সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুতি সংকট নিয়ে ইরানের আলোচনা
- আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের চালানো রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রাণঘাতী হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এই ভয়াবহ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩০০ জন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে এই আলাপচারিতার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এই খবর দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আরাগচি রোববার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, চলমান সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তার মতে, সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্বারোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করতে এবং টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় ইরান যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। আরাগচি যোগ করেন, ‘কেবল ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতার ওপর ভিত্তি করে আলোচনাই’ এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে। তিনি তেহরানকে তাদের কৌশল ‘পুনর্বিবেচনা’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, তিনি ইরানের ওপর নতুন করে হামলার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। যদিও গত বৃহস্পতিবারের মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানকে লক্ষ্য করে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে না। এসব মন্তব্য বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্যের বিপরীত।
দুই দেশের সম্পর্কের এই নতুন মোড় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন চালানোর পর থেকে তেহরান ও রিয়াদের কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি ঘটেছিল। এরপর তেহরান ও তাদের মিত্ররা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ এবং সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রের ওপরও হামলা চালায়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল ইরানকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্স্থাপিত হয়েছিল এবং দূতাবাসগুলোও চালু রয়েছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ছায়াযুদ্ধের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছিল, যা এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব সত্ত্বেও ইরান ও সৌদির কূটনৈতিক সম্পর্ক টিকে রয়েছে এবং ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে পুনর্বহাল করা দূতাবাসগুলো চালু রয়েছে। সেই যুগান্তকারী চুক্তির আগে, সাত বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ আঞ্চলিক ছায়াযুদ্ধকে উসকে দিয়েছিল।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বিদেশি শক্তির প্রভাবমুক্ত হয়ে আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন। তার ভাষ্যমতে, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উচিত বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর না করে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা। তেহরানের এই বার্তাটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের ধারাবাহিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। ইরানি ভাষ্যে এর অর্থ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীল না হওয়া। সুতরাং এই প্রস্তাবটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের ধারাবাহিক অবস্থানের সঙ্গেই মিলে যায়।
তবে এই আলোচনার ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। সৌদি আরব ইরানের প্রস্তাবকে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। রিয়াদের দীর্ঘদিনের দাবি, হুতিদের ওপর ইরানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং তারা চাইলেই এই গোষ্ঠীটিকে থামাতে পারে। কিন্তু ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে জোর দিয়ে আসছে যে, হুতিরা তাদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই গ্রহণ করে।
বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই টেলিফোন আলাপটি কে আগে শুরু করেছিলেন বা ইরান কোনো মধ্যস্থতার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। রিয়াদ যদি ইরানের এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে বাস্তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। মাঠপর্যায়ে হুতিদের হামলা বন্ধ করা এবং ইরান-সৌদি মধ্যস্থতার উদ্যোগ সফল করা উভয়ই বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















