ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ শুরুর অনুমোদন পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুমতি প্রদান করে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হলো।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন সেফটি ভালভের প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই অনুমোদনের বিষয়টি এতদিন আটকে ছিল। তবে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বায়রার পক্ষ থেকে এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এখনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।

অনুমোদনের পর এখন চুল্লিতে স্বল্প শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ায় চুল্লির নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। এই পর্যায়ের কাজ শেষ করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় প্রয়োজন হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্রমান্বয়ে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে এবং এরপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রস্তুতি শুরু হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে। পরবর্তী ধাপে টারবাইন ও জেনারেটর চালুর মাধ্যমে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই সফল পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পরও কেন্দ্রটি প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যার পর এটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। এটি অর্জিত হলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বাংলাদেশ। এ ঘটনা বিদ্যুৎ খাতে নতুন একটি টেকসই উৎস যুক্ত করার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার নতুন যুগের সূচনা করবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলল

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ শুরুর অনুমোদন পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুমতি প্রদান করে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হলো।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন সেফটি ভালভের প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই অনুমোদনের বিষয়টি এতদিন আটকে ছিল। তবে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বায়রার পক্ষ থেকে এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এখনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।

অনুমোদনের পর এখন চুল্লিতে স্বল্প শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ায় চুল্লির নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। এই পর্যায়ের কাজ শেষ করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় প্রয়োজন হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্রমান্বয়ে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে এবং এরপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রস্তুতি শুরু হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে। পরবর্তী ধাপে টারবাইন ও জেনারেটর চালুর মাধ্যমে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই সফল পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পরও কেন্দ্রটি প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যার পর এটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। এটি অর্জিত হলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বাংলাদেশ। এ ঘটনা বিদ্যুৎ খাতে নতুন একটি টেকসই উৎস যুক্ত করার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার নতুন যুগের সূচনা করবে।

Facebook Comments Box