেখানে ঘন, লম্বা ও পুরু এমন জায়গা বেছে নিতে হবে।

পানির উপরের কচুরিপানার প্রাকৃতিক স্তর নষ্ট করা যাবে না। কচুরিপানার প্রাকৃতিক স্তর নষ্ট করা হলে স্তর সাজানোর সময় স্তর একটু মোটা হলেই বা উপর থেকে চাপ দিলে নীচের দিক থেকে কচুরিপানা বের হয়ে আসবেতবে কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বেড তৈরি করলে বেশি ভাল হয়।

এ ছাড়া আখের ছোবড়া, টোপাপানা ধানের খড় বা ফসলের অবশিষ্টাংশ, বিভিন্ন ধরণের জলজ আগাছা, শেওলা ব্যবহার করেও ভাসমান বেড তৈরি করা যায়। জলাবদ্ধ এলাকা যেখানে বছরের ৬-৭ মাস বা আরো বেশি সময় পানি থাকার কারণে সমতল ভূমির ন্যায় ফসল চাষ করা যায় না।

এসব জলমগ্ন এলাকাগুলো যেখানে কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ আগাছায় আচ্ছন্ন থাকে সেখানে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে স্তুপ করে প্রয়োজনীয় মাপের ভেলার মত বেড তৈরি করে ভাসমান পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন ধরণের সবজি ও মসলা উৎপাদন করা যায়।

 

ভাসমান বেড তৈরির প্রধান উপকরণ কচুরিপানা। এছাড়া তথ্য সুত্র:কৃষি বাতায়ন

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ

আপডেট সময় : ১০:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০২২

দেশের যে সব বিল, ঢোবা, হাওড় বছরের ৬-৭ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে।  চাষাবাদের সুযোগ নেই। সেখানে পানির উপরে ভাসমান অবস্থায় কচুরিপানার সাহায্যে বেড তৈরি করে চাষাবাদের প্রক্রিয়াকে ভাসমান বেডে সবজি চাষ বলা হয়।

কৃষি জমি ক্রমাগত কমছে। বাড়ছে জনসংখ্যা সঙ্গে বাড়ছে বেঁচে থাকার জন্য মোট খাদ্যের পরিমান। এ পরিস্থিতিতে পুষ্টি উৎপাদনের জন্য নানান পদ্ধতি আবিস্কার করেই চলেছেন বিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় চাষাবাদ অনন্য রুপ লাভ করছে। তেমনিই একটি চাষাবাদ পদ্ধতি ভাসমান সবজি চাষ। বাড়ির পাশের ডোবায় ভাসমান বেড করে সবজি চাষ করতে পারেন। পড়ুন>>রসুনের পরিচিতি ও চাষ পদ্ধতি (Garlic cultivation)

নভেম্বর-ডিসেম্বরে যেসব সবজি ও ফসল চাষ করা হয় সে ফসল গুলো চাষ খুব সহজেই ভাসমান বেডে চাষ করা যায়।

ভাসমান বেড প্রস্তুতি উপকারিতা:
১. বর্ষা মৌসুমে সবজির সরবরাহ বাড়াতে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে।
২. পরিবেশ বান্ধব সবজি ও মসলা উৎপাদন করতে এবং
৩. জলাবদ্ধ এলাকায় সুষম খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে; জেনে নিন>>মাটি ছাড়া ছাদে কিংবা পুকুরে সবজি চাষ

 

৪. খাদ্য নিরাপত্তার কারণে কৃষক ধান চাষকে প্রাধান্য দিচ্ছে;
৫. দেশে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাষের জমি কমছে।

ভাসমান বেডে ফসল উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তাঃ
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা ক্রমাগত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

 

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঝুঁকি মোকাবেলা করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষিকে খাপ খেয়ে নিতে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ প্রযুক্তি কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় উদ্যোগ

 

 

ভাসমান বেড তৈরি:
ভাসমান বেড তৈরির জন্য পানির গভীরতা মূখ্য বিষয় নয়। যে কোন গভীরতায় ভাসমান বেড তৈরি করা যায়। পানির গভীরতা কম হলে পানিতে দাঁড়িয়ে পাশ থেকে কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ আগাছা সংগ্রহ করে বেড তৈরি করতে হয়।

 

