ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদপুরের মধুখালীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণহানি নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ: অস্কারজয়ী সুসান সারান্ডনসহ গ্রেপ্তার প্রায় ১০০ শি জিনপিংয়ের সম্মানে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজ ঢাকা কর অঞ্চল-১ এ ৩৪ পদে নিয়োগ প্রকাশ কাতারে গ্রীষ্মকালীন নিয়ম অমান্য: ৩৮৮টি কর্মক্ষেত্র সাময়িকভাবে বন্ধ এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে নেপালের বড় অঘটন রাঙ্গামাটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আলোকচিত্রের দ্বিশতবর্ষ পূর্তি উদ্‌যাপন ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামত হচ্ছে ‘থ্রি আর’ কৌশলে: প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজায় সরকারি কর্মচারীদের টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা নেপালের

অনন্য শেখ হাসিনা-ওয়াশিংটন পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাকিকুল ইসলাম খোকন
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২ ৪১৮ বার পড়া হয়েছে

অনন্য শেখ হাসিনা-ওয়াশিংটন পোস্ট

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ভার্জিনিয়ার রিটজ-কার্লটন হোটেলে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেন দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট পেটুলা ডিভোরাক। মার্কিন এই গণমাধ্যমটির ‘পার্সপেক্টিভ’ প্রতিবেদনে সেই সাক্ষৎকারটির বেশ কয়েকটি চমৎকার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়েছে এ লেখায়।
নিবন্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের পাশাপাশি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে আসার জন্য শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
‘দিস প্রাইম মিনিস্টার লাফড এট দ্য মিম্ শি ইন্সপাইয়ার্ড: ডিসপাইট বিইং এ ওম্যান’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধটিতে পেটুলা ডিভোরাক শুরু করেছেন এভাবে, ‘তিনি তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে উঁচু করে তুলে ধরেছেন, রিটজ কার্লটন হোটেলের বলরুমে কালোরঙের স্যুট পরিহিত পুরষদের ভিড়ে ছোট্ট মেয়েটির গোলাপী পোশাকটি চোখে পড়ছিল।
‘আমি তাকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে চাই’ বলছিলেন আব্দুল্লাহ্ নিয়ামি। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় প্রথম শ্রেনীতে পড়া তার মেয়ে জয়াকে তিনি গত সপ্তাহে এমন একজন নারী সরকার প্রধানকে দেখোনোর জন্য নিয়ে আসেন যা আমেরিকায় সচরাচর দেখা যায় না।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিবেক জাগ্রত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবস্থান করছিলেন উত্তর ভার্জিনিয়ার রিটজ হোটেলে। ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট পেটুলা ডিভোরাক তার প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে বলেছেন, এই নারী মানেই শক্তি। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী মহিলা সরকারপ্রধান হওয়ার পাশাপাশি, রাশিয়ার চেয়ে বেশি জনসংখ্যার একটি দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। অন্তত ২০টি হত্যা প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে, মানববর্ম তৈরি করে তাকে বাঁচাতে গিয়ে সকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে তার পাশে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মানুষ।
এমন লৌহমানবী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত জীবনে একজন দাদীও বটে, যিনি রান্না করে খাওয়ান নাতনীকে! তার ৭৬তম জন্মদিনটি ছেলে এবং তার ১৬ বছর বয়সী নাতনির সাথে উদযাপন করেছেন। কীভাবে একজন মানুষ এতগুলোর কাজের মধ্যে থেকেই দাদী হিসেবে নাতনীর সাথে সময় কাটাতে পারে! এমনটিই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। শেখ হাসিনা হেসে বলেন, আমি তাদের জন্য চিকেন বিরিয়ানি রান্না করি। আমার ছেলের বাড়িতে কেবল আমার নিজের জন্যই একটি রান্নাঘর আছে।
