ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর–রুহিয়া–ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং অসৎ উপায়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার মতো আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা লিখিত নালিশ জমা পড়েছে বিচারিক কমিটির কাছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি বিষয়ে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি প্রার্থীদের কাছে ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
এই আসনটিতে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, যিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ঢাকা মহানগরী (দক্ষিণ) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন। ভোটগ্রহণ যত কাছে আসছে, দুই প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও সমর্থকদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি ততই তীব্র হচ্ছে।
পড়ুন>>কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নিহত বেড়ে ১৯
জামায়াত প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত ১৩ অক্টোবর রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া মসজিদে এশার নামাজ শেষে গণসংযোগে বের হলে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা দেলাওয়ার হোসেনের প্রচারণায় বাধা দেন। এই ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনে দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে মোহাম্মদ আলমগীর বিচারিক কমিটিতে লিখিত নালিশ জানান।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী অভিযোগ করেন যে, জামায়াত সমর্থকেরা তাদের পোস্টার ও ব্যানার নষ্ট করছে। ১৬ অক্টোবর সদর উপজেলার জগন্নাথপুরের খড়কুটুর মোড়ে ধানের শীষের ব্যানার কেটে ফেলা এবং ১৭ অক্টোবর ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ব্যানার ছেঁড়াসহ প্রার্থীর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ আনা হয়, যদিও জামায়াত এসব দাবি অস্বীকার করেছে।
পড়ুন>>ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ
ধর্মীয় স্থান ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে পয়গাম আলী ১৪ অক্টোবর বিচারিক কমিটিতে আরও একটি লিখিত আবেদন করেন। সেখানে বলা হয়, জামায়াত প্রার্থী উপাসনালয় ব্যবহার করে ভোটারদের উসকানি দিচ্ছেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি ১৯ অক্টোবর দেলাওয়ার হোসেনকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।
এর আগে, ৯ অক্টোবর জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ তোলেন যে, মির্জা ফয়সল আমীন নির্বাচনী প্রচারকালে মুঠোফোনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তার সঙ্গে সেতু নির্মাণ নিয়ে কথা বলেছেন, যা ভোটারদের প্রলোভন দেখানোর শামিল। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ১৩ অক্টোবর দেলাওয়ার হোসেনকে প্রমাণ জমা দিতে বলা হয় এবং ১৫ অক্টোবর ফয়সল আমীনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয় কমিটি। ১৭ অক্টোবর ফয়সল আমীনের প্রতিনিধি ইন্তাজুল হক ব্যাখ্যা দেন। পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে কমিটি দেখতে পায় যে ঘটনাটি তফসিল ঘোষণার আগের, ফলে বিএনপির প্রার্থীকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট পয়গাম আলী বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জামায়াত প্রার্থী নিজেদের সম্ভাব্য পরাজয় টের পেয়ে নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে এবং মাঠ ছেড়ে পালানোর অজুহাত হিসেবে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। নিরপেক্ষ ভোট হলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে।’ দাঁড়িপাল্লার নিশ্চিত ভরাডুবি বুঝতে পেরে এখন জামায়াতের প্রার্থী ভোটের আগেই মাঠ ছাড়ার কৌশল খুঁজছেন।
আরও পড়ুন>>উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: একই পরিবারের ছয়জনসহ নিহত ১০
অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে বিএনপির সশস্ত্র কর্মীরা আমাদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে এবং কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। একটি সমমানের নির্বাচনের পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবিতে আমরা বিচারিক কমিটির দ্বারস্থ হয়েছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, এলাকার জনগণ চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দখলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এবার তাদের যোগ্য জবাব দেবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে ভোটাররা সরকারদলীয় লোকজনের চাঁদাবাজি, দখল, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রায় দেবেন।
উভয় পক্ষকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার তাগিদ দিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, একটি নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন সম্পাদন করতে প্রশাসন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যালোচনার জন্য পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎক্ষণাৎ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। কোথাও সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























