দুর্গাপূজায় উপকরণের চড়া দাম ও বাজেটের অভাবে বিপাকে প্রতিমাশিল্পীরা
- আপডেট সময় : ০৩:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
শরৎ এলেই কর্মব্যস্ততায় দিন কাটে মৃৎশিল্পীদের। বরিশাল নগরের বিএম কলেজ সড়ক সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী শংকর মঠের পূজামণ্ডপে এখন প্রতিমা গড়ার শেষ মুহূর্তের মহাকর্মযজ্ঞ। কিন্তু এই শিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় যখন দেবী দুর্গার অবয়ব ফুটে উঠছে, তখনই তাদের মনে বাজছে বিষাদের সুর। একদিকে আকাশচুম্বী উপকরণের খরচ, অন্যদিকে সীমিত বাজেট—এই দুইয়ের চাপে পড়ে পেশা টিকিয়ে রাখাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের জন্য।
মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসের দাম এবার অনেক বেশি। গত বছর যে ৫০ কেজির মাটির বস্তা ৩৫০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন কিনতে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। একইভাবে ১৬০ টাকার পাট বেড়ে হয়েছে ২২০ টাকা এবং ৬০ টাকার চট কিনতে হচ্ছে ৮০ টাকায়। এছাড়া বাঁশ, খড়, শণ, সুতলি ও রঙের দামও অস্বাভাবিক বেড়েছে। সেই তুলনায় পূজা কমিটিগুলোর বরাদ্দকৃত বাজেট বাড়েনি মোটেও।
বরিশাল চকবাজার দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি মৃণাল কান্তি সাহার ভাষ্যমতে, আর্থিক সংকটের কারণে এবার বেশিরভাগ মণ্ডপের বাজেট কমেছে। আগে যেখানে পূজার বাজেট ৭০-৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫–২০ লাখ টাকা পর্যন্ত থাকত, সেখানে এবার অধিকাংশের বাজেট ৭০-৮০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩-৪ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বড় বাজেটের পূজার সংখ্যা এবার খুবই কম। ফলে শিল্পী ও আয়োজক—উভয় পক্ষই এক ধরনের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বাজেট ও উপকরণের দামের এই ব্যবধানের প্রভাব সরাসরি পড়েছে শিল্পীদের আয়ে। বাকেরগঞ্জের কলসকাঠির শিল্পী যোগেশ পাল আক্ষেপ করে বলেন, এখন লাভের চিন্তা বাদ দিয়ে কেবল পূর্বপুরুষের পেশাটি ধরে রাখার তাগিদেই তারা কাজ করছেন। খরচ কমাতে গিয়ে অনেক শিল্পী খাবারের তালিকায়ও কাটছাঁট করছেন। এমনও দেখা গেছে, তিন বেলা পেট ভরে খাওয়া শিল্পী এখন দিনভর এক বা দুই বেলা খেয়েই প্রতিমা গড়ার কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে বরিশালে প্রতিমা গড়তে আসা শিল্পী কার্তিক পালের অভিজ্ঞতাও একই রকম। গত বছর তিনি ১৫টি পূজামণ্ডপের কাজ করলেও এবার তা কমিয়ে ১২টিতে নামিয়ে এনেছেন। এর মধ্যে বরিশালে ছয়টি, চাঁদপুরে একটি এবং ফরিদপুরে পাঁচটি মণ্ডপে কাজ করছেন তিনি। গত বছর শংকর মঠে প্রতিমা তৈরির জন্য পাঁচজন মিলে যে এক লাখ টাকা পেয়েছিলেন, এবার সেই একই কাজ করতে হচ্ছে মাত্র ৮০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ আয়ের তুলনায় পরিশ্রম ও খরচ উভয়ই বেড়েছে।
বরিশাল জেলা ও মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলা ও মহানগরে মোট ৬৩৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, গত বছর যা ছিল ৬৪০টি। ইতিমধ্যে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতিমূলক সভায় মণ্ডপের নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিল্পীদের এই মানবেতর অবস্থার প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান চারুকলা বরিশালের সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, মৃৎশিল্পীদের টিকে থাকা সত্যিই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাদের কিছুটা উৎসাহ দিতে চারুকলার পক্ষ থেকে প্রতিবছর মৃৎশিল্পী সম্মাননার আয়োজন করা হয়। এবারও পূজা উপলক্ষ্যে ষষ্ঠী ও সপ্তমীর দিন মৃৎশিল্প প্রদর্শনী ও সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কিছুটা হলেও শিল্পীদের মনে আশার সঞ্চার করবে।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























