শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় ১০ দফা দাবি আদর্শ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। সভায় শিক্ষক সমাজের মর্যাদা রক্ষা, বেতন-বৈষম্য নিরসন এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি পেশ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক নূর নবী মানিক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম। সভার সূচনা হয় কুরআন তিলাওয়াত, স্বাগত বক্তব্য ও ইসলামি সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগীয় সভাপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান এমপি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৬৬ সালের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেস্কো শিক্ষক সনদের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এই দিবস পালনের সূচনা হয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়া এবং শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম হলেও বর্তমানে সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই অবহেলা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি। তিনি বলেন, শিক্ষকরা জাতির কারিগর হওয়া সত্ত্বেও তাদের ন্যায্য দাবিগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিমসহ অন্যান্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
অধ্যাপক নূর নবী মানিক শিক্ষকদের পক্ষে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— শিক্ষকদের পেশাগত সুরক্ষা ও আইনি মর্যাদা নিশ্চিত করা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বহাল রাখা, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-বৈষম্য দূর করা, অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দ্রুত ছাড় করা, নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা, প্রাথমিক নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করা, ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা, নিয়োগে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় সমসুযোগ প্রদান এবং সব স্তরে শিক্ষার জাতীয়করণ।
বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে শিক্ষা ও শিক্ষক সমাজের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমেই দেশ গঠনে প্রকৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর প্রত্যাশা থাকলেও শিক্ষকরা এখনো তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। দেশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হলেও বাস্তবে শিক্ষকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























