চরাঞ্চলের শিক্ষকদের জন্য দূরত্বভিত্তিক বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
- আপডেট সময় : ০৭:০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
চরাঞ্চলের শিক্ষকদের জন্য দূরত্বভিত্তিক বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
দেশের চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় কর্মরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থান, যাতায়াতের দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা এবং দুর্গমতার মাত্রা বিশ্লেষণ করে এই ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) রংপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন এলাকাগুলো প্রকৃত অর্থে দুর্গম হিসেবে গণ্য হবে এবং সেখানে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, তা নতুন করে নির্ধারণ করা জরুরি।
পড়ুন>>অনির্দিষ্টকালের জন্য হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা
স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করার বিষয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত মতামত ও সুপারিশ লিখিতভাবে সংকলন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব ও জবাবদিহি সুস্পষ্ট করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে এক স্তরের কাজ অন্য স্তরের জন্য বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। বিভাগ থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সমন্বিত কর্মশৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
পড়ুন>>দলের নাম ভাঙিয়ে নৈরাজ্যকারীদের বিএনপিতে ঠাঁই নেই- এমপি শামীম তালুকদার
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নৈতিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ারমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালু করা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলা ও হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে শিশুদের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও, নতুন কারিকুলামে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনার প্রচলিত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ইসরাত জাহান।
এ সময় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























