ঢাকা ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন: দুই হাজার টন উৎপাদনের সম্ভাবনা চীনের ঋণের বদলে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী বিরোধী দলকে ভোট দিলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে,নির্বাচনী প্রচারনায়-মির্জা ফয়সল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না- ইসি সানাউল্লাহ দৌলতপুরে জোড়া খুনের মামলার শুটার টুয়েল ফরাজী ১ দিনের রিমান্ডে: চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান তাহিরপুরের অভিযান দেখলেই ওষুধের দোকান বন্ধ রাণীশংকৈলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন  ডোমারে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিভে গেল ২৬ বছরের প্রাণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা

কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জালিয়াতির মাধ্যমে ছাত্র ভর্তি

সাইয়‍্যেদ বাবু সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ৪৬৪ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জালিয়াতির মাধ্যমে ছাত্র ভর্তি

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জালিয়াতির মাধ্যমে ছাত্র ভর্তি।

কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ভর্তিতে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ এবং লটারির ফলাফল পাশ কাটিয়ে প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। স্কুলটির ভর্তি কমিটির একাধিক দায়িত্বশীল শিক্ষকের সাথে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত প্রমাণক এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আরা হক সম্পুর্ণ বিধি বহির্ভুতভাবে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করেছেন। যা সরকারি নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। লটারি প্রক্রিয়ার ভর্তি কার্যক্রমে প্রধান শিক্ষকতো বটেই, ভর্তি কমিটিও লটারি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনও শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে পারেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৪ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে প্রভাতী ও দিবা শিফটে ক ও খ শাখা মিলে মোট ২২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

সে অনুযায়ী কেন্দ্রীয় লটারির মাধ্যমে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। গত ৩ ডিসেম্বর শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় । ভর্তি কার্যক্রমের প্রথম দিনেই প্রধান শিক্ষক তাড়াহুড়ো করে ৫ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুপারিশ করেন।

এদের কেউই লটারিতে ভর্তির সুযোগ পায়নি। এমন কি এক শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদনও করেনি। ভর্তি কমিটির সদস্য শিক্ষকরা এতে আপত্তি জানালে প্রধান শিক্ষক জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে নিয়েছেন জানিয়ে তাদেরকে ভর্তি করাতে বলেন।

পরে ওই ৫ শিক্ষার্থীকে প্রভাতী শিফটে ৬ ষ্ঠ শ্রেণির ‘ক’ শাখায় ভর্তি করা হয়। যাদের মধ্যে চার শিক্ষার্থীর ভর্তি ক্রম ১৪, ১৫, ১৬ এবং ১৭। অপর শিক্ষার্থীর ভর্তি রোল নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভর্তি কমিটি একাধিক সদস্য এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ যে ৫ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে তাদের নাম কিংবা রোল প্রকাশিত ফলাফলের কোনও পর্যায়ে নেই। তারা কোনও কোটাতেও স্থান পায়নি।

কিন্তু প্রধান শিক্ষক কোন বিধি বা ক্ষমতা বলে তাদেরকে ভর্তি করালেন তা বোধগম্য নয়। এতে করে লটারিতে স্থান পাওয়া ৫ শিক্ষার্থীর অধিকার হরণ করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘ ভর্তিকৃত ৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের চার শিক্ষকের সন্তান। অপর জন বাইরের। তারা শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক বরাবর ভর্তির আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

প্রকাশিত লটারির ফলাফল তালিকায় তাদের কোনও নাম নেই। লিখিত আবেদনে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোটার (এমই) কথা উল্লেখ করলেও সে কোটাতেও তাদের সন্তানরা স্থান পায়নি। ওই কোটায় অন্য শিক্ষার্থীরা সুযোগ পেয়েছে।

কিন্তু ওই ৫ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের করা আবেদনে প্রধান শিক্ষক ভর্তির লিখিত সুপারিশ করেছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তাদেরকে ভর্তি করাতে বাধ্য হয়েছেন।’

ওই শিক্ষক আরও বলেন, ‘ মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনার পরও এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পূর্ণ বেআইনি। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাবেন। ধারণা করছি অবসরের আগে এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।’

ভর্তি কমিটির এক শিক্ষক বলেন, ‘ প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আরা স্কুলে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম করছেন। গত বছরও তিনি নিয়ম বহির্ভুতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছেন। এভাবে তিনি জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন করছেন। এসবের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি সহ যেকোনও কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই অনলাইনে আবেদন করে লটারিতে টিকতে হবে।

