বিয়ের চাপ সইতে না পেরে যুবকের আত্মবিধ্বংসী সিদ্ধান্তে চাঞ্চল্য: পাবনায় ভয়াবহ ঘটনা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
বিয়ের চাপ সইতে না পেরে যুবকের আত্মবিধ্বংসী সিদ্ধান্তে চাঞ্চল্য: পাবনায় ভয়াবহ ঘটনা
বিয়ের জন্য পারিবারিক চাপ সইতে না পেরে পাবনার বেড়ায় নাজমুল (২২) নামের এক যুবক নিজের পুরুষাঙ্গ ও দুটি অন্ডকোষ ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলেছেন।
বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার কৈটলা ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নাজমুল হোসেন স্থানীয় মিন্টু মোল্লার ছেলে এবং পেশায় একজন ভেকু চালক। পরিবারের চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার বড় বোন বিবাহিত হলেও ছোট দুই বোন এখনো অবিবাহিত।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবার থেকে মাঝে মধ্যেই তাকে বিয়ের জন্য বলা হতো, কিন্তু তিনি বারবার আপত্তি জানাতেন। ঘটনার দিন দুপুরে আবারও বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি বাজার থেকে ব্লেড কিনে আনেন এবং বাথরুমে গিয়ে নিজেই নিজের লিঙ্গ ও দুটি অন্ডকোষ কেটে ফেলেন।
পড়ুন>>কাউনিয়ায় জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যু নিবন্ধনে টিডিপি সদস্যদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়
পরবর্তীতে তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ধরনের অপারেশনে প্রথম ছয় ঘণ্টার মধ্যেই কাটা অঙ্গ জোড়া লাগানো সম্ভব হয়। কিন্তু সময়মতো অস্ত্রোপচার না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে নাজমুলকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে কৈটলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রফিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ছেলেটিকে প্রথমে ঢাকায় নেওয়া হলেও পুলিশ কেস হওয়ায় ভর্তি নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে ভর্তি নেওয়া হলেও ছয় ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় কাটা অঙ্গ জোড়া লাগানো যায়নি।”
পড়ুন>> ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ২শ’ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার: পালিয়েছে মাদক কারবারি
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী দাবি করেছেন, ঘটনার দিন কেউ নাজমুলকে ‘হিজড়া’ বলে কটূক্তি করেছিল। এই অপমানজনিত ক্ষোভ থেকেই হয়তো এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে।
নাজমুলের বাবা জানান, “ছেলের মানসিক সমস্যা ছিল। কিছুদিন আগেও এক ভয়াবহ কিছু দেখে খুব ভয় পেয়েছিল। আমরা তাকে চিকিৎসা করিয়েছি, সে অনেকটা সুস্থও হয়েছিল। কিন্তু কীভাবে এমন করলো বুঝে উঠতে পারছি না।”
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, “নাজমুলের জটিল অস্ত্রোপচার ঢাকা মেডিকেলে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। আমরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি।”
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ















