মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশন বণ্টন নিয়ে পরিবারের বিরোধ
- আপডেট সময় : ০৬:০৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
খুলনার কয়রা সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ মরহুম আব্দুল হাই শেখের পেনশনের টাকা পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এই অর্থ বণ্টন প্রক্রিয়ায় প্রয়াত উপাধ্যক্ষের প্রথম স্ত্রী সাজেদা খাতুনকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর প্রথম পক্ষের সন্তানরা। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ৮ অক্টোবর মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই গভীর রাতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে আব্দুল হাই শেখ মারা যান। সে সময় তাঁর ছোট ভাই আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানারা সুলতানা বেবি এবং ছেলে মাসুদ বিল্লাহর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ওই বছরের ৩১ আগস্ট তিনি হলফনামার মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। বর্তমানে আব্দুস সাত্তার মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি নিজের পদে থেকে প্রভাব খাটিয়ে পেনশনের অর্থ দ্বিতীয় পরিবারকে পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা সাজেদা খাতুনকে তাঁর আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত করতে পারে। এর ফলে তাঁর মা সাজেদা খাতুন পেনশনের অর্থের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
মুস্তাকিম বিল্লাহ জানান, ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম একটি ওয়ারিশ কায়েম সনদ প্রদান করেন। সেই সনদে প্রথম স্ত্রী সাজেদা খাতুনসহ দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানারা সুলতানা বেবি এবং আব্দুল হাই শেখের সকল সন্তান অর্থাৎ মুস্তাকিম বিল্লাহ, মঈন বিল্লাহ, ওবায়দুল্লাহ, মাসুম বিল্লাহ, মাসুদ বিল্লাহ ও মেয়ে শাহরিয়া খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে তালাকের দোহাই দিয়ে সাজেদা খাতুনকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও তালাকের আইনগত বৈধতা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আব্দুল হাই শেখের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলাটি বর্তমানে খুলনার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যার জিআর নম্বর ১৬৫/১৭। পরিবারের পক্ষ থেকে মুস্তাকিম বিল্লাহ জোর দাবি জানিয়েছেন যেন প্রযোজ্য সকল বিধিবিধান মেনে স্বচ্ছতার সাথে পেনশনের টাকা বন্টন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। এ বিষয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁরা অভিযোগটি পেয়েছেন এবং যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























