ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারে গ্রীষ্মকালীন নিয়ম অমান্য: ৩৮৮টি কর্মক্ষেত্র সাময়িকভাবে বন্ধ এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে নেপালের বড় অঘটন রাঙ্গামাটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আলোকচিত্রের দ্বিশতবর্ষ পূর্তি উদ্‌যাপন ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামত হচ্ছে ‘থ্রি আর’ কৌশলে: প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজায় সরকারি কর্মচারীদের টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা নেপালের যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘পান্ডা কূটনীতি’ জোরালো করছে চীন কাউন্টি ক্রিকেটে খালেদ আহমেদের দুর্দান্ত বোলিং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষে ৯ থেকে ১৫ গ্রেডে নিয়োগ মালয়েশিয়া সফরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

শেরপুরে শিশু কবিরাজের ঝাড়ফুঁক নিতে আসা মানুষের ভীড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার

শেরপুর থেকে মিজানুর রহমান
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

পানি ফুক দিচ্ছে শিশু কবিরাজ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

শেরপুরে শিশু কবিরাজের ঝাড়ফুঁক নিতে আসা মানুষের ভীড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার

 

 

শেরপুরের শ্রীবরদি ৪ বছরের শিশুর ঝাড়ফুঁকের পানি ও তেল ব্যবহারে সুস্থ হচ্ছে অসুস্থ রোগীরা”- বিশ্বাসে শিশুর বাড়িতে প্রতিদিন ভীড় করছেন হাজারো মানুষ। খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে উপচে পড়া ভীড়! সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

 

 

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভাটি লঙ্গরপাড়ায় এমন খবরে মানুষের ভীড় বাড়লেও সচেতন মহল বলছেন, এটা কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস ছাড়া কিছুই নয়। ৪ বছরের শিশু কবিরাজের নাম ‘লাবীব।’ কাপড় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল ওয়াহাবের শিশুরটি আর শিশু নয়। এখন সে সবার গ্রহণযোগ্য একজন ‘শিশু কবিরাজ।’ তার স্বজন এবং রোগীদের দাবি, আল্লাহর নামে ঝাড়ফুঁক দেয়া তার তেল ব্যবহার করলে এবং পানি পান করে বহুলোক জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে।

 

 

 

 

প্রথমে তার পরিবারের সদস্যদের রোগ মুক্তি। পরে আত্বীয় স্বজনের ও রোগমুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাসহ জেলার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার হাজার মানুষ। এরপর থেকেই বিভিন্ন রোগীকে ঝাড়ফুঁক দিয়ে যাচ্ছেন শিশু কবিরাজ। তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটা আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতা।

পড়ুন>>তাহিরপুর পর্যটন কেন্দ্র বারেকের টিলা চোরাচালানের নিরাপদ

 

 

 

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি বাবার সাথে পানি দিয়ে খেলছে। ২জন বালতি বালতি পানি এনে বোতলে ভরছেন। বাবা তাকে খেলাধুলা বন্ধ করে পানিতে ফু দিতে বলছে। অমনি ছেলেটি মাথা এগিয়ে পানিতে ফু দিচ্ছে।

 

 

অপরদিকে শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে এক এক করে পানি ও তেলের বোতল এগিয়ে শিশুটির মুখের কাছে ধরছেন। আবার কখনও শিশুটি তার বাবার কোলে বসে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের হাতের পানি ভর্তি বোতল ও তেলের শিশিতে ফুঁক দিচ্ছেন।  প্রতিদিন সকাল ১০টা এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২ ধাপে চলে এই ঝাড়ফুঁক বা শিশু কবিরাজের চিকিৎসা। রোগীর মধ্যে নারীর সংখ্যা সবচে বেশি।

 

 

 

স্থানীয় হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার দ্বিতীয় বারের মতো স্ট্রোক হওয়ার পর একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারতাম না। এই শিশু কবিরাজের চিকিৎসায় আমি এখন সম্পূর্ন সুস্থ হয়েছি। এখন লাঠি ছাড়িই দ্রুতবা হাঁটতে পারি। শিশুর বাবা বলেন, আমার ছেলে শত শত মানুষের রোগ ভালো করেছে বলে রোগীরা আমাদের জানিয়েছেন। তার এই ক্ষমতা আল্লাহ প্রদত্ত। প্রথমে সে তার মাকে চিকিৎসা করে ভালো করেছে। পরে সুস্থ করেন এলাকার আঘাতপ্রাপ্ত স্থানীয় কয়েকজন ফুটবল খেলোয়াড়দের। এরপর থেকে জানাজানি শুরু হলে মানুষের ভীড় জমে। আল্লাহর নাম নিয়ে আমার ছেলে ফু দিয়ে দিলে অনেকেই সুস্থ হয়ে যায় বিধায় হাজার হাজার লোক আসে। এ জন্য আমার ছেলে আজ পর্যন্ত একটি টাকা কারো কাছে নেয়নি। এসময় তিনি তার ছেলেকে একজন আলেম বানাতে চান বলে দোয়া চান।

পড়ুন>> যাত্রীবাহী ভেবে পুলিশের গাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা: ডাকাত আটক -২

 

 

