ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউপি চেয়ারম্যানের যোগ্যতা হওয়া উচিত মাস্টার্স পাস এমন মন্তব্য করেননি ড. ইউনূস

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪ ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

ইউপি চেয়ারম্যানের যোগ্যতা হওয়া উচিত মাস্টার্স পাস এমন মন্তব্য করেননি ড. ইউনূস

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউপি চেয়ারম্যানের যোগ্যতা হওয়া উচিত মাস্টার্স পাস এমন মন্তব্য করেননি ড. ইউনূস

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, বেসামরিক প্রশাসন, জননিরাপত্তা সংস্থা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার কথা বলছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার।

 এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এমন আলোচনার মধ্যেই দেশের অন্তত দুটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ ও যমুনা টিভির সূত্রে ড. ইউনূসের বরাত দিয়ে একটি তথ্য শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ‘এখন থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হতে হলে মাস্টার্স পাস হতে হবে।’

ইউপি চেয়ারম্যান হতে হলে মাস্টার্স পাস আবশ্যক দাবিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে সংবাদমাধ্যমের বরাতে গুজব। ফেসবুক দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে কালের কণ্ঠ ও যমুনা টিভির ওয়েবসাইটে খুঁজে এমন কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলেও এ–সংক্রান্ত কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচিত দাবি–সংক্রান্ত কোনো তথ্য গণমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রেও পাওয়া যায়নি।

প্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড অনুসন্ধানেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিন্ন ভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা–সম্পর্কিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কথিত মন্তব্যটি ভিত্তিহীন।

সময় পেজটির নাম ছিল—ছাত্র অধিকার পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলা। পরে একাধিকবার নাম পরিবর্তন করে ৩ আগস্ট পেজটির নাম রাখা হয় ‘সারজিস আলম’।
আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলমের নামে খোলা পেজ দুটি ভুয়া। ফ্যাক্টচেক বিভাগের বিশ্লেষণএকইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে আসিফ মাহমুদের নামে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে, সেটি খোলা হয় চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওই সময় পেজটির নাম ছিল ‘বিডি নূর’। ৭ আগস্ট পেজটির নামকরণ হয় ‘আসিফ মাহমুদ’।

প্রসঙ্গত, এর আগেও আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলমের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুকে বিভিন্ন গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট করা হয়েছে।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ ৪ আগস্ট নিজের অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, সেটিই তাঁর একমাত্র ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ। তাঁর নামে অন্য কোনো পেজ কিংবা আইডির ঘোষণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একইভাবে সারজিস আলম ৬ আগস্ট তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে গিয়ে জানান, ওই সময়ই তাঁর নামে অন্তত ৫০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যাচ্ছিল। তাঁর এই অ্যাকাউন্ট (লাইভে যাওয়া অ্যাকাউন্টটি) ছাড়া আর কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা পেজ নেই।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইউপি চেয়ারম্যানের যোগ্যতা হওয়া উচিত মাস্টার্স পাস এমন মন্তব্য করেননি ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ১১:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪

ইউপি চেয়ারম্যানের যোগ্যতা হওয়া উচিত মাস্টার্স পাস এমন মন্তব্য করেননি ড. ইউনূস

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, বেসামরিক প্রশাসন, জননিরাপত্তা সংস্থা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার কথা বলছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার।

 এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এমন আলোচনার মধ্যেই দেশের অন্তত দুটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ ও যমুনা টিভির সূত্রে ড. ইউনূসের বরাত দিয়ে একটি তথ্য শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ‘এখন থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হতে হলে মাস্টার্স পাস হতে হবে।’

ইউপি চেয়ারম্যান হতে হলে মাস্টার্স পাস আবশ্যক দাবিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে সংবাদমাধ্যমের বরাতে গুজব। ফেসবুক দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে কালের কণ্ঠ ও যমুনা টিভির ওয়েবসাইটে খুঁজে এমন কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলেও এ–সংক্রান্ত কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচিত দাবি–সংক্রান্ত কোনো তথ্য গণমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রেও পাওয়া যায়নি।

প্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড অনুসন্ধানেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিন্ন ভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা–সম্পর্কিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কথিত মন্তব্যটি ভিত্তিহীন।

সময় পেজটির নাম ছিল—ছাত্র অধিকার পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলা। পরে একাধিকবার নাম পরিবর্তন করে ৩ আগস্ট পেজটির নাম রাখা হয় ‘সারজিস আলম’।
আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলমের নামে খোলা পেজ দুটি ভুয়া। ফ্যাক্টচেক বিভাগের বিশ্লেষণএকইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে আসিফ মাহমুদের নামে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে, সেটি খোলা হয় চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওই সময় পেজটির নাম ছিল ‘বিডি নূর’। ৭ আগস্ট পেজটির নামকরণ হয় ‘আসিফ মাহমুদ’।

প্রসঙ্গত, এর আগেও আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলমের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুকে বিভিন্ন গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট করা হয়েছে।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ ৪ আগস্ট নিজের অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, সেটিই তাঁর একমাত্র ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ। তাঁর নামে অন্য কোনো পেজ কিংবা আইডির ঘোষণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একইভাবে সারজিস আলম ৬ আগস্ট তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে গিয়ে জানান, ওই সময়ই তাঁর নামে অন্তত ৫০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যাচ্ছিল। তাঁর এই অ্যাকাউন্ট (লাইভে যাওয়া অ্যাকাউন্টটি) ছাড়া আর কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা পেজ নেই।

 

Facebook Comments Box