খুলনায় পৃথক অভিযানে ৪টি বিদেশি পিস্তলসহ আটক ২
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্থানীয় থানা পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রিফাত তালুকদার (২১) ও আব্দুল আউয়াল (২৫)। বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানা এলাকায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কেএমপি ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘চিংড়ী পলাশ’-এর বাসায় যশোর থেকে আসা কিছু অস্ত্রধারী অবস্থান করছেন। এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সোনাডাঙ্গার গোবরচাকা শাহিনুর জামে মসজিদ রোড সংলগ্ন খালাসীবাড়ি মোড়ের হোল্ডিং নম্বর-২২-এর একটি বাসায় অভিযান চালায়।
অভিযানে ওই বাসার দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের কক্ষ থেকে রিফাত তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়। রিফাত যশোরের কোতোয়ালি থানার শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার ইদ্রিস তালুকদারের ছেলে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই কক্ষ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, যে বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে সেটি বর্তমানে কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী চিংড়ী পলাশের এবং সে অতীতে ‘বি কোম্পানি’ নামের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য ছিল।
অন্যদিকে, লবণচরা থানা এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় হরিণটানা আশিবিঘা এলাকার আল আকসা মসজিদ গলিতে ইসরাফিলের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত দোচালা টিনের ঘরে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আব্দুল আউয়াল খুলনা সদর থানার পশ্চিম টুটপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। এর আগে একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তার নাম উঠে আসে। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে আউয়াল অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য দিলে, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম এবং লবণচরা থানার ওসি মো. মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে কাঠের গুঁড়ির বস্তার নিচ থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত সম্পর্কে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র ভারত সীমান্ত হয়ে সাতক্ষীরা ও বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। এরপর যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা পেরিয়ে খুলনায় আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রগুলোর প্রকৃত উৎস এবং এর সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পৃথক দুই অভিযানে উদ্ধার হওয়া চারটি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই অস্ত্রগুলো কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেএমপির ডিবি কার্যালয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া এ সব তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশের দাবি, ওই মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আউয়ালের নাম উল্লেখ করেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























