বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদক মামলার আসামিকে বিদেশে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৯ মৃত্যু ও ১৫৭১ নতুন রোগী দুপুরের খাবারের পর কেন ঘুম পায়? এর বৈজ্ঞানিক কারণ ও প্রতিকারের উপায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এইচএসসির ফলাফলে সরকারি কলেজের আধিপত্য কমিয়ে এগিয়ে আসছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নামজারি বাতিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারির আহ্বান জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের চাকরি পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি: যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা রাণীশংকৈলে ৫০০ পিস ইয়াবা ও এসকাফ সিরাপসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ১৪৪৮ হিজরি হজ নিবন্ধন: কাতারে আবেদন শুরু ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ বছর পর বার্নাব্যুতে হোসে মরিনিও: রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে নতুন শুরুর অপেক্ষায়

বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০

সূচনা: যুগ এতটাই পাল্টে গেছে যে মাছ চাষ করার জন্য এখন আর পুকুর বা ডোবার দরকার পরে না। আধুনিক যুগে জমির স্বল্পতার জন্য মাছ চাষ এখন ঢুকে গেছে ঘরের ভিতর। নির্দিষ্ট কলাকৌশল আর প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে ঘরের ভিতর চৌবাচ্চাতে চাষ করা যাচ্ছে মাছ। এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে বায়োফ্লক। একোয়াকালচার পদ্ধতির উন্নত সংস্করণ হচ্ছে মাছের নয়া এই প্রযুক্তি। বায়োফ্লক টেকনোলজি ব্যবহার করে অল্প জমিতে অধিক পরিমাণ মাছ উৎপাদন সম্ভব। ‘বায়োফ্লক’ প্রযুক্তির জনক ইজরায়েলি বিজ্ঞানী ইয়ান এভনিমেলেচ। তাহলে আসুন প্রথমে জানি বায়োফ্লক টেকনোলজিটা আসলে কি?

বায়োফ্লক কি?

বায়ো শব্দটি গ্রীক বায়োস থেকে এসেছে, যার অর্থ জীবন। আর ফ্লক মানে আলতোভাবে লেগে থাকা কনার সমষ্টি। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে জৈব বর্জ্যের পুষ্টি থেকে পুন ব্যবহার যোগ্য খাবার তৈরি করা হয়। তাই স্বাভাবিক ভাবেই বায়োফ্লক প্রযুক্তি মাছ চাষের একটি টেকসই এবং পরিবেশগত ভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে চৌবাচ্চার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, অণুজীব ও শৈবালের সমম্বয়ে পাতলা একটি আস্তরণ তৈরি হয়। যা পানিকে ফিল্টার করে। পানি থেকে নাইট্রোজেন জাতীয় ক্ষতিকর উপাদানগুলি শোষণ করে নেয় এবং এর প্রোটিন সমৃদ্ধ যে উপাদান গুলো থাকে সেগুলো মাছ খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে অনুজীব মুলত দুটি প্রধান ভূমিকা পালন করে-

১.অণুজীব পানিতে বিদ্যমান নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ যৌগ গুলোকে ব্যবহার করে অণুজীব প্রোটিনে রূপান্তর করার মাধ্যমে পানির গুণাগুণ সঠিক মাত্রায় বজায় রাখে।

২.এই প্রযুক্তি খাদ্য রূপান্তর হার এবং মাছ চাষে খাদ্য ব্যয় কমিয়ে চাষের সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি করে।

জেনে নিন >>আধুনিক পদ্ধতিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ পদ্ধতি

বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে কি মাছ চাষ করা যায়?

