নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের ঘটনায় বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গত কয়েক মাসে একাধিক ব্যক্তির রহস্যজনক অন্তর্ধান ও পরবর্তী সময়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার পর কেন তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এসব ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বয়সী অন্তত পাঁচজনের অকাল মৃত্যুতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের লক্ষ্যে চালকদের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন এলাকায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের মতো ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজের পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর রায়পুরার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর গ্রামের খালপাড়ে ঝোপ ও কচুরিপানার ভেতর থেকে ১২ বছর বয়সী তারেক নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে স্থানীয় মালয়েশিয়াপ্রবাসী জিয়াউর রহমানের ছেলে। পরিবারের ভাষ্যমতে, ১৫ অক্টোবর সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। এই ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করেছে।
এর আগে ১৮ অক্টোবর ভোরে উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে আরমান ফকির (২৪) নামের এক যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভাটিবদরপুর গ্রামের সালাহউদ্দিন ফকিরের ছেলে আরমান গত ১১ অক্টোবর অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার দুদিন আগে ১৩ অক্টোবর মরজাল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে রহমত উল্লাহ (১৮) নামে এক প্রতিবন্ধী কিশোরের মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবার দাবি করেছে, নদীতে গোসল করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের বড়বিল এলাকায় কচুরিপানার ভেতর থেকে মনির হোসেন (১৭) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ পাওয়া যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ থাকা এই কিশোরের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লার লালমাই ও নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাগপাড়া থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।
এসব ঘটনার বাইরেও গত ২৯ জুন পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকা থেকে সাত বছর বয়সী শিশু তাসকিয়া নিখোঁজ হয়। চার দিন পর বাড়ির অদূরে জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একের পর এক এমন ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, জিডির পর পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালায়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। ওসি আরও বলেন, অটোরিকশাচালকদের বেশি ভাড়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটছে, তাই চালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা জরুরি।
রায়পুরা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এ ধরনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানাতে হবে এবং গুজবে কান দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























