ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকে ইউনিট হেড নিয়োগ মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার পাঁচ দফা দাবিতে রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি নিয়ে কম্বোডিয়া-ক্রোয়েশিয়ার চুক্তি প্রধানমন্ত্রী: ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গোপনীয় নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের ঘটনায় বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যা ও দোয়ারাবাজারে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে জখম, জ্ঞান ফেরেনি নুর মোহাম্মদের

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গোপনীয় নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি গোপন প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) এই নথিটি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ নথি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়।

নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে তারা দুজন পৃথক অভিযোগে কারাগারে বন্দি ছিলেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের কাছে পৌঁছানো বন্দি তালিকায় দেখা যায়, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সাইবার অপরাধের দায়ে এবং সুইটিকে তার পরের দিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে ছিলেন। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বন্দি তালিকায় ৯৭ জন বন্দির অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকলেও এই দুজনের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের কোনো উল্লেখ ছিল না। এমনকি সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশিকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক কারাবন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অন্যান্য তিনটি মামলায় যেখানে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের নজির রয়েছে, সেখানে এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে এমন কঠোর সাজার বিষয়টি রহস্যজনক।

কনস্যুলেট জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ এই মৃত্যুদণ্ড বা তা কার্যকর করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে কিছুই জানায়নি। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে জেদ্দা কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ বা আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। এতে মামলার রায়ের অনুলিপি এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। রায় হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গোপনীয় নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০৮:০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি গোপন প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) এই নথিটি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ নথি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়।

নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে তারা দুজন পৃথক অভিযোগে কারাগারে বন্দি ছিলেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের কাছে পৌঁছানো বন্দি তালিকায় দেখা যায়, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সাইবার অপরাধের দায়ে এবং সুইটিকে তার পরের দিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে ছিলেন। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বন্দি তালিকায় ৯৭ জন বন্দির অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকলেও এই দুজনের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের কোনো উল্লেখ ছিল না। এমনকি সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশিকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক কারাবন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অন্যান্য তিনটি মামলায় যেখানে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের নজির রয়েছে, সেখানে এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে এমন কঠোর সাজার বিষয়টি রহস্যজনক।

কনস্যুলেট জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ এই মৃত্যুদণ্ড বা তা কার্যকর করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে কিছুই জানায়নি। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে জেদ্দা কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ বা আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। এতে মামলার রায়ের অনুলিপি এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। রায় হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box