ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন জুবাইদা খান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার কর্মী আইরিন জুবাইদা খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিয়োগ ও কর্মজীবনের পটভূমি

গত ৮ জুলাই আইরিন খানকে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সেই অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হিসেবে কাজ করছিলেন; তিনি ছিলেন এই পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম নারী। এর আগে ২০০১ সাল থেকে আট বছর তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিচিত্র ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

  • আইরিন খানের কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে, যেখানে তিনি ২১ বছর বিভিন্ন দেশে এবং সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভারতে ইউএনএইচসিআরের মিশন প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন।
  • ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা আন্তঃসরকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) নেতৃত্ব দিয়েছেন।
  • ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ছিলেন এবং ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির ল স্কুলে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • ২০১০-২০১১ সময়ে তিনি ডেইলি স্টার পত্রিকার কনসাল্টিং এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও শিক্ষা

মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আইরিন খান বর্তমানে জেনিভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষক। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। মানবাধিকারের লড়াইয়ে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালের সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

পরামর্শক ও নীতিনির্ধারণী ভূমিকা

আইরিন খান বিশ্ব ব্যাংকের জেন্ডার উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং উগান্ডার ‘বেয়ারফুট ল’ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। তার এই বিশাল অভিজ্ঞতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন জুবাইদা খান

আপডেট সময় : ১০:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার কর্মী আইরিন জুবাইদা খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিয়োগ ও কর্মজীবনের পটভূমি

গত ৮ জুলাই আইরিন খানকে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সেই অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হিসেবে কাজ করছিলেন; তিনি ছিলেন এই পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম নারী। এর আগে ২০০১ সাল থেকে আট বছর তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিচিত্র ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

  • আইরিন খানের কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে, যেখানে তিনি ২১ বছর বিভিন্ন দেশে এবং সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভারতে ইউএনএইচসিআরের মিশন প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন।
  • ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা আন্তঃসরকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) নেতৃত্ব দিয়েছেন।
  • ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ছিলেন এবং ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির ল স্কুলে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • ২০১০-২০১১ সময়ে তিনি ডেইলি স্টার পত্রিকার কনসাল্টিং এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও শিক্ষা

মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আইরিন খান বর্তমানে জেনিভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষক। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। মানবাধিকারের লড়াইয়ে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালের সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

পরামর্শক ও নীতিনির্ধারণী ভূমিকা

আইরিন খান বিশ্ব ব্যাংকের জেন্ডার উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং উগান্ডার ‘বেয়ারফুট ল’ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। তার এই বিশাল অভিজ্ঞতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box