ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস পাওয়া না গেলে তা জনস্বার্থে গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, গণমাধ্যমে অনিয়মের তথ্য উঠে এলে ভোক্তা সাধারণের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। তিনি বলেন, এর আগে অনেককে জরিমানাও করা হয়েছিল, এখন এটি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটা তো অত্যন্ত এসেনশিয়াল একটি পণ্য, এটা ছাড়া আসলে চলা যায় না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অভিযানই একমাত্র সমাধান করতে পারে, সরকার এমনটা মনে করে না।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ব্যাপক অস্থিরতা থাকলেও সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপিজির মূল্য সমন্বয়ের নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে দেশের কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস না পাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা মোকাবিলায় সরকার তৎপর হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কমিশন নির্ধারিত মূল্যে কেনাবেচা নিশ্চিত করতে দেশের সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী অনলাইন সভার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের তদারকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, এলপিজি বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা চলছে। জ্বালানিমন্ত্রী এ খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং তারা বাজার স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো—বাজার সংকট নিরসনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং যথাযথ তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করা।

তিনি আরও বলেন, শুধু আইনি অভিযান বা জরিমানা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। যারা এলপিজি আমদানি ও বোতলজাতের সঙ্গে জড়িত, তাদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত করাও সরকারের একটি লক্ষ্য, যাতে সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক থাকে এবং দাম স্থিতিশীল থাকে। এতে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হবে না এবং দাম স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, যারা অসাধুভাবে অতিরিক্ত মুনাফা করতে আইন অমান্য করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে সরকার। একইসঙ্গে যারা আইন মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কিছু অ্যাকশন নেওয়ার কথা আমরা বলছি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস পাওয়া না গেলে তা জনস্বার্থে গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, গণমাধ্যমে অনিয়মের তথ্য উঠে এলে ভোক্তা সাধারণের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। তিনি বলেন, এর আগে অনেককে জরিমানাও করা হয়েছিল, এখন এটি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটা তো অত্যন্ত এসেনশিয়াল একটি পণ্য, এটা ছাড়া আসলে চলা যায় না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অভিযানই একমাত্র সমাধান করতে পারে, সরকার এমনটা মনে করে না।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ব্যাপক অস্থিরতা থাকলেও সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপিজির মূল্য সমন্বয়ের নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে দেশের কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস না পাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা মোকাবিলায় সরকার তৎপর হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কমিশন নির্ধারিত মূল্যে কেনাবেচা নিশ্চিত করতে দেশের সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী অনলাইন সভার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের তদারকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, এলপিজি বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা চলছে। জ্বালানিমন্ত্রী এ খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং তারা বাজার স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো—বাজার সংকট নিরসনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং যথাযথ তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করা।

তিনি আরও বলেন, শুধু আইনি অভিযান বা জরিমানা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। যারা এলপিজি আমদানি ও বোতলজাতের সঙ্গে জড়িত, তাদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত করাও সরকারের একটি লক্ষ্য, যাতে সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক থাকে এবং দাম স্থিতিশীল থাকে। এতে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হবে না এবং দাম স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, যারা অসাধুভাবে অতিরিক্ত মুনাফা করতে আইন অমান্য করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে সরকার। একইসঙ্গে যারা আইন মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কিছু অ্যাকশন নেওয়ার কথা আমরা বলছি।

Facebook Comments Box