তালা ভেঙে কলেজ মাঠে জোরপূর্বক পশুর হাট বসালেন ছাত্রদলের নেতা
- আপডেট সময় : ১২:১০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ২২০৬১ বার পড়া হয়েছে
তালা ভেঙে কলেজ মাঠে জোরপূর্বক পশুর হাট বসালেন ছাত্রদলের নেতা
কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে জোরপূর্বক পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই পেশীশক্তির প্রভাব খাটিয়ে হাট বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে কলেজের প্রধান ফটকের তিনটি তালা ভেঙে মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে গরু-ছাগলের হাট শুরু করা হয় বলে জানিয়েছেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী। অভিযুক্ত জিহাদ ফেরদৌস চমক জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক এবং চিলমারী উপজেলা শহরের বাসিন্দা।
পড়ুন>> আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে মানবিকতা ফেরানোর আহ্বান
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানোর কোনো বিধান নেই। এ কারণে কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সভায় হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রেজুলেশন পাস করা হয়। বিষয়টি গত বুধবার (২০ মে) লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনকে জানানোর পর সকালে পুলিশ এসেছিল। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পরপরই আয়োজকরা গেটের তিনটি তালা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করে বাঁশের খুঁটি পুঁতে পশুর হাট বসায়। আমরা লিখিতভাবে আপত্তি জানানোর পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা বুঝতে পারছি না।”
পড়ুন>>কাউনিয়ায় সার ও কীটনাশকের দোকানের জরিমানা
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “হাট বসানোর জন্য আবেদন করা হয়েছিল, তবে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জেলা প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষ গেটে তালা দেওয়ার পরও সেটি ভেঙে হাট বসানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিলমারীর ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জিহাদ ফেরদৌস চমক দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই অস্থায়ী পশুর হাটের আয়োজন করেছেন। তার ভাষ্য, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অস্থায়ী হাটের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জামানতের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। ডিসি অফিসের অনুমতি নিয়েই কলেজ মাঠে হাট বসানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্যগতভাবে এ মাঠে অস্থায়ী পশুর হাট বসে আসছে।”
পড়ুন>> সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিতে রাঙ্গামাটিতে নতুন সাংবাদিক ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ
তবে তার দাবির পক্ষে জেলা প্রশাসনের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র গণমাধ্যমকে দেখাতে পারেননি তিনি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