টাইসন কর্নার হোটেল রুমে তাদের সাক্ষাৎকারের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সেলফি তুলেছেন পেটুলা ডিভোরাক। প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট লিখেছেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুবাদক এবং চিফ অফ স্টাফের সাথে একটি সুন্দর ঘরে বসেছিলাম। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পিতা বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বিশাল প্রতিকৃতিও ছিল। শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী; যাকে ১৯৭৫ সালে তার পরিবারের আরও ১৭ জন সদস্যের সাথে হত্যা করা হয়। আর তার উত্তরাধিকার ধরে রেখেছেন শেখ হাসিনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে শেখ হাসিনা মিয়ানমারের জাতিগত সহিংসতা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য সাহায্য চেয়েছেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, শরণার্থীর জীবন কখনোই প্রত্যাশিত নয়। তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।
পেটুলা ডিভোরাক বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসী পরিস্থিতির সাথে যে আমেরিকার তুলনা চলে না, সে ব্যাপারে বলেছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমেরিকা বিশাল দেশ। প্রচুর জমি, প্রচুর জায়গা, কাজ করার সুযোগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন অভিবাসীদের নিয়ে চিন্তিত হতে হবে?জনসংখ্যার দিক নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৮ নম্বরে রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ১৭১ মিলিয়নেরও বেশি। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশটি আয়তনে খুবই ছোট। প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ বলেন, বাংলাদেশের আয়তন উইসকনসিনের সমান।
‘পার্সপেক্টিভ’ নামক এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের পথে হেটেছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে দেশটিতে রয়েছে বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে অভিযোগ।
‘একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও’ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। মোদি বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জবাব দিয়েছিলেন, পুরুষদের চেয়ে নারীরা সব সময়ই এগিয়ে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই প্রত্যুত্তর বেশ সাড়া ফেলেছিল ২০১৫ সালে। পেটুলা ডিভোরাক সেই প্রসঙ্গ তুললে আবারও হেসে শেখ হাসিনা বলেন, নারীরা সবসময়ই পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে।সত্যিকার অর্থেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে গেছেন। দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন। কারণ, তিনি একজন নারী। বাংলাদেশের দারিদ্র্য এবং শিক্ষার সংগ্রামে বেশিরভাগ নারীরা যে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন এবং কীভাবে তাদের স্থবিরতা একটি জাতির অগ্রগতিকে মন্থর করে দিতে পারে তা শেখ হাসিনা আরও গভীরভাবে বোঝেন। গত এক দশকে শেখ হাসিনা তার দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্যভাবে কাজ করেছেন। শিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করেছেন এবং আবাসন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, এখন আর দেশে কুঁড়েঘর দেখা যায় না। পাকা বাড়িতে থাকতে পারে মানুষ। আবাসনকে একটি মানবাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। আর সরকারি এই আবাসন প্রকল্পের মালিকানা পুরুষ এবং মহিলার নামে হবে। আর স্বামী-স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে মহিলার মালিকানা থেকে যাবে, লোকটির নয়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে উচ্চ ধারণা পোষণ করেছে বিশ্বব্যাংক। উল্লেখ করেছে যে, ১৯৭১ সালে জন্মের সময় দরিদ্রতম দেশগুলির মধ্যে একটি ছিল বাংলাদেশ। আর এখন সেই অবস্থান থেকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পৌঁছেছে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলার পর স্বাভাবিকভাবেই ভাবা হয়েছিল, তার সফরের পরবর্তী অংশ হয়তো অনেকটা শান্তভাবেই সম্পন্ন হবে। কিন্তু না! তার কথা ছড়িয়ে গেছে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। এবং যখন তিনি পেটুলা ডিভোরাকের সাথে সাক্ষাৎকারটি শেষ করেছিলেন, তখন হোটেলের লবি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে আসা ভক্তদের দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অনন্য শেখ হাসিনা-ওয়াশিংটন পোস্ট

