ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদা দাবির জের: তিন দিন ধরে বান্দরবান-থানচি রুটে বাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সশস্ত্র সংগঠনের চাঁদা দাবির প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার কারণে বান্দরবান-থানচি সড়কে তিন দিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা, যারা এখন অতিরিক্ত ভাড়ায় চাঁদের গাড়িতে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বান্দরবান-থানচি সড়কে গত তিন দিন ধরে গণপরিবহন বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একটি সশস্ত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবির কারণে মালিক ও শ্রমিকরা নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বান্দরবান-থানচি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাসচালক ও মালিক সমিতির তথ্যমতে, ওই সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা সড়কের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে বছরে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। গত তিন মাস ধরে এ নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। উল্টো বাস চালানো অব্যাহত রাখলে চালকদের অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক। নুরুল আলম জানান, সংগঠনের সদস্যরা আলোচনার টেবিলে না বসায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাস বন্ধ রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সংগঠনটির সদস্যরা আলোচনায়ও বসছেন না।

সড়কে বাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা। আগে যেখানে ৩২০ টাকা ভাড়ায় যাতায়াত করা যেত, এখন যাত্রীদের ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে চাঁদের গাড়িতে গন্তব্যে ফিরতে হচ্ছে। থানচির বাসিন্দা মংচিং নুং মারমা জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাড়তি খরচ করেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। আগে বাসে ভাড়া লাগত ৩২০ টাকা। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে পড়েছেন ভোগান্তিতে।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী চন্দ্র মনি ত্রিপুরা জানান, ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে আটকা পড়েন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে অন্যদের সাথে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় একটি চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি ফিরছেন। এছাড়া ছোট মদক এলাকার বাসিন্দা পূর্ণিমা ত্রিপুরা জানান, বাসস্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো বাস না পেয়ে অবশেষে উচ্চ মূল্যে চাঁদের গাড়িতে চড়তে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত এই পরিস্থিতির নিরসন দাবি করছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁদা দাবির জের: তিন দিন ধরে বান্দরবান-থানচি রুটে বাস

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবান-থানচি সড়কে গত তিন দিন ধরে গণপরিবহন বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একটি সশস্ত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবির কারণে মালিক ও শ্রমিকরা নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বান্দরবান-থানচি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাসচালক ও মালিক সমিতির তথ্যমতে, ওই সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা সড়কের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে বছরে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। গত তিন মাস ধরে এ নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। উল্টো বাস চালানো অব্যাহত রাখলে চালকদের অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক। নুরুল আলম জানান, সংগঠনের সদস্যরা আলোচনার টেবিলে না বসায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাস বন্ধ রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সংগঠনটির সদস্যরা আলোচনায়ও বসছেন না।

সড়কে বাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা। আগে যেখানে ৩২০ টাকা ভাড়ায় যাতায়াত করা যেত, এখন যাত্রীদের ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে চাঁদের গাড়িতে গন্তব্যে ফিরতে হচ্ছে। থানচির বাসিন্দা মংচিং নুং মারমা জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাড়তি খরচ করেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। আগে বাসে ভাড়া লাগত ৩২০ টাকা। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে পড়েছেন ভোগান্তিতে।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী চন্দ্র মনি ত্রিপুরা জানান, ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে আটকা পড়েন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে অন্যদের সাথে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় একটি চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি ফিরছেন। এছাড়া ছোট মদক এলাকার বাসিন্দা পূর্ণিমা ত্রিপুরা জানান, বাসস্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো বাস না পেয়ে অবশেষে উচ্চ মূল্যে চাঁদের গাড়িতে চড়তে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত এই পরিস্থিতির নিরসন দাবি করছেন।

Facebook Comments Box