বায়োফ্লক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে সচরাচর যেসব মাছ চাষ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, তেলাপিয়া, রুই, শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা ও চিংড়ীসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। তবে, যারা বায়োফ্লক প্রযুক্তিটি প্রথমবারের মত ব্যবহার করতে যাচ্ছেন তারা অবশ্যই প্রথমে তেলাপিয়া, শিং ও মাগুর মাছ দিয়ে চাষ শুরু করবেন। তবে
অন্যান্য দেশে তেলাপিয়া ও চিংড়িই মূলত বায়োফ্লক পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় চিংড়ি চাষ।
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের সুবিধা সমূহ:

    • মাছ চাষে মুলত শতকরা ৬০ ভাগ খরচই খাবারের জন্য ব্যয় হয়। এই পদ্ধতিতে সিস্টেমের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ট্যাংকেই অণুজীব প্রোটিন তৈরি করে, তাই এ পদ্ধতিতে অন্যান্য সিস্টেমের চেয়ে অনেক কম খাবার লাগে। চাষের খরচ কমে যায় এবং লাভ বেশী হয়।
    • বায়োফ্লক পদ্ধতিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া মাছের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলোকে বৃদ্ধি পেতে বাধা প্রদান করে। ফলে ঐসব ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ থেকে মাছ রক্ষা পায়। তাই মাছ চাষের সময় খামারকে রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
    • বায়োফ্লকে যেহেতু উপকারী ব্যাকটেরিয়া (প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া) ব্যবহার করা হয়, ফলে পানির গুণাগুণ বৃদ্ধি ও রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে পুরো সিস্টেমকে উচ্চ বায়োসিকিউরিটি প্রদান করা সম্ভব হয়।
    • বায়োফ্লক পদ্ধতিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া (প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া) ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া ও বাইরে থেকে সরবরাহ করা কার্বনকে ব্যবহার করে অণুজীব আমিষ তৈরি করে। তাছাড়া ডায়াটম, প্রোটোজোয়া, অ্যালজি, ফেকাল পিলেট, জীবদেহের ধ্বংসাবশেষ ইত্যাদির ব্যাকটেরিয়া ম্যাক্রো-এগ্রিগেট তৈরি করে যা মাছের উত্তম প্রোটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে। এছাড়া প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া মাছ চাষের প্রধান নিয়ামক অ্যামোনিয়াকে মাছের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান প্রোটিনে রূপান্তর করার মাধ্যমে সিস্টেমে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
    • এই পদ্ধতিতে চৌবাচ্চা বা ট্যাংকের পানির গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু নিয়ন্ত্রণ, মাছের মল ও উচ্ছিষ্ট খাদ্যকে মাছের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনে রূপান্তরের মাধ্যমে মাছের বৃদ্ধি সুনিশ্চিত করা যায়।
    • মাছ চাষের ক্ষেত্রে খাদ্য রূপান্তরের হারের মান যত কম হবে মাছ চাষে মুনাফা তত বেশি হবে। এক্ষেত্রে বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া মাছের অব্যবহৃত খাদ্য,মল-মূত্র থেকে নিঃসৃত অ্যামোনিয়াকে ব্যবহার করে অণুজীব প্রোটিন তৈরি করার ফলে বাহির থেকে প্রোটিন সমৃদ্ধ মাছের খাদ্য কম সরবরাহ করতে হয়, তাই এ সিস্টেমের খাদ্য রূপান্তর হার (এফসিআর) অন্যান্য সিস্টেম থেকে কম হয়।
    • প্রকৃতিতে বিদ্যমান উপকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন নেই বললেই চলে। তাই এটি একটি পরিবেশবান্ধব মাছ চাষ পদ্ধতি।
  • এই পদ্ধতিতে ছোট ছোট চৌবাচ্চা বা ট্যাংকে অনেক মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয় এবং মাছ চাষের অন্যতম নিয়ামক অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উপকারী ব্যাকটেরিয়া পানির গুণাগুণ রক্ষা করে ফলে ট্যাংকের পানিও খুব কম পরিবর্তন করতে হয়। তাই অল্প জমি ও অল্প পানি ব্যবহার করে অধিক মাছ উৎপাদন করা যায়। যা জমি ও পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে।
  • এটি একটি সহজ চাষ পদ্ধতি। বাড়িতে যে কোন চাষি সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা অর্জন পূর্বক ৩০-৪০ টি ট্যাংকে সহজেই মাছ চাষ করতে পারবে।
  • পুকুরের সমপরিমাণ জায়গায় বায়োফ্লকে ২০ গুণ বেশি মাছ চাষ করা যায়। কম জায়গা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণে মাছ উৎপাদন সম্ভব এই পদ্ধতিতে।
  • বায়োফ্লকে পুকুরের চেয়ে মাছের খাদ্য খরচ ৩০% কম লাগে।বায়োফ্লকে মাছের রোগবালাই খুবই কম হয়।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের অসুবিধা সমূহ:

