ডিজিটাল যুগে বদলেছে খুলনার কয়রা ডাকঘরের সেবার ধরন
- আপডেট সময় : ১০:১০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
একসময় ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা বাজলেই বাড়ির দরজায় ভিড় জমাতেন সবাই। দূরদেশে থাকা প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় কাটত উৎকণ্ঠা আর আনন্দের মুহূর্ত। কয়রার প্রবীণ বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী সফেদ আলী জানান, আগে চিঠির মাধ্যমেই আত্মীয়-স্বজনের খবর আদান-প্রদান হতো, যা এখন পুরোপুরি মোবাইলের দখলে। প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহে ব্যক্তিগত চিঠিপত্র আদান-প্রদানের সেই পুরোনো সংস্কৃতি অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। কয়রার ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা সফেদ আলীর স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত সেই দিনগুলো। একসময় ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শুনলেই ঘরের দরজায় ছুটে যেতেন পরিবারের সদস্যরা।
আজ শুক্রবার, ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস। দিবসটিকে কেন্দ্র করে কয়রার ডাকসেবার বর্তমান চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডাকঘরের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি, বরং সেবার ধরনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। স্থানীয় ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম ডিজিটাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাকঘর এখন নতুন চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ডাকসেবা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে ব্যক্তিগত চিঠিই ছিল ডাকঘরের অন্যতম প্রধান সেবা। দিবসটিকে সামনে রেখে কয়রার ডাকসেবার বর্তমান চিত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় ডাকব্যবস্থার চেহারা বদলেছে; কিন্তু প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। বরং মানুষের প্রয়োজনের ধরন বদলানোর সঙ্গে ডাকঘরও খুঁজছে নতুন ভূমিকা।
বর্তমানে ডাকঘরে পার্সেল, রেজিস্ট্রি ডাক এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আদান-প্রদানের হিড়িক বেড়েছে। কয়রা উপজেলা পোস্টমাস্টার সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাকঘর এখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে তাদের ‘স্পিড পোস্ট’ সেবা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে যেকোনো মালামাল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকের কাছে স্বল্প খরচে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের প্রত্যন্ত উপজেলা হিসেবে কয়রায় ডাকসেবার গুরুত্ব এখনো অপরিসীম। সব জায়গায় ডিজিটাল বা ইন্টারনেট সেবা সমানভাবে সহজলভ্য না হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি জরুরি কাগজপত্র ও পণ্য পরিবহনে মানুষ এখনো পোস্ট অফিসের ওপরই ভরসা রাখছেন। বিশেষ করে অনলাইন কেনাবেচার প্রসারে পণ্য ডেলিভারির ক্ষেত্রে ডাকঘর একটি অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখেছি, চিঠি বিলি করতে পোস্ট অফিসের লোকজন বাড়িতে আসতেন।
স্থানীয়দের মতে, ডাকঘরকে শুধু অতীতের স্মৃতির আধার হিসেবে দেখলে ভুল হবে। সেবার পরিধি বাড়িয়ে এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ডাকঘর এই ডিজিটাল যুগেও তার প্রাসঙ্গিকতা ধরে রেখেছে। চিঠির খামের পরিবর্তে এখন পার্সেলের মোড়ক আর জরুরি নথির আদান-প্রদানে ডাকঘর নতুন করে মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি করে নিয়েছে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ


