প্রকাশিত ফলাফলের মেধা তালিকা কিংবা অপেক্ষমান তালিকায় নাম না থাকলে কোনও শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ নেই। তবে সরকারি কর্মচারির বদলিজনিত কারণে তাদের সন্তানকে বছরের অন্য সময়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শর্ত স্বাপেক্ষে ভর্তি কমিটি শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারে। কিন্তু সেটাও প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে নয়। ’

লটারির বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ প্রকাশিত ফলাফলের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তির কোনও সুযোগ নেই। সরকারি কলেজের শিক্ষকের সন্তান হলেও তাদেরকে অনলাইনে আবেদন করে লটারিতে অংশ নি‌য়ে টিক‌তে হ‌বে।

এমন‌কি কোটাভুক্ত হ‌লেও লটা‌রি‌তে টিক‌তে হ‌বে। এর বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি কোনও বৈধ চর্চা হতে পারে না। এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা পরিপন্থি।’

জানতে চাইলে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আরা হক বলেন, ‘প্রকাশিত লটারির ফলাফলের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তির কোনও সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী ভ‌র্তির বিষ‌য়ে উচ্চ পর্যা‌য়ের ক‌মি‌টি র‌য়ে‌ছে। আমার একক সুপা‌রি‌শে কাউ‌কে ভ‌র্তির সু‌যোগ নেই। এভাবে কোনও শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনা ঘটেনি। আপনি রবিবার স্কুলে আসেন। আমরা বসে কথা বলবো।’

ত‌বে ওই শিক্ষার্থী‌দের ভ‌র্তি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত একা‌ধিক শিক্ষক ভ‌র্তির বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন। তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক অসত‌্য বল‌ছেন। তার লি‌খিত সুপা‌রি‌শ ও মৌ‌খিক নি‌র্দেশেই তা‌লিকা ব‌হির্ভুত ওই ৫ শিক্ষার্থী‌কে ভ‌র্তি করা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

তারা প্রত্যেকে ভ‌র্তি ফি জমা দি‌য়ে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন ক‌রে‌ছে। কিন্তু লটা‌রির ফলাফ‌লের প্রথম দফার মূল তা‌লিকা ও অ‌পেক্ষমান তা‌লিকায় তা‌দের নাম কিংবা রোল নেই।

ভর্তি কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘ আ‌মি এ ধরণের কোনও নির্দেশনা দেইনি। এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে আমার সাথে প্রধান শিক্ষকের কোনও কথাও হয়নি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জালিয়াতির মাধ্যমে ছাত্র ভর্তি

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জালিয়াতির মাধ্যমে ছাত্র ভর্তি।

কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ভর্তিতে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ এবং লটারির ফলাফল পাশ কাটিয়ে প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। স্কুলটির ভর্তি কমিটির একাধিক দায়িত্বশীল শিক্ষকের সাথে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত প্রমাণক এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আরা হক সম্পুর্ণ বিধি বহির্ভুতভাবে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করেছেন। যা সরকারি নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। লটারি প্রক্রিয়ার ভর্তি কার্যক্রমে প্রধান শিক্ষকতো বটেই, ভর্তি কমিটিও লটারি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনও শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে পারেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৪ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে প্রভাতী ও দিবা শিফটে ক ও খ শাখা মিলে মোট ২২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

সে অনুযায়ী কেন্দ্রীয় লটারির মাধ্যমে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। গত ৩ ডিসেম্বর শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় । ভর্তি কার্যক্রমের প্রথম দিনেই প্রধান শিক্ষক তাড়াহুড়ো করে ৫ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুপারিশ করেন।

এদের কেউই লটারিতে ভর্তির সুযোগ পায়নি। এমন কি এক শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদনও করেনি। ভর্তি কমিটির সদস্য শিক্ষকরা এতে আপত্তি জানালে প্রধান শিক্ষক জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে নিয়েছেন জানিয়ে তাদেরকে ভর্তি করাতে বলেন।

পরে ওই ৫ শিক্ষার্থীকে প্রভাতী শিফটে ৬ ষ্ঠ শ্রেণির ‘ক’ শাখায় ভর্তি করা হয়। যাদের মধ্যে চার শিক্ষার্থীর ভর্তি ক্রম ১৪, ১৫, ১৬ এবং ১৭। অপর শিক্ষার্থীর ভর্তি রোল নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভর্তি কমিটি একাধিক সদস্য এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ যে ৫ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে তাদের নাম কিংবা রোল প্রকাশিত ফলাফলের কোনও পর্যায়ে নেই। তারা কোনও কোটাতেও স্থান পায়নি।