শেরপুর সিভিলে সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেন এটা সম্পূর্ণ কুসংস্কার। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন পদ্ধতিতে রোগ মুক্তির কোন ভিত্তি নেই।

 

 

এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অবৈজ্ঞানিক এবং কুসংস্কার বলে মনে হচ্ছে। যার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ঠিকানাসহ অভিযোগ পেলে উপজেলা প্রশাসন যথাযথ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শেরপুরে শিশু কবিরাজের ঝাড়ফুঁক নিতে আসা মানুষের ভীড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

 

 

 

শেরপুরে শিশু কবিরাজের ঝাড়ফুঁক নিতে আসা মানুষের ভীড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার

 

 

শেরপুরের শ্রীবরদি ৪ বছরের শিশুর ঝাড়ফুঁকের পানি ও তেল ব্যবহারে সুস্থ হচ্ছে অসুস্থ রোগীরা”- বিশ্বাসে শিশুর বাড়িতে প্রতিদিন ভীড় করছেন হাজারো মানুষ। খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে উপচে পড়া ভীড়! সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

 

 

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভাটি লঙ্গরপাড়ায় এমন খবরে মানুষের ভীড় বাড়লেও সচেতন মহল বলছেন, এটা কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস ছাড়া কিছুই নয়। ৪ বছরের শিশু কবিরাজের নাম ‘লাবীব।’ কাপড় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল ওয়াহাবের শিশুরটি আর শিশু নয়। এখন সে সবার গ্রহণযোগ্য একজন ‘শিশু কবিরাজ।’ তার স্বজন এবং রোগীদের দাবি, আল্লাহর নামে ঝাড়ফুঁক দেয়া তার তেল ব্যবহার করলে এবং পানি পান করে বহুলোক জটিল ও কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে।

 

 

 

 

প্রথমে তার পরিবারের সদস্যদের রোগ মুক্তি। পরে আত্বীয় স্বজনের ও রোগমুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাসহ জেলার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার হাজার মানুষ। এরপর থেকেই বিভিন্ন রোগীকে ঝাড়ফুঁক দিয়ে যাচ্ছেন শিশু কবিরাজ। তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটা আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতা।

পড়ুন>>তাহিরপুর পর্যটন কেন্দ্র বারেকের টিলা চোরাচালানের নিরাপদ

 

 

 

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি বাবার সাথে পানি দিয়ে খেলছে। ২জন বালতি বালতি পানি এনে বোতলে ভরছেন। বাবা তাকে খেলাধুলা বন্ধ করে পানিতে ফু দিতে বলছে। অমনি ছেলেটি মাথা এগিয়ে পানিতে ফু দিচ্ছে।

 

 

অপরদিকে শত শত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে এক এক করে পানি ও তেলের বোতল এগিয়ে শিশুটির মুখের কাছে ধরছেন। আবার কখনও শিশুটি তার বাবার কোলে বসে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের হাতের পানি ভর্তি বোতল ও তেলের শিশিতে ফুঁক দিচ্ছেন।  প্রতিদিন সকাল ১০টা এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২ ধাপে চলে এই ঝাড়ফুঁক বা শিশু কবিরাজের চিকিৎসা। রোগীর মধ্যে নারীর সংখ্যা সবচে বেশি।

 

 

 

স্থানীয় হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার দ্বিতীয় বারের মতো স্ট্রোক হওয়ার পর একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারতাম না। এই শিশু কবিরাজের চিকিৎসায় আমি এখন সম্পূর্ন সুস্থ হয়েছি। এখন লাঠি ছাড়িই দ্রুতবা হাঁটতে পারি। শিশুর বাবা বলেন, আমার ছেলে শত শত মানুষের রোগ ভালো করেছে বলে রোগীরা আমাদের জানিয়েছেন। তার এই ক্ষমতা আল্লাহ প্রদত্ত। প্রথমে সে তার মাকে চিকিৎসা করে ভালো করেছে। পরে সুস্থ করেন এলাকার আঘাতপ্রাপ্ত স্থানীয় কয়েকজন ফুটবল খেলোয়াড়দের। এরপর থেকে জানাজানি শুরু হলে মানুষের ভীড় জমে। আল্লাহর নাম নিয়ে আমার ছেলে ফু দিয়ে দিলে অনেকেই সুস্থ হয়ে যায় বিধায় হাজার হাজার লোক আসে। এ জন্য আমার ছেলে আজ পর্যন্ত একটি টাকা কারো কাছে নেয়নি। এসময় তিনি তার ছেলেকে একজন আলেম বানাতে চান বলে দোয়া চান।

পড়ুন>> যাত্রীবাহী ভেবে পুলিশের গাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা: ডাকাত আটক -২

 

 

শেরপুর সিভিলে সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন বলেন এটা সম্পূর্ণ কুসংস্কার। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন পদ্ধতিতে রোগ মুক্তির কোন ভিত্তি নেই।

 

 

এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অবৈজ্ঞানিক এবং কুসংস্কার বলে মনে হচ্ছে। যার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ঠিকানাসহ অভিযোগ পেলে উপজেলা প্রশাসন যথাযথ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

 

 

Facebook Comments Box