  • মিশ্রণ এবং বায়ুচালনের জন্য শক্তির প্রয়োজন বৃদ্ধি পায়।
  • এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে দেখা গেছে যে পানি শ্বসনের হারের সাথে সাথে প্রতিক্রিয়ার সময় হ্রাস পায়।
  • শুরুর সময়কালীন প্রচুর সময় লাগে।
  • ক্ষারীয় পরিপূরক প্রয়োজন।
  • বায়োফ্লোক পদ্ধতি নাইট্রেট জমে থেকে দূষণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
  • পদ্ধতিটি কিছুটা কৃত্রিম হওয়ায় এর জন্য প্রচুর যত্ন নেওয়া এবং পরিচালনা প্রয়োজন। যা ফ্রেশ ওয়াটার পদ্ধতিতে হয় না।

জেনে নিন >>সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য যা লাগবে:

চৌবাচ্চা বা ট্যাংক বা হাউজ, লোহার খাঁচা, ত্রিপল, আউটলেট, টিডিএস মিটার, পিএইচ মিটার, অ্যামোনিয়াম টেস্ট কিড, অক্সিজেনের জন্য মটর, বিদ্যুৎ, মাছের পোনা, খাদ্য ও প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে পানি ব্যবস্থাপনা ও ফ্লক তৈরীর কলাকৌশল:

প্রথমে ট্যাংক ব্লিচিং পাউডার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। এর পর নির্বাচিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে পানি প্রবেশ করাতে হবে। পানিতে আয়রনের মাত্রা ০.২ ppm এর বেশি হলে পানি থেকে আয়রন দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। আয়রন দূর করার জন্য প্রতি টন পানিতে ২৫- ৩০ ppm হারে ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগের পর ১০ – ১২ ঘন্টা একটানা বাতাস সরবরাহ করতে হবে। এর পর ৫০ ppm হারে ফিটকিরি প্রয়োগ করে আরও ১২ ঘন্টা পানিতে অনবরত বাতাস সরবরাহ করতে হবে। ২৪ ঘন্টা পর পানিতে ১০০ ppm হারে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ( CaCO3) চুন প্রয়োগ করে বাতাস সরবরাহ নিয়মিত করতে হবে। এর পর নির্বাচিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে পানি প্রবেশ করাতে হবে। এ সময় পানির যে গুনাবলীর দিকে নজর রাখতে হবে তা নিচে দেয়া হলো:

  • তাপমাত্রা থাকতে হবে ২৫ – ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে
  • পানির রং – সবুজ, হালকা সবুজ, বাদামী হলে চলবে
  • দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমান প্রতি লিটারে ৭- ৮ মিলিগ্রাম থাকতে হবে
  • পিএইচ হতে হবে ৭.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে
  • ক্ষারত্ব থাকতে হবে প্রতি লিটারে ৫০ – ১২০ মিলিগ্রাম
  • খরতা প্রতি লিটারে ৬০ – ১৫০ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম প্রতি লিটারে ৪ – ১৬০ মিলিগ্রাম
  • অ্যামোনিয়া প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম
  • নাইট্রাইট প্রতি লিটারে ০.১ – ০.২ মিলিগ্রাম
  • নাইট্রেট প্রতি লিটারে ০ – ৩ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস প্রতি লিটারে ০.১ – ৩ মিলিগ্রাম
  • হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S) প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম
  • আয়রন প্রতি লিটারে০.১ – ০.২ মিলিগ্রাম
  • পানির স্বচ্ছতা ২৫ – ৩৫ সে.মি.
  • পানির গভীরতা – ৩ থেকে ৪ ফুট
  • ফলকের ঘনত্ব – ৩০০ গ্রাম / টন
  • TDS প্রতি লিটারে ১৪০০০ – ১৮০০০ মিলিগ্রাম
    লবণাক্ততা – ৩ – ৫ ppt

