ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্য দ্রুত ফিরবে: বিজিবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার শশীদল সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন বিজিবি পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। শুক্রবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। আটক পুলিশ সদস্যরা সুস্থ রয়েছেন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তের পাহাড় ও জঙ্গলবেষ্টিত দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিজিবি তার দায়িত্ব ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সীমান্ত সুরক্ষা ও অখণ্ডতা রক্ষার কাজ নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ব পালন করতে গেলে এ ধরনের কিছু পরিস্থিতি ঘটতে পারে। সেখানে এই বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্নক সহযোগিতা করছি। আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই আমরা এটা সম্পন্ন করতে পারব আনহার্ম, এটা আমরা সেভাবেই যোগাযোগ রেখেছি। আমাদের যে ঐতিহ্যবাহী বাহিনী এবং আমরা যেভাবে এই দায়িত্ব, রেসপন্সিবিলিটিস পালন করে আসছি, এই প্রক্রিয়াতে এই কার্যক্রমের সাথে এধরনের ইনসিডেন্ট কিন্তু নতুন নয়। তাই আমরা প্রস্তুত থাকি, আমাদের দায়িত্ব পালন করি, পাশাপাশি পেশাগতভাবে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আমরা আমাদের সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে থাকি। যদি আমরা ওভারল একটা স্ট্যাটিস্টিক্স নেই, মোটা দাগে সীমান্তে স্থিতিশীলতা সীমান্তের সুরক্ষা আমরা এখন পর্যন্ত মনে হয় আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি। যে ধরনের চ্যালেঞ্জ আসছে এগুলো আসবে এবং এগুলোকে মোকাবেলা করতে হবে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলোর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও রেকি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাঝে যোগাযোগ সহজ হবে। একটি পুরোনো ছবি, অসম্পূর্ণ ভিডিও কিংবা যাচাই না করা বক্তব্য উদ্বেগ ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। তাই অনুরোধ, সংবেদনশীল কোনো তথ্য প্রচারের আগে সত্যতা যাচাই করুন। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন উদ্বেগ থাকলে আগেই অবহিত করুন। আপনাদের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করুন, পরিবার নিয়ে আনন্দের সঙ্গে উৎসবে অংশ নিন। সকলের সহযোগিতায় পূজার প্রতিটি দিন আপনাদের জন্য শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর থাকবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান আরও বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তসহ সব ধরনের হুমকি মোকাবেলায় বিজিবি পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে বিজিবি ভবিষ্যতে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা, সংযম বজায় রাখা এবং মানুষের সঙ্গে আচরণে সৌজন্য ও সহমর্মিতা দেখানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা বিষয়ে বিজিবি পরিচালক জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা মণ্ডপের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম এলাকার ১৮৩টি মণ্ডপ রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন ও প্রয়োজনে কুইক রেসপন্স ফোর্স পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় ত্বরান্বিত করতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু রাখা হয়েছে। গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে বিজিবি নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে সহায়তা জোরদার করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যথাস্থানে পৌঁছানো যায়।

সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। মাদক প্রতিরোধে এই সময়ে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ১৫ হাজার ৮৮৬ কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন ও ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ১ হাজার ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে বিজিবির দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান রোধে বিজিবির তৎপরতা সম্পর্কে তিনি জানান, একই সময়ে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, ১টি এসএমজি, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন ও ৩ হাজার ২১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র ও চোরাচালানের দায়ে ১ হাজার ৯৫৭ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মানবপাচার প্রতিরোধে ৪২ জনকে উদ্ধার ও ২০ জন পাচারকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। অর্থনীতি ও জনস্বার্থ রক্ষায় কৃষি উপকরণ, জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার রোধেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এ সময় ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং প্রায় ১৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। দেশের স্বার্থ ও মানুষের মর্যাদা সুরক্ষায় বিজিবি তার পেশাদার ভূমিকা পালন করে যাবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। সময়মতো পাওয়া একটি তথ্যও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্য দ্রুত ফিরবে: বিজিবি

