ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাশিয়ার ৬ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্তের দাবি ইউক্রেনের লন্ডনের রাস্তায় অচেতন আমিরাত রাজপরিবারের সদস্য, পাশে অরক্ষিত শিশু যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় হতাহতদের পরিচয় মিলেছে মাগুরা-ঝিনাইদহের ৫০০ মিটার সড়ক: কেন অবহেলায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ মোহাম্মদপুরে চাঁদার টাকা নিয়ে বিরোধে বাবা-ছেলে আহত ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটিতে ২২০ পদে নিয়োগের সুযোগ কাতারের আমিরের কাছ থেকে যেভাবে বোয়িং উপহার পেলেন ট্রাম্প ইয়েমেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভূরুঙ্গামারীতে বিএনপির ইউনিয়ন কমিটি গঠনে অনিয়মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা নীলফামারীতে ২৮টি হারানো মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের কাছে হস্তান্তর

মাগুরা-ঝিনাইদহের ৫০০ মিটার সড়ক: কেন অবহেলায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাগুরা ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী কোদালিয়া-শ্রীরামপুর সড়কটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৫০০ মিটার হলেও, এই ছোট রাস্তাটি ঘিরে স্থানীয়দের দুর্ভোগের মাত্রা অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি পাকা না হওয়ায় দুই উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বা সামান্য বৃষ্টিতে এই পথটি কর্দমাক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, যার ফলে স্থানীয়দের কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির উন্নয়নে দীর্ঘসূত্রতা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।

এই সড়কটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি এবং মৌলিক পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। চার শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ এবং জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। বর্ষায় কাদার কারণে ফসল পরিবহনে অক্ষম হওয়ায় অনেক সময় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও এই বেহাল সড়কটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো এলাকার জনজীবনকে স্থবির করে রেখেছে।

এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সড়কটি বর্তমানে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নেই। যদিও তালিকাভুক্তির জন্য প্রধান কার্যালয়ে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিমালার দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর মানুষের দুর্ভোগ উপেক্ষা করা যৌক্তিক নয়। বিশেষ করে যখন সড়কটির দৈর্ঘ্য খুবই কম এবং এর সাথে হাজারো মানুষের জীবিকা ও সেবাপ্রাপ্তি জড়িয়ে আছে, তখন এটিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি দপ্তরগুলোর একে অপরের দিকে দায় না ঠেলে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন অনস্বীকার্য, তবে মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ নেই। এলজিইডির দ্রুত উচিত সড়কটি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাকা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা। মাগুরা ও ঝিনাইদহ প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাত্র ৫০০ মিটারের এই সড়কটি পাকা করা হলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। স্বল্প পরিসরের এই কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাগুরা-ঝিনাইদহের ৫০০ মিটার সড়ক: কেন অবহেলায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

মাগুরা ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী কোদালিয়া-শ্রীরামপুর সড়কটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৫০০ মিটার হলেও, এই ছোট রাস্তাটি ঘিরে স্থানীয়দের দুর্ভোগের মাত্রা অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি পাকা না হওয়ায় দুই উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বা সামান্য বৃষ্টিতে এই পথটি কর্দমাক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, যার ফলে স্থানীয়দের কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির উন্নয়নে দীর্ঘসূত্রতা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।

এই সড়কটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি এবং মৌলিক পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। চার শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ এবং জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। বর্ষায় কাদার কারণে ফসল পরিবহনে অক্ষম হওয়ায় অনেক সময় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও এই বেহাল সড়কটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো এলাকার জনজীবনকে স্থবির করে রেখেছে।

এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সড়কটি বর্তমানে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নেই। যদিও তালিকাভুক্তির জন্য প্রধান কার্যালয়ে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিমালার দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর মানুষের দুর্ভোগ উপেক্ষা করা যৌক্তিক নয়। বিশেষ করে যখন সড়কটির দৈর্ঘ্য খুবই কম এবং এর সাথে হাজারো মানুষের জীবিকা ও সেবাপ্রাপ্তি জড়িয়ে আছে, তখন এটিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি দপ্তরগুলোর একে অপরের দিকে দায় না ঠেলে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন অনস্বীকার্য, তবে মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ নেই। এলজিইডির দ্রুত উচিত সড়কটি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাকা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা। মাগুরা ও ঝিনাইদহ প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাত্র ৫০০ মিটারের এই সড়কটি পাকা করা হলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। স্বল্প পরিসরের এই কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

Facebook Comments Box