ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

টেস্ট ক্রিকেটের বৈষম্য দূর করতে ২৭ বছর আগের প্রস্তাব মনে করালেন স্টিভ ওয়াহ

সৃষ্টি ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

টেস্ট ক্রিকেটের বৈষম্য দূর করতে ২৭ বছর আগের প্রস্তাব মনে করালেন স্টিভ ওয়াহ

 

ডারউইনে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ যে চমক দেখিয়েছে, তাকে অজিদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিশ্বজয়ী অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নিজের ২৭ বছর আগের একটি বৈপ্লবিক প্রস্তাবের কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

ডারউইন টেস্টের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াহ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই জয় অত্যন্ত বিস্ময়কর। টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো দলের এমন পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

পড়ুন>>নেপাল ও তিব্বতে দুর্যোগে ১৭৭ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ দেড় হাজার পর্যটক

তিনি মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে এই ফরম্যাটের প্রতি আগ্রহী করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

এই লক্ষ্যেই ১৯৯৯ সালে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে সব দেশের খেলোয়াড়দের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও সমান ‘ম্যাচ ফি’ চালু করা উচিত। ওয়াহর মতে, অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো শক্তিশালী ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের ক্রিকেটাররা যে পরিমাণ অর্থ পান, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশের ক্রিকেটাররা তার চেয়ে অনেক কম পান। এই আর্থিক বৈষম্যই ক্রিকেটারদের টি-টোয়েন্টি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দিকে ধাবিত করছে।

পড়ুন>>বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার

পুরনো সেই প্রস্তাবের কথা আক্ষেপের সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, ২৭ বছর আগে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যেন বিশ্বের সব টেস্ট ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি সমান হয়। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা একজন ক্রিকেটার যেন ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারের সমান পারিশ্রমিক পান, সেই ব্যবস্থা করা জরুরি। দুর্ভাগ্যবশত, এত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রস্তাব আলোর মুখ দেখেনি।

অজি কিংবদন্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, টি-টোয়েন্টির রঙিন দুনিয়া থেকে তরুণ ক্রিকেটারদের লাল বলের ক্রিকেটে ধরে রাখতে হলে এই সার্বজনীন ফি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটের এই দীর্ঘ ফরম্যাটকে বাঁচাতে হলে বৈষম্য দূর করার কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের অগ্রগতি ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এমন উত্থান ইতিবাচক। তবে এই ধারা বজায় রাখতে ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা ও যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ওয়াহর এই বক্তব্য টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও বড় ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে আর্থিক বৈষম্য যে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলছে, তা তার কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

টেস্ট ক্রিকেটের বৈষম্য দূর করতে ২৭ বছর আগের প্রস্তাব মনে করালেন স্টিভ ওয়াহ

আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

টেস্ট ক্রিকেটের বৈষম্য দূর করতে ২৭ বছর আগের প্রস্তাব মনে করালেন স্টিভ ওয়াহ

 

ডারউইনে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ যে চমক দেখিয়েছে, তাকে অজিদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিশ্বজয়ী অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নিজের ২৭ বছর আগের একটি বৈপ্লবিক প্রস্তাবের কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

ডারউইন টেস্টের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াহ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই জয় অত্যন্ত বিস্ময়কর। টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো দলের এমন পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

পড়ুন>>নেপাল ও তিব্বতে দুর্যোগে ১৭৭ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ দেড় হাজার পর্যটক

তিনি মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে এই ফরম্যাটের প্রতি আগ্রহী করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

এই লক্ষ্যেই ১৯৯৯ সালে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে সব দেশের খেলোয়াড়দের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও সমান ‘ম্যাচ ফি’ চালু করা উচিত। ওয়াহর মতে, অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো শক্তিশালী ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের ক্রিকেটাররা যে পরিমাণ অর্থ পান, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশের ক্রিকেটাররা তার চেয়ে অনেক কম পান। এই আর্থিক বৈষম্যই ক্রিকেটারদের টি-টোয়েন্টি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দিকে ধাবিত করছে।

পড়ুন>>বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার

পুরনো সেই প্রস্তাবের কথা আক্ষেপের সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, ২৭ বছর আগে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যেন বিশ্বের সব টেস্ট ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি সমান হয়। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা একজন ক্রিকেটার যেন ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারের সমান পারিশ্রমিক পান, সেই ব্যবস্থা করা জরুরি। দুর্ভাগ্যবশত, এত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রস্তাব আলোর মুখ দেখেনি।

অজি কিংবদন্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, টি-টোয়েন্টির রঙিন দুনিয়া থেকে তরুণ ক্রিকেটারদের লাল বলের ক্রিকেটে ধরে রাখতে হলে এই সার্বজনীন ফি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটের এই দীর্ঘ ফরম্যাটকে বাঁচাতে হলে বৈষম্য দূর করার কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের অগ্রগতি ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এমন উত্থান ইতিবাচক। তবে এই ধারা বজায় রাখতে ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা ও যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ওয়াহর এই বক্তব্য টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও বড় ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে আর্থিক বৈষম্য যে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলছে, তা তার কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Facebook Comments Box