ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: সৌদি ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র লালমনিরহাটে জমির বিরোধ মিমাংসার নামে  নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের জেরে যুবককে নিরাপত্তা ঘটনায়, হাসপাতালে আবার বাড়ল এলপিজির দাম, আজ থেকেই কার্যকর পূজায় গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার রাণীশংকৈলে বিষাক্ত ট্যাবলেট খেয়ে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীর মৃত্যু বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রমে আইনি বাধা কাটল নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ সরকারের প্রয়োজন নেই: শফিকুর রহমান শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা: ইয়াশের কোল থেকে দুইবার পড়লেন নীহা ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না: এম জে আকবর

কুড়িগ্রামে প্রতিমার তৈরীর মজুরী কম পাওয়ায় হতাশ প্রতিমা শিল্পীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৩২৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে প্রতিমার তৈরীর মজুরী কম পাওয়ায় হতাশ প্রতিমা শিল্পীরা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রাম থেকে নয়ন দাস: কুড়িগ্রামে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।দূর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা বাড়লেও প্রতিমার সঠিক দাম না পাওয়া আর পূজার সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাবে খুশি হতে পারেনি পাল সম্প্রদায়ের প্রতিমা শিল্পী।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের বেশ কয়েকটি পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দূর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিমা শিল্পীরা। পার করছেন ব্যস্ত সময়। একেক জন প্রতিমা শিল্পী ৮-১২ টি করে প্রতিমার অর্ডার নিয়েছেন। যা বিগত বছরগুলোতে ছিলো ১৬-২০টি করে। জেলার বাইরে থেকে প্রতিমার অর্ডার পেলেও গত দুই বছর থেকে করোনার প্রভাবে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে লাভ কম হলেও উৎসব কমিটির পছন্দের চাহিদা মত তারা প্রতিমা গড়ছেন আপন হাতের ছোয়ায়। পাশাপাশি পুজোর মাটির সরঞ্জাম হাড়ি, কলস, ঘট, সরা, প্রদীপ, ধূপাতি ইত্যাদিও গড়ছেন কারিগররা।জেলার কাঁঠালবাড়ি, দাশেরহাট, বৈদ্যের বাজার, ঘোগাদহ, পালপাড়া ভূরুঙ্গামারী,নাগেশ্বরীসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরী হচ্ছে এসব মাটির সরঞ্জাম ও দূর্গা প্রতিমা।

প্রতিমা তৈরীতে প্রসিদ্ধ রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বৈদ্দের-বাজার এলাকার প্রতিমা শিল্পি তপন চন্দ্র মালাকার বলেন, ‘বাপ-দাদার পেশা আকড়ে ধরে আছি। মৃৎশিল্পীদের কেউ খোঁজ খবর নেয় না। প্রতি বছর দূর্গা উৎসব আসলে কয়টা টাকার মূখ দেখি। এ বছর ৯ টি প্রতিমা তৈরী করছি। সঠিক সময়ে প্রতিমা ডেলিভারী দিতে স্ত্রী-সন্তান ও দুই-তিন জন স্থানীয় শ্রমিক নিয়ে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।’

সদরের কাঁঠালবাড়ির প্রতিমা শিল্পি শ্রী কালিকান্ত পাল জানান,‘গত দুই বছর করোনার কারনে জেলার বাইরের পুজোর প্রতিমার তেমন অর্ডার নিতে পারি নি, এ বছর আশানুরুপ প্রতিমার অর্ডার বেশি আশা করেছিলাম। কিন্তু এ বছর জেলায় পূজা মন্ডপের সংখ্যা কমায় অর্ডার কম পেয়েছি।’

একই এলাকার আরেক প্রতিমা কারিগর শ্রী সুশিল পাল জানান, ‘প্রতিমার সরঞ্জামের দাম গতবছরের চেয়ে এবছর আরো বেড়েছে,সেই তুলনায় প্রতিমার দাম তেমন পাচ্ছি না আমরা।’

প্রতিমার লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, ময়ূর, পেঁচা সবকিছু তৈরী শেষ হয়েছে, তবে মুল প্রতিমা দেবী দূর্গার কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এসব প্রতিমা গুলোতে এখনো মাটির প্রলেপ দেয়া হচ্ছে, রং তুলির আচর পরবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার পর। ৫ দিনের এই শারদ উৎসব শুরু হবে আগামী ১ লা অক্টোবর শনিবার থেকে।

কুড়িগ্রাম পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, জেলায় এবার ৫১৪টি পূজা মন্ডপে শারদীয়া দূর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।যা গতবছরের চেয়ে ৬০ টি মন্ডপের কম পূজা এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৫১৪টি মন্ডপগুলো হলো, কুড়িগ্রাম সদরে ৭২টি, রাজারহাটে ১১২টি, ফুলবাড়িতে ৬৩টি, উলিপুরে ১১৮টি, চিলমারীতে ৩২ টি, রৌমারীতে ৮টি, রাজিবপুরে ১টি, নাগেশ্বরীতে ৯০টি, ভূরুঙ্গামারীতে ১৮টি মন্ডবে পূজা হবে।

