ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিলারশিপ চূড়ান্তের আগেই দোকানে সার বিক্রেতার সাইনবোর্ড ঢাকায় হত্যার শিকার রাকিবের লাশ ডিমলার বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেলেন বিরলের তাজ আল মিনার গাজীপুরে প্রেমিকের বাসায় তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু, গ্রেপ্তার শান্ত চরফ্যাশনে আইনজীবী সমিতির এপিপি হিরনের সদস্যপদ ছয় মাসের জন্য ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত আসছে নতুন নীতিমালা বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মুখপাত্র কামারুম মুনিরা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সহিংসতায় নিহত ৫ ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৯৬ রাজু মৃত্যুর ঘটনা মামলা: সাবেক এমপি মোশতাকসহ দুইজনের রিমান্ড

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ থেমেছে

সৃষ্টি শিক্ষা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩ ২৮০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ থেমেছে

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ থেমেছে সংঘর্ষ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ থেমেছে। তবে শিক্ষার্থীদের অনেকে বিক্ষিপ্তভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।

রাত দেড়টার দিকেও কিছু শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনের রেলক্রসিংয়ে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা বলছেন, পুলিশ তাদের ওপর হামলা করেছে, এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ফটক এলাকায় শনিবার সন্ধ্যার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

আহত হন স্থানীয়দের অনেকে। বিনোদপুর বাজারের বেশ কিছু দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ফটকের পুলিশ বক্সে।

রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক পুরনজিত মহলদার প্রথম আলোকে বলেন, সব শিক্ষার্থী এখনও হলে ফিরেনি। তাঁদের ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলেছ।

 

 

তবে সংঘর্ষ আর নেই। শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে হলে ফিরবে। চারুকলার সামনে রেললাইনের ওপর অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন।

চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা বলছেন, পুলিশ তাদের ওপর হামলা করেছে, এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে রেললাইনে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশন ছাড়তে পারেনি। অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি মেইল ট্রেন।

আবদুলপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষায় আছে। রাজশাহী রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম গত রাত একটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, রেললাইনের ওপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন বলে খবর পেয়ে রাতে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন পথে অপেক্ষা করছে।ঘটনার শুরু

যে ভাবে ঘটনার সুত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার বগুড়া থেকে বাসে রাজশাহী আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলামিন আকাশ। বাসে আসনে বসাকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বাসের চালক শরিফুল ও চালকের সহকারী রিপনের কথা–কাটাকাটি হয়।

 

 

পরে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ফটকে পৌঁছালে রিপনের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর আবার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এ সময় স্থানীয় এক দোকানদার এসে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে তর্কে জড়ান।  উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ওই দোকানদারের ওপর চড়াও হন।

পড়ুন>>রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে বিনোদপুর রণক্ষেত্র, আহত অর্ধশতাধিক

পরবর্তীতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। তখন শিক্ষার্থীরাও তাঁদের পাল্টা ধাওয়া করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এসময় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন  আহত হন। আহতদের বাসে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সুলতান উল ইসলাম ও হুমায়ুন কবির মেডিকেল সেন্টারে যান। এসময় সুলতান উল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অন্তত দুই শ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্সে কাভার করা যাচ্ছে না। আমরা তাঁদের বাস দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠাচ্ছি। ’

রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৮৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

তাঁরা হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম উল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি রায়হান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মীর কাদির, অপি করিম এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ থেমেছে

আপডেট সময় : ০৯:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ থেমেছে সংঘর্ষ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ থেমেছে। তবে শিক্ষার্থীদের অনেকে বিক্ষিপ্তভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।

রাত দেড়টার দিকেও কিছু শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনের রেলক্রসিংয়ে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা বলছেন, পুলিশ তাদের ওপর হামলা করেছে, এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ফটক এলাকায় শনিবার সন্ধ্যার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

আহত হন স্থানীয়দের অনেকে। বিনোদপুর বাজারের বেশ কিছু দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ফটকের পুলিশ বক্সে।

রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক পুরনজিত মহলদার প্রথম আলোকে বলেন, সব শিক্ষার্থী এখনও হলে ফিরেনি। তাঁদের ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলেছ।

 

 

তবে সংঘর্ষ আর নেই। শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে হলে ফিরবে। চারুকলার সামনে রেললাইনের ওপর অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন।

চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা বলছেন, পুলিশ তাদের ওপর হামলা করেছে, এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে রেললাইনে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশন ছাড়তে পারেনি। অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি মেইল ট্রেন।

আবদুলপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষায় আছে। রাজশাহী রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম গত রাত একটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, রেললাইনের ওপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন বলে খবর পেয়ে রাতে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন পথে অপেক্ষা করছে।ঘটনার শুরু

যে ভাবে ঘটনার সুত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার বগুড়া থেকে বাসে রাজশাহী আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলামিন আকাশ। বাসে আসনে বসাকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বাসের চালক শরিফুল ও চালকের সহকারী রিপনের কথা–কাটাকাটি হয়।

 

 

পরে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ফটকে পৌঁছালে রিপনের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর আবার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এ সময় স্থানীয় এক দোকানদার এসে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে তর্কে জড়ান।  উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ওই দোকানদারের ওপর চড়াও হন।

পড়ুন>>রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে বিনোদপুর রণক্ষেত্র, আহত অর্ধশতাধিক

পরবর্তীতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। তখন শিক্ষার্থীরাও তাঁদের পাল্টা ধাওয়া করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এসময় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন  আহত হন। আহতদের বাসে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সুলতান উল ইসলাম ও হুমায়ুন কবির মেডিকেল সেন্টারে যান। এসময় সুলতান উল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অন্তত দুই শ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্সে কাভার করা যাচ্ছে না। আমরা তাঁদের বাস দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠাচ্ছি। ’

রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৮৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

তাঁরা হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম উল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি রায়হান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মীর কাদির, অপি করিম এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ।

 

Facebook Comments Box