পানিতে যেভাবে ফ্লক তৈরি করবেন

চাষ ট্যাংকের ১২ ভাগের ১ ভাগ পানি নিয়ে পানিতে ১০০০ ppm হারে আয়োডিন ছাড়া লবণ প্রয়োগ করতে হবে। লবণ প্রয়োগের পর TDS পরীক্ষা করে নিতে হবে। বায়োফ্লকের জন্য ১৪০০ – ১৮০০ ppm, TDS থাকা ভাল। যদি লবণ প্রয়োগের পর কাঙ্খিত TDS পাওয়া না যায়, তা হলে কম পরিমাণলবণ প্রয়োগ করে আদর্শ মাত্রায় TDS রাখতে হবে। এর পর প্রথম ডোজে ৫ ppm প্রেবায়োটিক, ৫০ ppm চিটাগুড়, ৫ ppm ইস্ট, পানি প্রতি টনের জন্য ১ লিটার, একটি প্লাস্টিকের বালতিতে অক্সিজেন সরবরাহ করে ৮- ১০ ঘন্টা কালচার করে প্রয়োগ করতে হবে। ২য় দিন থেকে ১ppm প্রোবায়োটিক, ৫ ppm চিটাগুড়, ১ ppm ইস্ট, প্রতি টনের জন্য ১ লিটার পানি দিয়ে কালচার করে প্রতি দিন প্রয়োগ করতে হবে।
• ppm for “parts per million” and it also can be expressed as milligrams per liter (mg/L).

বায়োফ্লক পর্যবেক্ষণ:

  • পানিতে যথাযথ পরিমাণ ফ্লক তৈরি হলো কিনা সেটা বুঝতে নীচের পর্যবেক্ষনগুলো নজরে রাখবেন
  • পানির রং সবুজ বা বাদামী দেখায়।
  • পানিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ কণা দেখা যায়।
  • পানির অ্যামোনিয়া পরীক্ষা করলে পানি অ্যামোনিয়া মুক্ত দেখায়।
  • প্রতি লিটার পানিতে ০.৩ গ্রাম ফ্লকের ঘনত্ব পাওয়া যাবে।
  • ক্ষুদেপানা দেওয়ার পর তাদের বংশ বিস্তার পরিলক্ষিত হয়।

ট্যাংক তৈরি:

বায়োফ্লকের জন্য স্থায়ী বা অস্থায়ী দুই ধরনের ট্যাংকই চাইলে তৈরি করতে পারেন। ইট সিমেন্ট দিয়ে কিংবা স্টীলের পাত দিয়ে কিভাবে স্থায়ী ট্যাংক তৈরি করতে হয় সেটা সবাই জানেন। এখানে আমরা জানবো কিভাবে ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ট্যাংক তৈরি করতে হয়।প্রথমে গ্রেড রড দিয়ে ট্যাংকের বৃত্তাকার খাঁচাটি তৈরি করতে হবে। যেই স্থানে ট্যাংকটি স্থাপন করা হবে সেই জায়গাতে খাঁচার পরিধির সমান করে সিসি ঢালাই দিতে হবে। বৃত্তের ঠিক কেন্দ্রে পানির একটি আউটলেট পাইপ স্থাপন করতে হবে। এরপর খাঁচাটিকে ঢালাই মেঝের উপর স্থাপন করে মাটিতে গেঁথে দিতে হবে। মেঝের মাটি শক্ত ও সমান হলে ঢালাইয়ের পরিবর্তে পরিধির সমান করে পুরু পলিথিন বিছিয়েও মেঝে প্রস্তুত করা যায়। এরপর উন্নতমানের তারপুলিন বা ত্রিপল দিয়ে সম্পূর্ণ খাঁচাটি ঢেকে দিতে হবে। তার উপর পুরু পলিথিন দিয়ে আচ্ছাদিত করে তাতে পানি মজুদ করতে হবে।

