ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গঙ্গাচড়ায় ভুয়া পূজামণ্ডপের নামে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি এমন তিনটি মন্দিরের নামে সরকারি জিআর চাল বরাদ্দ ও উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, পূজা না হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্দিরের নামে চাল উত্তোলন করে তা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের গত ১১ অক্টোবরের বরাদ্দ তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেতগাড়ী ইউনিয়নে ২১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে মোট ১২ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় থাকা পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির, পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দির এবং দোন্দোরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে কোনো আয়োজন ছিল না। অথচ প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র রায় জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং বরাদ্দের কোনো নথিতে স্বাক্ষরও করেননি। তিনি দাবি করেন, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়ই এসব কাজ করেছেন। অন্যদিকে, পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায় জানান, ২০২৫ সাল থেকে তাদের মন্দিরে কোনো পূজা উদ্‌যাপন করা হয়নি। তিনি এই জালিয়াতির সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে দাবি করেন, এগুলো ‘অটোমেটিক’ ঠিক হয়ে যাবে। অন্যদিকে, পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় বিষয়টি ভুল হয়েছে স্বীকার করে চাল ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, বিষয়টি জানার পর প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই পূজা উদ্‌যাপন কমিটিকে তলব করা হয়েছে এবং পুরো বরাদ্দ ও চাল উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাহী কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার অবহেলা বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গঙ্গাচড়ায় ভুয়া পূজামণ্ডপের নামে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি এমন তিনটি মন্দিরের নামে সরকারি জিআর চাল বরাদ্দ ও উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, পূজা না হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্দিরের নামে চাল উত্তোলন করে তা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম এবং পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের গত ১১ অক্টোবরের বরাদ্দ তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেতগাড়ী ইউনিয়নে ২১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে মোট ১২ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় থাকা পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির, পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দির এবং দোন্দোরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে কোনো আয়োজন ছিল না। অথচ প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র রায় জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং বরাদ্দের কোনো নথিতে স্বাক্ষরও করেননি। তিনি দাবি করেন, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়ই এসব কাজ করেছেন। অন্যদিকে, পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায় জানান, ২০২৫ সাল থেকে তাদের মন্দিরে কোনো পূজা উদ্‌যাপন করা হয়নি। তিনি এই জালিয়াতির সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে দাবি করেন, এগুলো ‘অটোমেটিক’ ঠিক হয়ে যাবে। অন্যদিকে, পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় বিষয়টি ভুল হয়েছে স্বীকার করে চাল ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, বিষয়টি জানার পর প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই পূজা উদ্‌যাপন কমিটিকে তলব করা হয়েছে এবং পুরো বরাদ্দ ও চাল উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাহী কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার অবহেলা বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box