কুড়িগ্রাম পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবি বোস বলেন, ‘গত বছর কয়েকটি জায়গায় দূর্গা পূজার সময় প্রতিমা ভাংচুর করা হয়। সেই আশংকায় কেন্দ্রীয় নির্দেশে এবার আমাদের কুড়িগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপগুলোর পূজা অনুষ্ঠিত হবে না।’

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে প্রতিমার তৈরীর মজুরী কম পাওয়ায় হতাশ প্রতিমা শিল্পীরা

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

কুড়িগ্রাম থেকে নয়ন দাস: কুড়িগ্রামে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।দূর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা বাড়লেও প্রতিমার সঠিক দাম না পাওয়া আর পূজার সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাবে খুশি হতে পারেনি পাল সম্প্রদায়ের প্রতিমা শিল্পী।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের বেশ কয়েকটি পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দূর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিমা শিল্পীরা। পার করছেন ব্যস্ত সময়। একেক জন প্রতিমা শিল্পী ৮-১২ টি করে প্রতিমার অর্ডার নিয়েছেন। যা বিগত বছরগুলোতে ছিলো ১৬-২০টি করে। জেলার বাইরে থেকে প্রতিমার অর্ডার পেলেও গত দুই বছর থেকে করোনার প্রভাবে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে লাভ কম হলেও উৎসব কমিটির পছন্দের চাহিদা মত তারা প্রতিমা গড়ছেন আপন হাতের ছোয়ায়। পাশাপাশি পুজোর মাটির সরঞ্জাম হাড়ি, কলস, ঘট, সরা, প্রদীপ, ধূপাতি ইত্যাদিও গড়ছেন কারিগররা।জেলার কাঁঠালবাড়ি, দাশেরহাট, বৈদ্যের বাজার, ঘোগাদহ, পালপাড়া ভূরুঙ্গামারী,নাগেশ্বরীসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরী হচ্ছে এসব মাটির সরঞ্জাম ও দূর্গা প্রতিমা।

প্রতিমা তৈরীতে প্রসিদ্ধ রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বৈদ্দের-বাজার এলাকার প্রতিমা শিল্পি তপন চন্দ্র মালাকার বলেন, ‘বাপ-দাদার পেশা আকড়ে ধরে আছি। মৃৎশিল্পীদের কেউ খোঁজ খবর নেয় না। প্রতি বছর দূর্গা উৎসব আসলে কয়টা টাকার মূখ দেখি। এ বছর ৯ টি প্রতিমা তৈরী করছি। সঠিক সময়ে প্রতিমা ডেলিভারী দিতে স্ত্রী-সন্তান ও দুই-তিন জন স্থানীয় শ্রমিক নিয়ে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।’

সদরের কাঁঠালবাড়ির প্রতিমা শিল্পি শ্রী কালিকান্ত পাল জানান,‘গত দুই বছর করোনার কারনে জেলার বাইরের পুজোর প্রতিমার তেমন অর্ডার নিতে পারি নি, এ বছর আশানুরুপ প্রতিমার অর্ডার বেশি আশা করেছিলাম। কিন্তু এ বছর জেলায় পূজা মন্ডপের সংখ্যা কমায় অর্ডার কম পেয়েছি।’

একই এলাকার আরেক প্রতিমা কারিগর শ্রী সুশিল পাল জানান, ‘প্রতিমার সরঞ্জামের দাম গতবছরের চেয়ে এবছর আরো বেড়েছে,সেই তুলনায় প্রতিমার দাম তেমন পাচ্ছি না আমরা।’

প্রতিমার লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, ময়ূর, পেঁচা সবকিছু তৈরী শেষ হয়েছে, তবে মুল প্রতিমা দেবী দূর্গার কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এসব প্রতিমা গুলোতে এখনো মাটির প্রলেপ দেয়া হচ্ছে, রং তুলির আচর পরবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার পর। ৫ দিনের এই শারদ উৎসব শুরু হবে আগামী ১ লা অক্টোবর শনিবার থেকে।

কুড়িগ্রাম পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, জেলায় এবার ৫১৪টি পূজা মন্ডপে শারদীয়া দূর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।যা গতবছরের চেয়ে ৬০ টি মন্ডপের কম পূজা এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৫১৪টি মন্ডপগুলো হলো, কুড়িগ্রাম সদরে ৭২টি, রাজারহাটে ১১২টি, ফুলবাড়িতে ৬৩টি, উলিপুরে ১১৮টি, চিলমারীতে ৩২ টি, রৌমারীতে ৮টি, রাজিবপুরে ১টি, নাগেশ্বরীতে ৯০টি, ভূরুঙ্গামারীতে ১৮টি মন্ডবে পূজা হবে।

কুড়িগ্রাম পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবি বোস বলেন, ‘গত বছর কয়েকটি জায়গায় দূর্গা পূজার সময় প্রতিমা ভাংচুর করা হয়। সেই আশংকায় কেন্দ্রীয় নির্দেশে এবার আমাদের কুড়িগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপগুলোর পূজা অনুষ্ঠিত হবে না।’

Facebook Comments Box