আপডেট সময় : ১০:৪৪:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২

যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ভার্জিনিয়ার রিটজ-কার্লটন হোটেলে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেন দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট পেটুলা ডিভোরাক। মার্কিন এই গণমাধ্যমটির ‘পার্সপেক্টিভ’ প্রতিবেদনে সেই সাক্ষৎকারটির বেশ কয়েকটি চমৎকার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়েছে এ লেখায়।
নিবন্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের পাশাপাশি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে আসার জন্য শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
‘দিস প্রাইম মিনিস্টার লাফড এট দ্য মিম্ শি ইন্সপাইয়ার্ড: ডিসপাইট বিইং এ ওম্যান’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধটিতে পেটুলা ডিভোরাক শুরু করেছেন এভাবে, ‘তিনি তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে উঁচু করে তুলে ধরেছেন, রিটজ কার্লটন হোটেলের বলরুমে কালোরঙের স্যুট পরিহিত পুরষদের ভিড়ে ছোট্ট মেয়েটির গোলাপী পোশাকটি চোখে পড়ছিল।
‘আমি তাকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে চাই’ বলছিলেন আব্দুল্লাহ্ নিয়ামি। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় প্রথম শ্রেনীতে পড়া তার মেয়ে জয়াকে তিনি গত সপ্তাহে এমন একজন নারী সরকার প্রধানকে দেখোনোর জন্য নিয়ে আসেন যা আমেরিকায় সচরাচর দেখা যায় না।
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিবেক জাগ্রত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবস্থান করছিলেন উত্তর ভার্জিনিয়ার রিটজ হোটেলে। ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট পেটুলা ডিভোরাক তার প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে বলেছেন, এই নারী মানেই শক্তি। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী মহিলা সরকারপ্রধান হওয়ার পাশাপাশি, রাশিয়ার চেয়ে বেশি জনসংখ্যার একটি দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। অন্তত ২০টি হত্যা প্রচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে, মানববর্ম তৈরি করে তাকে বাঁচাতে গিয়ে সকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে তার পাশে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মানুষ।
এমন লৌহমানবী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত জীবনে একজন দাদীও বটে, যিনি রান্না করে খাওয়ান নাতনীকে! তার ৭৬তম জন্মদিনটি ছেলে এবং তার ১৬ বছর বয়সী নাতনির সাথে উদযাপন করেছেন। কীভাবে একজন মানুষ এতগুলোর কাজের মধ্যে থেকেই দাদী হিসেবে নাতনীর সাথে সময় কাটাতে পারে! এমনটিই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। শেখ হাসিনা হেসে বলেন, আমি তাদের জন্য চিকেন বিরিয়ানি রান্না করি। আমার ছেলের বাড়িতে কেবল আমার নিজের জন্যই একটি রান্নাঘর আছে।
টাইসন কর্নার হোটেল রুমে তাদের সাক্ষাৎকারের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সেলফি তুলেছেন পেটুলা ডিভোরাক। প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট লিখেছেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুবাদক এবং চিফ অফ স্টাফের সাথে একটি সুন্দর ঘরে বসেছিলাম। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পিতা বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বিশাল প্রতিকৃতিও ছিল। শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী; যাকে ১৯৭৫ সালে তার পরিবারের আরও ১৭ জন সদস্যের সাথে হত্যা করা হয়। আর তার উত্তরাধিকার ধরে রেখেছেন শেখ হাসিনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে শেখ হাসিনা মিয়ানমারের জাতিগত সহিংসতা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য সাহায্য চেয়েছেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, শরণার্থীর জীবন কখনোই প্রত্যাশিত নয়। তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।
পেটুলা ডিভোরাক বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসী পরিস্থিতির সাথে যে আমেরিকার তুলনা চলে না, সে ব্যাপারে বলেছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমেরিকা বিশাল দেশ। প্রচুর জমি, প্রচুর জায়গা, কাজ করার সুযোগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন অভিবাসীদের নিয়ে চিন্তিত হতে হবে?জনসংখ্যার দিক নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৮ নম্বরে রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ১৭১ মিলিয়নেরও বেশি। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশটি আয়তনে খুবই ছোট। প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ বলেন, বাংলাদেশের আয়তন উইসকনসিনের সমান।
‘পার্সপেক্টিভ’ নামক এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের পথে হেটেছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে দেশটিতে রয়েছে বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে অভিযোগ।
‘একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও’ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। মোদি বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জবাব দিয়েছিলেন, পুরুষদের চেয়ে নারীরা সব সময়ই এগিয়ে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই প্রত্যুত্তর বেশ সাড়া ফেলেছিল ২০১৫ সালে। পেটুলা ডিভোরাক সেই প্রসঙ্গ তুললে আবারও হেসে শেখ হাসিনা বলেন, নারীরা সবসময়ই পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে।সত্যিকার অর্থেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে গেছেন। দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন। কারণ, তিনি একজন নারী। বাংলাদেশের দারিদ্র্য এবং শিক্ষার সংগ্রামে বেশিরভাগ নারীরা যে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন এবং কীভাবে তাদের স্থবিরতা একটি জাতির অগ্রগতিকে মন্থর করে দিতে পারে তা শেখ হাসিনা আরও গভীরভাবে বোঝেন। গত এক দশকে শেখ হাসিনা তার দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্যভাবে কাজ করেছেন। শিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করেছেন এবং আবাসন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, এখন আর দেশে কুঁড়েঘর দেখা যায় না। পাকা বাড়িতে থাকতে পারে মানুষ। আবাসনকে একটি মানবাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। আর সরকারি এই আবাসন প্রকল্পের মালিকানা পুরুষ এবং মহিলার নামে হবে। আর স্বামী-স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে মহিলার মালিকানা থেকে যাবে, লোকটির নয়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে উচ্চ ধারণা পোষণ করেছে বিশ্বব্যাংক। উল্লেখ করেছে যে, ১৯৭১ সালে জন্মের সময় দরিদ্রতম দেশগুলির মধ্যে একটি ছিল বাংলাদেশ। আর এখন সেই অবস্থান থেকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পৌঁছেছে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলার পর স্বাভাবিকভাবেই ভাবা হয়েছিল, তার সফরের পরবর্তী অংশ হয়তো অনেকটা শান্তভাবেই সম্পন্ন হবে। কিন্তু না! তার কথা ছড়িয়ে গেছে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। এবং যখন তিনি পেটুলা ডিভোরাকের সাথে সাক্ষাৎকারটি শেষ করেছিলেন, তখন হোটেলের লবি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে আসা ভক্তদের দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ।

Facebook Comments Box