ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনসিসি ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ তাড়াশ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন দোহা–রিয়াদ রুটে কাতার এয়ারওয়েজের একাধিক ফ্লাইট বাতিল বিরল ও পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা, ৫৫ মণ্ডপের নিরাপত্তায় জোর মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশন বণ্টন নিয়ে পরিবারের বিরোধ তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা জনগণের কাছে ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান

রাজশাহী-চাঁপাই মহাসড়কে বেপরোয়া ডাম্প ট্রাকের দাপট, জনজীবনে আতঙ্ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী বালু ও মাটিবোঝাই ডাম্প ট্রাক জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ চালকদের দ্বারা পরিচালিত এসব ভারী যানের কারণে সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া পদ্মা নদী থেকে উত্তোলন করা বালু ও মাটি বিধিমালা অমান্য করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে, যা নদীর তীর রক্ষা বাঁধকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। সেই বালুগুলো জেলার ভেতরসহ আশপাশে জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বালু ও ধুলোর কারনে শ্বাস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। এতে অনেকেই দুর্ঘটনায় পড়ছেন প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ীর পদ্মার বিভিন্ন বালুঘাট থেকে দিনরাত এসব ট্রাক বালু ও মাটি পরিবহন করছে। প্রতিটি ট্রাকে ৩০ থেকে ৪০ টন পর্যন্ত ওজন বহন করা হচ্ছে, অথচ এসব সড়কের সর্বোচ্চ ভারবহন ক্ষমতা মাত্র ১৫ থেকে ২০ টন। অতিরিক্ত ওজনের কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোদাগাড়ীর পদ্মার বালুঘাটগুলো থেকে দিনরাত বালু ও নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে বালু মাফিয়ারা।

গোদাগাড়ীর সেখেড়পাড়া, ভাটোপাড়া, ফুলতলা, সারেংপুর এবং সুলতানগঞ্জ গাঙ্গবাড়ীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু ও মাটিবোঝাই শত শত ডাম্প ট্রাক ও ট্রাক্টর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সেখেড়পাড়ার বাসিন্দা আল-আমিন জানান, প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাক বেপরোয়া গতিতে চলায় সাধারণ মানুষের জন্য চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান নাচোলগামী মোটরসাইকেল আরোহী শরীফ, যিনি জানান যে ট্রাকের ধুলাবালিতে চোখ-মুখ ভরে গেলেও প্রতিকার পাওয়ার কোনো উপায় নেই।

পরিবেশের ওপরও পড়ছে মারাত্মক প্রভাব। ভাটোপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন জানান, ট্রাক থেকে উড়ে আসা বালু-ধুলায় বাতাস ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বালু ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ায় জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন বাসিন্দারা। এছাড়া সড়কগুলোর পাশে বিদ্যালয় ও হাটবাজার থাকায় শিক্ষার্থী ও পথচারীরা সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন। হর্ণ, ধুলা বালি আর কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সড়ক।

অটোচালক দুলাল বলেন, সড়কের বেপরোয়া বালুবাহী ট্রাকের কারণে গাড়ি চালানো এখন অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নাগরিক স্বার্থ রক্ষা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান জানান, বালুবাহী ট্রাকের কারণে সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং পিচ্ছিল সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, মহাসড়কের পাশে থাকা ইটভাটাগুলোতেও এসব ট্রাক বালু ও মাটি সরবরাহ করছে। এক্সেল লোড মেশিন বসানোর কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর তথ্যমতে, এই মহাসড়কে বছরে শতাধিক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, যার অন্যতম কারণ এসব যানের বেপরোয়া চলাচল। গোদাগাড়ী ট্রাফিক সার্জেন্ট আমির হামজা জানান, ইদানিং ডাম্প ট্রাকের দৌরাত্ম্য কিছুটা বেড়েছে এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত মামলা করছেন। তিনি চালক ও মালিকদের গতিসীমা ও আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর ব্যতিক্রম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসী ট্রাকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিলেও রহস্যজনক কারণে নীরব থাকছে প্রশাসন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী-চাঁপাই মহাসড়কে বেপরোয়া ডাম্প ট্রাকের দাপট, জনজীবনে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৭:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী বালু ও মাটিবোঝাই ডাম্প ট্রাক জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ চালকদের দ্বারা পরিচালিত এসব ভারী যানের কারণে সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া পদ্মা নদী থেকে উত্তোলন করা বালু ও মাটি বিধিমালা অমান্য করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে, যা নদীর তীর রক্ষা বাঁধকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। সেই বালুগুলো জেলার ভেতরসহ আশপাশে জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বালু ও ধুলোর কারনে শ্বাস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। এতে অনেকেই দুর্ঘটনায় পড়ছেন প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ীর পদ্মার বিভিন্ন বালুঘাট থেকে দিনরাত এসব ট্রাক বালু ও মাটি পরিবহন করছে। প্রতিটি ট্রাকে ৩০ থেকে ৪০ টন পর্যন্ত ওজন বহন করা হচ্ছে, অথচ এসব সড়কের সর্বোচ্চ ভারবহন ক্ষমতা মাত্র ১৫ থেকে ২০ টন। অতিরিক্ত ওজনের কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোদাগাড়ীর পদ্মার বালুঘাটগুলো থেকে দিনরাত বালু ও নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে বালু মাফিয়ারা।

গোদাগাড়ীর সেখেড়পাড়া, ভাটোপাড়া, ফুলতলা, সারেংপুর এবং সুলতানগঞ্জ গাঙ্গবাড়ীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু ও মাটিবোঝাই শত শত ডাম্প ট্রাক ও ট্রাক্টর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সেখেড়পাড়ার বাসিন্দা আল-আমিন জানান, প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাক বেপরোয়া গতিতে চলায় সাধারণ মানুষের জন্য চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান নাচোলগামী মোটরসাইকেল আরোহী শরীফ, যিনি জানান যে ট্রাকের ধুলাবালিতে চোখ-মুখ ভরে গেলেও প্রতিকার পাওয়ার কোনো উপায় নেই।

পরিবেশের ওপরও পড়ছে মারাত্মক প্রভাব। ভাটোপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন জানান, ট্রাক থেকে উড়ে আসা বালু-ধুলায় বাতাস ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বালু ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ায় জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন বাসিন্দারা। এছাড়া সড়কগুলোর পাশে বিদ্যালয় ও হাটবাজার থাকায় শিক্ষার্থী ও পথচারীরা সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন। হর্ণ, ধুলা বালি আর কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সড়ক।

অটোচালক দুলাল বলেন, সড়কের বেপরোয়া বালুবাহী ট্রাকের কারণে গাড়ি চালানো এখন অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নাগরিক স্বার্থ রক্ষা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান জানান, বালুবাহী ট্রাকের কারণে সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং পিচ্ছিল সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, মহাসড়কের পাশে থাকা ইটভাটাগুলোতেও এসব ট্রাক বালু ও মাটি সরবরাহ করছে। এক্সেল লোড মেশিন বসানোর কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর তথ্যমতে, এই মহাসড়কে বছরে শতাধিক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, যার অন্যতম কারণ এসব যানের বেপরোয়া চলাচল। গোদাগাড়ী ট্রাফিক সার্জেন্ট আমির হামজা জানান, ইদানিং ডাম্প ট্রাকের দৌরাত্ম্য কিছুটা বেড়েছে এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত মামলা করছেন। তিনি চালক ও মালিকদের গতিসীমা ও আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর ব্যতিক্রম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসী ট্রাকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিলেও রহস্যজনক কারণে নীরব থাকছে প্রশাসন।

Facebook Comments Box