দুর্নীতি ও অসংগতি দূর করতে তরুণদের নেতৃত্বের আহ্বান ডেপুটি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে তরুণ প্রজন্মকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে শুধু নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটালেই চলবে না, বরং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার চর্চায় তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘ফিউচার বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।
তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, কেবল জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। তরুণদের ইতিবাচক সৃজনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিই আগামীর রাষ্ট্র বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় তরুণদের আপসহীন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের ইতিবাচক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, নাগরিকদের মধ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুরক্ষিত থাকবে। তিনি বলেন, তরুণদের এই শক্তি ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তরুণদের নেতৃত্বের সক্ষমতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে চিন্তাভাবনার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশের ইতিহাসে যেকোনো বড় আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের অনেকেই তরুণ। তাদের এই ত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরামর্শ দেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেলেও অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে এসে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের হাল ধরতে হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত চূড়ান্ত তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই ছিলেন তরুণ। অতীতের অর্জন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকেই নিতে হবে। দেশকে পিছিয়ে পড়ার অবস্থা থেকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকল্প নেই।
নেতৃত্বের গুণাবলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মতভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় নিজের মত প্রতিষ্ঠার চেয়ে অন্যের যুক্তি বোঝার মানসিকতা থাকা জরুরি। সত্যিকারের নেতা তিনিই, যিনি অন্যদেরও কাজ করার ও মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে দেন। পারস্পরিক আস্থাই অর্থপূর্ণ সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সামাজিক মর্যাদা, সমতা ও সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তরুণেরা বারবার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
তরুণদের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনা ও বিতর্কের অভিজ্ঞতা থাকলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার পথ সহজ হবে।
উদ্বোধনী সেশনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড বক্তব্য দেন।
সূত্র: দৈনিক এদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























