ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প: ফের আলোচনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প: ফের আলোচনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার

 

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিধস, ঘরবাড়ি ধসে পড়া এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এক হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অস্থায়ী কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর সাময়িক সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়, তবে রিউং এলাকায় ১.৬১ মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর থেকে শত শত আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

পড়ুন>>আইডিআরএ’র সদস্য (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো. সিরাজুল ইসলাম

ইন্দোনেশিয়া ভৌগোলিকভাবে পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অঞ্চল ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে ঘোড়ার খুরের মতো বিস্তৃত এই বলয়ে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সীমান্ত রয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পগুলোর প্রায় ৮১ শতাংশই এই অঞ্চলে ঘটে।

সাবডাকশন অঞ্চলে একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যাওয়ার সময় যে বিপুল চাপ জমে, তা হঠাৎ মুক্ত হওয়ার ফলেই শক্তিশালী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরপর কয়েকটি বড় ভূমিকম্প ঘটলেই ‘রিং অব ফায়ার’ সামগ্রিকভাবে জেগে উঠেছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই, কারণ টেকটোনিক প্লেটের সীমান্তে ভূমিকম্প একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

পড়ুন>>প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতায় গুরুত্ব দিচ্ছে কাতার চেম্বার

ফ্লোরেসের বাসিন্দাদের জন্য এই ভূমিকম্প ১৯৯২ সালের ১২ ডিসেম্বরের ভয়াবহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় একই অঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে অন্তত ১ হাজার ৬৯০ জন নিহত হয়েছিলেন এবং প্রায় ১৮ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল। সে সময় কোনো কোনো এলাকায় সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ২৬ মিটারেরও বেশি ছিল। ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসেও বড় ধরনের দুর্যোগের নজির রয়েছে, যার মধ্যে ২০১৮ সালের পালু ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ২০২২ সালে পশ্চিম জাভার চিয়ানজুরে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ৬০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি উল্লেখযোগ্য।

‘রিং অব ফায়ার’-এর বিস্তৃতি ইন্দোনেশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে জাপান, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত।

আরও পড়ুন>>তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য এখনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ইতিহাসের পাতায় এই বলয়ের শক্তির ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে ১৯৬০ সালের ৯.৫ মাত্রার চিলি ভূমিকম্প এবং ১৯৬৪ সালের ৯.২ মাত্রার আলাস্কা ভূমিকম্পের নাম বারবার উঠে আসে। এই অঞ্চলটি বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরিপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূকম্পন সৃষ্টির ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে।

১৯৯২-এর স্মৃতি ফিরিয়ে আনল ফ্লোরেস- সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি ফ্লোরেসের বাসিন্দাদের জন্য পুরোনো আতঙ্কও ফিরিয়ে এনেছে। ঝুঁকিতে আরও যেসব দেশ- রিং অব ফায়ারের বিস্তৃতি ইন্দোনেশিয়ার বাইরেও অনেক দূর। ডে// বা

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প: ফের আলোচনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

 

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প: ফের আলোচনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার

 

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিধস, ঘরবাড়ি ধসে পড়া এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এক হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অস্থায়ী কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর সাময়িক সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়, তবে রিউং এলাকায় ১.৬১ মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর থেকে শত শত আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

পড়ুন>>আইডিআরএ’র সদস্য (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো. সিরাজুল ইসলাম

ইন্দোনেশিয়া ভৌগোলিকভাবে পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অঞ্চল ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে ঘোড়ার খুরের মতো বিস্তৃত এই বলয়ে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সীমান্ত রয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পগুলোর প্রায় ৮১ শতাংশই এই অঞ্চলে ঘটে।

সাবডাকশন অঞ্চলে একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যাওয়ার সময় যে বিপুল চাপ জমে, তা হঠাৎ মুক্ত হওয়ার ফলেই শক্তিশালী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরপর কয়েকটি বড় ভূমিকম্প ঘটলেই ‘রিং অব ফায়ার’ সামগ্রিকভাবে জেগে উঠেছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই, কারণ টেকটোনিক প্লেটের সীমান্তে ভূমিকম্প একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

পড়ুন>>প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতায় গুরুত্ব দিচ্ছে কাতার চেম্বার

ফ্লোরেসের বাসিন্দাদের জন্য এই ভূমিকম্প ১৯৯২ সালের ১২ ডিসেম্বরের ভয়াবহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় একই অঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে অন্তত ১ হাজার ৬৯০ জন নিহত হয়েছিলেন এবং প্রায় ১৮ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল। সে সময় কোনো কোনো এলাকায় সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ২৬ মিটারেরও বেশি ছিল। ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসেও বড় ধরনের দুর্যোগের নজির রয়েছে, যার মধ্যে ২০১৮ সালের পালু ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ২০২২ সালে পশ্চিম জাভার চিয়ানজুরে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ৬০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি উল্লেখযোগ্য।

‘রিং অব ফায়ার’-এর বিস্তৃতি ইন্দোনেশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে জাপান, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত।

আরও পড়ুন>>তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য এখনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ইতিহাসের পাতায় এই বলয়ের শক্তির ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে ১৯৬০ সালের ৯.৫ মাত্রার চিলি ভূমিকম্প এবং ১৯৬৪ সালের ৯.২ মাত্রার আলাস্কা ভূমিকম্পের নাম বারবার উঠে আসে। এই অঞ্চলটি বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরিপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূকম্পন সৃষ্টির ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে।

১৯৯২-এর স্মৃতি ফিরিয়ে আনল ফ্লোরেস- সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি ফ্লোরেসের বাসিন্দাদের জন্য পুরোনো আতঙ্কও ফিরিয়ে এনেছে। ঝুঁকিতে আরও যেসব দেশ- রিং অব ফায়ারের বিস্তৃতি ইন্দোনেশিয়ার বাইরেও অনেক দূর। ডে// বা

 

 

 

Facebook Comments Box