আপডেট সময় : ০১:৩৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার শশীদল সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন বিজিবি পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। শুক্রবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। আটক পুলিশ সদস্যরা সুস্থ রয়েছেন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তের পাহাড় ও জঙ্গলবেষ্টিত দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিজিবি তার দায়িত্ব ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সীমান্ত সুরক্ষা ও অখণ্ডতা রক্ষার কাজ নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ব পালন করতে গেলে এ ধরনের কিছু পরিস্থিতি ঘটতে পারে। সেখানে এই বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্নক সহযোগিতা করছি। আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই আমরা এটা সম্পন্ন করতে পারব আনহার্ম, এটা আমরা সেভাবেই যোগাযোগ রেখেছি। আমাদের যে ঐতিহ্যবাহী বাহিনী এবং আমরা যেভাবে এই দায়িত্ব, রেসপন্সিবিলিটিস পালন করে আসছি, এই প্রক্রিয়াতে এই কার্যক্রমের সাথে এধরনের ইনসিডেন্ট কিন্তু নতুন নয়। তাই আমরা প্রস্তুত থাকি, আমাদের দায়িত্ব পালন করি, পাশাপাশি পেশাগতভাবে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আমরা আমাদের সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে থাকি। যদি আমরা ওভারল একটা স্ট্যাটিস্টিক্স নেই, মোটা দাগে সীমান্তে স্থিতিশীলতা সীমান্তের সুরক্ষা আমরা এখন পর্যন্ত মনে হয় আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি। যে ধরনের চ্যালেঞ্জ আসছে এগুলো আসবে এবং এগুলোকে মোকাবেলা করতে হবে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলোর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও রেকি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাঝে যোগাযোগ সহজ হবে। একটি পুরোনো ছবি, অসম্পূর্ণ ভিডিও কিংবা যাচাই না করা বক্তব্য উদ্বেগ ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। তাই অনুরোধ, সংবেদনশীল কোনো তথ্য প্রচারের আগে সত্যতা যাচাই করুন। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন উদ্বেগ থাকলে আগেই অবহিত করুন। আপনাদের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করুন, পরিবার নিয়ে আনন্দের সঙ্গে উৎসবে অংশ নিন। সকলের সহযোগিতায় পূজার প্রতিটি দিন আপনাদের জন্য শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর থাকবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান আরও বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তসহ সব ধরনের হুমকি মোকাবেলায় বিজিবি পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে বিজিবি ভবিষ্যতে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা, সংযম বজায় রাখা এবং মানুষের সঙ্গে আচরণে সৌজন্য ও সহমর্মিতা দেখানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা বিষয়ে বিজিবি পরিচালক জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা মণ্ডপের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম এলাকার ১৮৩টি মণ্ডপ রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন ও প্রয়োজনে কুইক রেসপন্স ফোর্স পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় ত্বরান্বিত করতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু রাখা হয়েছে। গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে বিজিবি নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে সহায়তা জোরদার করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যথাস্থানে পৌঁছানো যায়।

সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। মাদক প্রতিরোধে এই সময়ে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ১৫ হাজার ৮৮৬ কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন ও ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ১ হাজার ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে বিজিবির দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান রোধে বিজিবির তৎপরতা সম্পর্কে তিনি জানান, একই সময়ে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, ১টি এসএমজি, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন ও ৩ হাজার ২১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র ও চোরাচালানের দায়ে ১ হাজার ৯৫৭ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মানবপাচার প্রতিরোধে ৪২ জনকে উদ্ধার ও ২০ জন পাচারকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। অর্থনীতি ও জনস্বার্থ রক্ষায় কৃষি উপকরণ, জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার রোধেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এ সময় ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং প্রায় ১৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। দেশের স্বার্থ ও মানুষের মর্যাদা সুরক্ষায় বিজিবি তার পেশাদার ভূমিকা পালন করে যাবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। সময়মতো পাওয়া একটি তথ্যও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Facebook Comments Box