ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কোটা আন্দোলনকারী ছেলেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে বাবার মৃত্যু

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০২৪ ২২৪ বার পড়া হয়েছে

কোটা আন্দোলনকারী ছেলেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে বাবার মৃত্যু

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কোটা আন্দোলনকারী ছেলেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে বাবার মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফ মোহাম্মদ আলী নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ছেলে আলীকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা সামছুল আলম মামুন মারা গেছেন।

পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাবার জানাজায় অংশ নিতে আদালত তাকে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্যারোলে জামিন দেন।

নিহত মামুন লক্ষ্মীপুর পৌরশহরের মজুপুর এলাকার কালু হাজি সড়কের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার আলী চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীপুরে আন্দোলনের কর্মসূচিতে আলী অংশ নিয়েছিল। সোমবার (২৯ জুলাই) রাতে আলীকে আটক করতে পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালায়। আলী ঘুমে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

এ সময় ছেলে না নিতে তার বাবা মামুন বাধা দেন। ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কিনা জানতে চাইলে তাও বলেনি পুলিশ। ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে মামুন মারা যান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের দায়ের করা নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আলীকে আদালতে পাঠানো হয়। এতে আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমান বিষয়টি আমলে নেন। পরে সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মোহাম্মদ সামছুল আলমের জিম্মায় আলীকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে নির্দিষ্ট সময় (মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত) দিয়ে জামিন দেন।

সাইফ মোহাম্মদ আলীর আইনজীবী মহসিন কবির মুরাদ বলেন, আলীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। মামলা ছাড়াই পুলিশ তাকে আটক করে। পরে পুলিশ তাকে নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

আটকের বিষয়টি তার বাবা মামুন সহ্য করতে পারেননি। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি মারা যান। ঘটনাটি উপস্থাপন করে আমরা আদালতে আলীর জামিন চেয়েছিলাম। আদালত তাকে জানাজায় অংশ নিতে জামিন দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার আলীর মা তাহমিনা আক্তার নাসরিন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে রাজনীতি করে না। তার নামে কোনো মামলাও ছিল না। পুলিশ জোর করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। তা সহ্য করতে না পেরে আলীর বাবা মারা গেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ইয়াছিন ফারুক মজুমদার বলেন, নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি সকালে শুনেছি। একই ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কোটা আন্দোলনকারী ছেলেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে বাবার মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০২৪

কোটা আন্দোলনকারী ছেলেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে বাবার মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফ মোহাম্মদ আলী নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ছেলে আলীকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা সামছুল আলম মামুন মারা গেছেন।

পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাবার জানাজায় অংশ নিতে আদালত তাকে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্যারোলে জামিন দেন।

নিহত মামুন লক্ষ্মীপুর পৌরশহরের মজুপুর এলাকার কালু হাজি সড়কের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার আলী চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীপুরে আন্দোলনের কর্মসূচিতে আলী অংশ নিয়েছিল। সোমবার (২৯ জুলাই) রাতে আলীকে আটক করতে পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালায়। আলী ঘুমে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

এ সময় ছেলে না নিতে তার বাবা মামুন বাধা দেন। ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কিনা জানতে চাইলে তাও বলেনি পুলিশ। ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে মামুন মারা যান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের দায়ের করা নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আলীকে আদালতে পাঠানো হয়। এতে আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমান বিষয়টি আমলে নেন। পরে সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মোহাম্মদ সামছুল আলমের জিম্মায় আলীকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে নির্দিষ্ট সময় (মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত) দিয়ে জামিন দেন।

সাইফ মোহাম্মদ আলীর আইনজীবী মহসিন কবির মুরাদ বলেন, আলীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। মামলা ছাড়াই পুলিশ তাকে আটক করে। পরে পুলিশ তাকে নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

আটকের বিষয়টি তার বাবা মামুন সহ্য করতে পারেননি। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি মারা যান। ঘটনাটি উপস্থাপন করে আমরা আদালতে আলীর জামিন চেয়েছিলাম। আদালত তাকে জানাজায় অংশ নিতে জামিন দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার আলীর মা তাহমিনা আক্তার নাসরিন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে রাজনীতি করে না। তার নামে কোনো মামলাও ছিল না। পুলিশ জোর করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। তা সহ্য করতে না পেরে আলীর বাবা মারা গেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ইয়াছিন ফারুক মজুমদার বলেন, নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি সকালে শুনেছি। একই ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে।

Facebook Comments Box