কিন্তু প্রধান শিক্ষক কোন বিধি বা ক্ষমতা বলে তাদেরকে ভর্তি করালেন তা বোধগম্য নয়। এতে করে লটারিতে স্থান পাওয়া ৫ শিক্ষার্থীর অধিকার হরণ করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘ ভর্তিকৃত ৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের চার শিক্ষকের সন্তান। অপর জন বাইরের। তারা শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক বরাবর ভর্তির আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

প্রকাশিত লটারির ফলাফল তালিকায় তাদের কোনও নাম নেই। লিখিত আবেদনে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোটার (এমই) কথা উল্লেখ করলেও সে কোটাতেও তাদের সন্তানরা স্থান পায়নি। ওই কোটায় অন্য শিক্ষার্থীরা সুযোগ পেয়েছে।

কিন্তু ওই ৫ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের করা আবেদনে প্রধান শিক্ষক ভর্তির লিখিত সুপারিশ করেছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তাদেরকে ভর্তি করাতে বাধ্য হয়েছেন।’

ওই শিক্ষক আরও বলেন, ‘ মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনার পরও এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পূর্ণ বেআইনি। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রধান শিক্ষক অবসরে যাবেন। ধারণা করছি অবসরের আগে এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।’

ভর্তি কমিটির এক শিক্ষক বলেন, ‘ প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আরা স্কুলে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম করছেন। গত বছরও তিনি নিয়ম বহির্ভুতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছেন। এভাবে তিনি জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন করছেন। এসবের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি সহ যেকোনও কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই অনলাইনে আবেদন করে লটারিতে টিকতে হবে।

প্রকাশিত ফলাফলের মেধা তালিকা কিংবা অপেক্ষমান তালিকায় নাম না থাকলে কোনও শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ নেই। তবে সরকারি কর্মচারির বদলিজনিত কারণে তাদের সন্তানকে বছরের অন্য সময়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শর্ত স্বাপেক্ষে ভর্তি কমিটি শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারে। কিন্তু সেটাও প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে নয়। ’

লটারির বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ প্রকাশিত ফলাফলের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তির কোনও সুযোগ নেই। সরকারি কলেজের শিক্ষকের সন্তান হলেও তাদেরকে অনলাইনে আবেদন করে লটারিতে অংশ নি‌য়ে টিক‌তে হ‌বে।

এমন‌কি কোটাভুক্ত হ‌লেও লটা‌রি‌তে টিক‌তে হ‌বে। এর বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি কোনও বৈধ চর্চা হতে পারে না। এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা পরিপন্থি।’

জানতে চাইলে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আরা হক বলেন, ‘প্রকাশিত লটারির ফলাফলের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তির কোনও সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী ভ‌র্তির বিষ‌য়ে উচ্চ পর্যা‌য়ের ক‌মি‌টি র‌য়ে‌ছে। আমার একক সুপা‌রি‌শে কাউ‌কে ভ‌র্তির সু‌যোগ নেই। এভাবে কোনও শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনা ঘটেনি। আপনি রবিবার স্কুলে আসেন। আমরা বসে কথা বলবো।’

ত‌বে ওই শিক্ষার্থী‌দের ভ‌র্তি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত একা‌ধিক শিক্ষক ভ‌র্তির বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন। তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক অসত‌্য বল‌ছেন। তার লি‌খিত সুপা‌রি‌শ ও মৌ‌খিক নি‌র্দেশেই তা‌লিকা ব‌হির্ভুত ওই ৫ শিক্ষার্থী‌কে ভ‌র্তি করা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

তারা প্রত্যেকে ভ‌র্তি ফি জমা দি‌য়ে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন ক‌রে‌ছে। কিন্তু লটা‌রির ফলাফ‌লের প্রথম দফার মূল তা‌লিকা ও অ‌পেক্ষমান তা‌লিকায় তা‌দের নাম কিংবা রোল নেই।

ভর্তি কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘ আ‌মি এ ধরণের কোনও নির্দেশনা দেইনি। এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে আমার সাথে প্রধান শিক্ষকের কোনও কথাও হয়নি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।

 

Facebook Comments Box