২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ
- আপডেট সময় : ১১:১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। নতুন এই নীতিমালার আওতায় সারাদেশে সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তির আবেদন থেকে শুরু করে ফি প্রদান এবং ফল প্রকাশ—পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারি এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার নিয়ম রাখা হয়েছে। আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ভর্তির বয়সের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুসরণ করা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের জন্য একজন শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত ছাড়ের সুবিধা রাখা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের প্রতিটি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স ৬+ বছর ধরা হলেও আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত বয়সের শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবে।
প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী নির্বাচনে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দক্রম হিসেবে বেছে নিতে পারবে, তবে ডাবল শিফট স্কুলের ক্ষেত্রে উভয় শিফট পছন্দ করলে তা দুটি বিদ্যালয় হিসেবে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে লটারি প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। অপরদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির লিখিত পরীক্ষার পূর্ণমান নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০ নম্বরের (বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫, গণিত ২০) এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১০০ নম্বরের (বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০, গণিত ৪০) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষাগুলোর সময়কাল যথাক্রমে ১ ঘণ্টা ও ২ ঘণ্টা। এনসিটিবি-র পাঠ্যবইয়ের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে। প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই থেকে তৈরি করা হবে এবং প্রশ্নপত্র অবশ্যই মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে।
আবেদন ফি হিসেবে প্রথম শ্রেণির জন্য সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেশন চার্জসহ আনুষঙ্গিক ফি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর হবে। ঢাকা মহানগরীর সরকারি স্কুলগুলোতে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে, আর বাকি ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা নীতিমালায় আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের আওতাধীন এলাকার (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
নীতিমালায় বিভিন্ন কোটা সুবিধা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের দপ্তরের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর ভাই-বোনের জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়াও, সরকারি চাকরিজীবীদের বদলিজনিত কারণে সন্তানদের ভর্তির সুবিধার্থে প্রতি শাখায় অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আসন খালি রাখা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলাভিত্তিক পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সার্বিক তদারকি করবে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























