ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বরিশালে মাদকের আসর থেকে এএসআইসহ চারজন আটক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক বিশেষ অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়েছে। ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল মিরাজুল ইসলামের টিনশেড বাসাটি ঘিরে ফেলে তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এ সময় মিরাজুলের ওই বাসায় অবস্থানরতদের কাছ থেকে ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। যদিও অভিযানে মাদকের বড় কোনো চালান পাওয়া যায়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তারা ওই বাসায় অবস্থানরতদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেন।

আটক চারজন হলেন- বরিশাল বিমানবন্দর থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, নাহিদ হাসান এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মিরাজুলের কোনো দলীয় পদপদবি না থাকলেও তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মিরাজুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। এমনকি এই এএসআই-এর মাধ্যমে স্থানীয় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। তিনি প্রায় দিনই মিরাজের বাসায় রাত কাটাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত ছিলেন এবং মাদক সরবরাহ করতেন।

অভিযানের সময় ডিএনসি কর্মীরা যখন বাসাটি ঘেরাও করেন, তখন ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনের আলো ফুটতেই এএসআই দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেন এবং কাদামাটিতে লাফিয়ে পড়েন। এ সময় ডিএনসি সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তাকেসহ চারজনকে আটক করা হয়। তখন তাকে মাদকদ্রব্যের কর্মীরা ধরতে গেলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

আটকের পর এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএনসির উপপরিচালক খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তাকে জিম্মায় নিয়েছেন। অন্যদিকে, মিরাজুল ইসলামসহ বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বরিশালে মাদকের আসর থেকে এএসআইসহ চারজন আটক

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক বিশেষ অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়েছে। ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল মিরাজুল ইসলামের টিনশেড বাসাটি ঘিরে ফেলে তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এ সময় মিরাজুলের ওই বাসায় অবস্থানরতদের কাছ থেকে ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। যদিও অভিযানে মাদকের বড় কোনো চালান পাওয়া যায়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তারা ওই বাসায় অবস্থানরতদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেন।

আটক চারজন হলেন- বরিশাল বিমানবন্দর থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, নাহিদ হাসান এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মিরাজুলের কোনো দলীয় পদপদবি না থাকলেও তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মিরাজুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। এমনকি এই এএসআই-এর মাধ্যমে স্থানীয় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। তিনি প্রায় দিনই মিরাজের বাসায় রাত কাটাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত ছিলেন এবং মাদক সরবরাহ করতেন।

অভিযানের সময় ডিএনসি কর্মীরা যখন বাসাটি ঘেরাও করেন, তখন ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনের আলো ফুটতেই এএসআই দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেন এবং কাদামাটিতে লাফিয়ে পড়েন। এ সময় ডিএনসি সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তাকেসহ চারজনকে আটক করা হয়। তখন তাকে মাদকদ্রব্যের কর্মীরা ধরতে গেলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

আটকের পর এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএনসির উপপরিচালক খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তাকে জিম্মায় নিয়েছেন। অন্যদিকে, মিরাজুল ইসলামসহ বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Facebook Comments Box