এখানে আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি ৩০০০ লিটার পানি ধারনের জন্য ট্যাংকের সাইজ হবে ৬ফিট ব্যাস এবং ৪.৫ ফিট উচ্চতা, ৫০০০ লিটারের জন্য ৮ফিট ব্যাস এবং ৪.৫ ফিট উচ্চতা, ৭৫০০ লিটারের জন্য ১০ফিট ব্যাস এবং ৪.৫ ফিট উচ্চতা, ১০০০০ লিটারের জন্য ১৩ ফিট ব্যাস এবং ৪.৫ ফিট উচ্চতা।তারপর ট্যাংকের সাথে এয়ার পাম্পের সংযোগ ঘটাতে হবে পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য। প্রতি ১০ হাজার লিটার পানির জন্য ৭০ থেকে ৮০ ওয়াটের এয়ার পাম্প লাগবে এবং সাথে ৮ থেকে ১০টি এয়ার স্টোন প্রয়োজন হবে।

জেনে নিন >>সহজেই লাভজনক পদ্ধতিতে লাউ চাষ করুন

বায়োফ্লক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষে যে সব বিষয় নজর রাখতে হবে:

  • বায়োফ্লকপদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা মাছচাষের ফলে উৎপাদিত বর্জ্য কে প্রোটিন সমৃদ্ধ জৈব খাবারে তৈরি করে। তাই সঠিক উৎস হতে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করতে হবে।
  • নিয়মিত ট্যাংকে সরবরাহকৃত পানির গুণাগুণ যেমন- অ্যামোনিয়া, নাইট্রেট, নাইট্রাইট, ফ্লকের ঘনত্ব ইত্যাদি পরিমাপ করতে হবে এবং এগুলো যদি সঠিক মাত্রায় না থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • তাপমাত্রার হ্রাস বৃদ্ধি: আমাদের দেশে দিনের বেলার তাপমাত্রা ও রাত্রের তাপমাত্রা সব সময় উঠানামা করে, যা ফ্লকের বৃদ্ধির জন্য উপযোগী নয়। তাই পর্যাপ্ত ফ্লকের বৃদ্ধির জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • বয়োফ্লকের মাধ্যমে মাছ চাষের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ জনবলের প্রয়োজন। কারণ এই প্রযুক্তিতে যদি পানির গুণাগুণ পরীক্ষা, সঠিক মাত্রায় খাদ্য প্রয়োগ, ফ্লকের ঘনত্ব পরিমাপ ইত্যাদি বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান না থাকে তাহলে চাষি যে কোন সময় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ট্যাংকে অধিক পরিমাণে মাছ রাখা হয়। তাই ট্যাংকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়। আর ট্যাংকে সব সময় অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ লাগবে। তা না হলে ট্যাংকের অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে সব মাছ এক সাথে মারা যেতে পারে। সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ট্যাংকে অক্সিজেন সরবরাহ না করা হলে সব মাছ মারা যেতে পারে। তাই বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

8 responses to “বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ”

  1. […] জেনে নিন  >> বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ […]

  2. […]  জেনে নিন >>বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ […]

  3. […] জেনে নিন>> বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ […]

  4. […] জেনে  নিন  >> বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ […]

  5. […] জেনে নিন >>>  বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ […]

  6. […] কুড়িগ্রামে  ভূরুঙ্গামারীতে ইজারার জলমহালে বন্যার পানিতে বালু পড়ে জলমহাল ভরাট হয়ে যাওয়ায়  মাছ চাষ করতে পারছেনা মৎস্যজীবিরা । ইজারা নিয়ে চরম বিপাকে মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যরা। ইজারাকৃত জলমহালে মাছ চাষ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ২৩জন মৎস্যজীবি। এই বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার মেলেনি। পড়ুন>>বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ […]

  7. […] জেনে নিন>>বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
error: Content is protected !!