সংরক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে হিমাগার কর্তৃপক্ষ
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ ৩৫৭ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর বাজারে শীতকালীন শাক সবজী মাঝে গোলাপী আর সাদা রংয়ের নতুন আলু শোভা পাচ্ছে। এসব আলূ আগাম চাষ করেছেন চাষীরা।এখন মৌসুমী আলু লাগানো প্রায় শেষ। অবস্থায় আলু ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে আলু বের করছেনা। এদিকে সংরক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে হিমাগার কর্তৃপক্ষ।
এসব আলূ মাঠ থেকে তুলতে দুই আড়াই মাস সময় লাগবে। চলতি মৌসুমে আগাম চাষ করা আলু বাজারে আসতেই ক্রেতার নজর নতুন আলুর দিকে। পুরাতন আলুর ক্রেতা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে হিমাগারে রাখা আলুর উপর।
শুরুতে দাম কিছুটা বেশী থাকলেও এখন মিলছে কুড়ি পচিশ টাকা কেজিতে। স্বাদের কারণে নতুন আলুর দিকে ঝুকছেন ক্রেতা।
মহা বিপাকে পড়েছেন হিমাগারে রাখা আলু ব্যবসায়ী ও চাষীরা। বেশী দামের আশায় হিমাগারে রাখা আলু ধীরে ধীরে বাজারজাত করেছেন। এখন বাজারে নতুন আলুর কারণে পুরাতন আলুর চাহিদা কমে গেছে।
“এখনো কোল্ডস্টোরেজে প্রচুর আলু রয়েছে। হিমাগার কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে দ্রুত হিমাগার খালি হয়। নতুন আলু রাখার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।”
কিন্তু বাজারে এখন আলুর যা দাম তাতে লাভ তো দূরে থাক হিমাগার থেকে আলু বের করে বাজারে নিয়ে যাবার মত খরচ উঠছেনা। খুচরো বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে দশ বারো টাকা কেজি।
হিমাগারের কাছে আরো কম। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে আলু বের করছেনা। এদিকে সংরক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে হিমাগার কর্তৃপক্ষ। এবার সবকিছুর দাম বেশ বাড়তি থাকলেও আলুর বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।
বছরজুড়ে গড়ে সব্বোর্চ কেজি প্রতি দাম ছিল পচিশ টাকা। অথচ গত মওসুমে অনেক বেশী দামে আলু কিনে স্টোরেজ করেছিলেন চাষী ব্যবসায়ী আর মওসুমী ব্যবসায়ীরা। এবার সবাই লোকসানে পড়েছেন। আলুর দামে মার খাওয়ার প্রভাব পড়েছে চলতি আলু মওসুমের আবাদে।
এবার আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টর। গত মৌসুমে চাষ হয়েছিল সাড়ে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার তিন হাজার হেক্টর জমিতে চাষ কম হবে।
কারণ আলুর কাংখিত দাম না পাওয়ায় লোকসানের জন্য আবাদ বিমুখ হয়েছে চাষীরা। চাষীরা বলছেন যে আলু বিক্রি করে আবাদ করব সে আলু এখনো গুদাম বন্দী। ফলে বাধ্য হয়ে ঋণ নিয়ে সামান্য কিছু জমিতে আবাদ করেছেন।
একজন আলু ব্যবসায়ী বলেন, গত মৌসুমে এক বস্তা (৬৫) আলু কিনেছেন এগারো’শ টাকায়। আর হিমাগার খরচ চারশো টাকা। সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে পনের’শ টাকা। আর এখন সেই আলু বিক্রি করছেন প্রতিবস্তা সাতশো টাকা।
খালেক নামে একজন ব্যবসায়ী জানান, বাজারের অবস্থা ভালনা বুঝতে পারায় সারা বছর আলু রাখার পর গত নভেম্বরে আলু বিক্রি করে ষাট হাজার টাকা লোকসান গুনেছেন।
হিমাগারের লোকজন বলেন, আমরা আলু রাখা লোকজনকে ফোন করে করে তা বের করার জন্য বলা হলেও তাতে তারা আলু বের করছেন না। আলু নিয়ে এমন গোলমেলে অবস্থায় বিপাকে রয়েছেন আলু মজুদকারী আর হিমাগার মালিকরা।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























