কাতারে অবৈধ প্রবাসীদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ ও কঠোর হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
কাতারে যেসব প্রবাসী রেসিডেন্সি বা আকামার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর আইন অমান্য করে অবস্থান করছেন এবং স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী, তাদের আত্মগোপনে না থেকে কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট। সম্প্রতি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগটির ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি। তিনি জানান, যেসব প্রবাসীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা আইনি মামলা নেই, তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে সিআইডি বিভাগে যোগাযোগ করলে তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। আবেদনকারীদের পরিস্থিতি যাচাই-বাছাইয়ের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে।
অবৈধ ভিসা বা ফ্রি ভিসা ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মেজর আল-বুরাইদি। তিনি জানান, এই ধরনের অপরাধে জড়িতদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানার পরিমাণ এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মীর আকামা বা আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে। অবৈধ অবস্থান, আকামা নবায়ন না করা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্যত্র কাজ করা কিংবা কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কাতার পুলিশ নিয়মিত আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। অনুষ্ঠানে ভিসাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার শাস্তির বিষয়টিও কঠোরভাবে তুলে ধরে মেজর আল-বুরাইদি জানান, অবৈধ ভিসা বা ফ্রি ভিসা ব্যবসার সাথে জড়িত পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল। একইভাবে, কোনো নিয়োগকর্তা বা স্পন্সর যদি কর্মীর আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে হবে।
সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেন্টার সম্পর্কে ভুল ধারণা ভাঙতে গিয়ে মেজর আল-বুরাইদি স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো শাস্তিমূলক কারাগার নয়। বরং দেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের সাময়িক অবস্থানের একটি কেন্দ্র হিসেবে এটি পরিচালিত হয়। এখানে প্রবাসীদের ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এছাড়া নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পূর্ণ অধিকারও তাদের রয়েছে। রেসিডেন্সি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিরসনে প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নিতে পারেন। বরং এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।
সরাসরি দপ্তরে যোগাযোগ করার বিষয়ে তিনি বলেন, যে সমস্যাগুলো অনলাইনে বা সাধারণ সেবা কেন্দ্রে সমাধানযোগ্য নয়, সেগুলো নিয়ে প্রবাসীদের সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। যথাযথ নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রবাসীরা আইনি জটিলতা এড়িয়ে নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: গালফ বাংলা
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























