নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার জন্য ছয় দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দিল্লির ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এলঅ্যান্ডডিও)। গত ১৯ অক্টোবর সোমবার ভবনটিকে ‘অনুমোদনহীন’ আখ্যা দিয়ে এই উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয়। এলঅ্যান্ডডিও-র দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে এবং বর্তমানে এর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার মর্যাদা পাওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ ৬ দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এলঅ্যান্ডডিও)।
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের তথ্যমতে, নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রেসকোর্স মসজিদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে মুসল্লিদের নামাজ আদায় ও যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে জরুরি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি জানান, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত ঐতিহ্যবাহী তালিকায় এই মসজিদের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। মন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, গত ছয় মাস ধরে বোর্ডের কাছে ধর্ণা দিলেও তারা এনডিএমসি-কে একটি চিঠি দেওয়া ছাড়া আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। মসজিদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় খাবার পানি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইমাম অভিযোগ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আইনি লড়াইয়ের অনুমতি চাইলেও ওয়াকফ বোর্ড তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ধ্বংসাত্মক কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। মসজিদে যাওয়ার পথ বন্ধ থাকায় এখন খাবার পানিও আনা যাচ্ছে না। আমি ওয়াকফ বোর্ডকে আদালতে যেতে বলেছিলাম। ওয়াকফ বোর্ড পাশে না থাকায় তিনি অসহায় বোধ করছেন এবং এটি রক্ষায় সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।
ইমাম হারুনের দাবি, ২০২১ সালের সরকারি জরিপেও এই মসজিদকে কোনো জবরদখল বা অনুমোদনহীন স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে তার এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুরো এলাকাটির নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে ওই এলাকার বস্তিবাসীদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন কলোনিতে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যেখানে শিক্ষা, পরিবহণ ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হিন্দুস্তান গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনের স্বার্থে ওই এলাকার বস্তিবাসীদের উচ্ছেদে সায় দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট।
সূত্র: যুগান্তর
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















