দিল্লি সফরে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী: মোদি-সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক
- আপডেট সময় : ০৭:১৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বর্তমানে আকস্মিক সফরে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। গত সোমবার ঢাকা থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর তিনদিনের এই সফরসূচিতে তিনি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মঙ্গলবার সফরের শুরুতেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের মধ্যে এটি মোদির সঙ্গে তার দ্বিতীয় মুখোমুখি বৈঠক। মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায়দিনই তিনি বাংলাদেশ সরকারের কোনো না কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টার সঙ্গে মিলিত হন। গত এক সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও রেখেছেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দীনেশ ত্রিবেদীকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত সরকার সংকেত দিয়েছিল যে, বাংলাদেশ বিষয়ক সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছানোর সুযোগ থাকবে। এমনকি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাংশের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে এই দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দ্রুত পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরাসরি যোগাযোগের এই পথ তৈরি করা হয়েছে, যা প্রথাগত কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে সাধারণত সম্ভব হয় না।
দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি এই সফরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার এবং কৌশলগত সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধির উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও সুদৃঢ় করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। দিল্লিতে কূটনৈতিক মহলেও ত্রিবেদীর দিল্লি ছুটে আসা এবং একের পর এক বৈঠকের মাধ্যমে কী বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের বিষয় নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তাতে ত্রিবেদীর ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হাইকমিশনার বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সামরিক বোঝাপড়া, অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এবং যৌথ সহযোগিতার বিষয়গুলো সেনাপ্রধানের সামনে তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনার মাধ্যমে শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন ও রাজনৈতিক পুনর্মিলন নিয়ে যে মনোভাব লক্ষ্য করেছেন, তা-ও তিনি দিল্লিকে অবহিত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফরের পরবর্তী ধাপে তিনি ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দেশের বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০টি স্তরের ওয়ার্কিং গ্রুপ কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। আগামী ৮-৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