পানির গভীরতা বেশি হলে নির্বাচিত ঘন কচুরিপানার উপরে বাঁশ ফেলতে হয়। এরপর বাঁশের উপর দাঁড়িয়ে বাঁশের চারপাশ থেকে কচুরিপানা টেনে এনে জড়ো করে ভাসমান বেড তৈরি করতে হয়।

বেড তৈরি শেষে বাঁশ বের করে নেয়া যায়। তবে ভাসমান বেডকে শক্তিশালী করা এবং ভেসে থাকার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাঁশ রেখে দেয়া ভাল।

ভাসমান বেডের পুরুত্ব ও আকার হবে- দৈর্ঘ্য ২০মিটার, প্রস্থ ১.৫ মিটার ও পুরুত্ব ২.৫ মিটার (১ম কাঁচা অবস্থায়)।

পুরুত্ব কম হলে ফসল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পায় না এবং বেড সব সময় আর্দ্রভাব থাকবে ফলে ফসলের বৃদ্ধি সঠিক ভাবে হয় না, গাছ মারাও যেতে পারে। বেড তৈরির ২/৩ অংশ শেষ হলে উপরের দিকের ১/৩ অংশের কচুরিপানার শিকড় উপরের দিকে এবং কান্ডগুলো নিচের দিক করে আস্তে আস্তে প্রস্থ থেকে দৈর্ঘ্যরে বরাবরে সাজাতে হবে।

বেডের উপরের ১/৩ অংশে অপেক্ষাকৃত ছোট কচুরিপানা দিতে হবে। এভাবে কচুরিপানা স্তুপ করে প্রয়োজনীয় মাপ অনুযায়ী বেড তৈরি করতে হয়।

 

প্রাথমিক ভাবে ১ (এক) বর্গমিটারের একটি ছোট বেড (ধাপ) তৈরি করতে হবে। বেডের চার পাশে আরো কচুরিপানা দিয়ে স্তুপ করতে হবে যাতে স্তুপের উপরে অন্ততঃ একজন মানুষ উঠে দাঁড়াতে পারে।

এরপরে চারপাশ থেকে আরো কচুরিপানা লাঠি দিয়ে টেনে টেনে স্তুপের উপর এবং পাশে ফেলতে হবে। বেডের স্থায়িত্ব নির্ভর করে ১ম স্তরের উপর। বেডের ১ম স্তরে যদি ঘন, লম্বা ও পুরু কচুরিপানা ব্যবহার করা হয় তাহলে বেডের স্থায়িত্ব বেশি হয়। ভাসমান বেডের নিচের দিকে লম্বা ও বড় আকারের কচুরিপানা দিতে হয়।

পানিতে ভেসে থাকা প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো কচুরিপানার স্তর যেখানে ঘন, লম্বা ও পুরু এমন জায়গা বেছে নিতে হবে।

পানির উপরের কচুরিপানার প্রাকৃতিক স্তর নষ্ট করা যাবে না। কচুরিপানার প্রাকৃতিক স্তর নষ্ট করা হলে স্তর সাজানোর সময় স্তর একটু মোটা হলেই বা উপর থেকে চাপ দিলে নীচের দিক থেকে কচুরিপানা বের হয়ে আসবেতবে কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বেড তৈরি করলে বেশি ভাল হয়।

এ ছাড়া আখের ছোবড়া, টোপাপানা ধানের খড় বা ফসলের অবশিষ্টাংশ, বিভিন্ন ধরণের জলজ আগাছা, শেওলা ব্যবহার করেও ভাসমান বেড তৈরি করা যায়। জলাবদ্ধ এলাকা যেখানে বছরের ৬-৭ মাস বা আরো বেশি সময় পানি থাকার কারণে সমতল ভূমির ন্যায় ফসল চাষ করা যায় না।

এসব জলমগ্ন এলাকাগুলো যেখানে কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ আগাছায় আচ্ছন্ন থাকে সেখানে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে স্তুপ করে প্রয়োজনীয় মাপের ভেলার মত বেড তৈরি করে ভাসমান পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন ধরণের সবজি ও মসলা উৎপাদন করা যায়।

 

ভাসমান বেড তৈরির প্রধান উপকরণ কচুরিপানা। এছাড়া তথ্য সুত্র:কৃষি বাতায়ন

 

Facebook Comments Box