যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন
- আপডেট সময় : ০২:৪৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিটি আসন এবং সিনেটের একাংশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের এই ফলাফলই মূলত নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। জনমত জরিপ ও নির্বাচনি পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে শক্তিশালী জনসমর্থনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘নীল ঢেউ’ বা ‘ব্লু ওয়েভ’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে জনমত অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত নয়। স্থানীয় প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, ভোটারদের ইস্যুভিত্তিক অবস্থান এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো এই লড়াইকে জটিল করে তুলেছে। নির্বাচনি পূর্বাভাসেও দলটির অনুকূলে আসনের সংখ্যা বাড়ছে। অঙ্গরাজ্যটিতে ভোটারদের দলভিত্তিক বিভক্ত ভোট দেওয়ার প্রবণতাও ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে কিনের কয়েক মাস কংগ্রেসের কাজে অনুপস্থিত থাকা এবং পরে বিষণ্নতার চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হওয়াও নির্বাচনী আলোচনায় এসেছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আসনের লড়াই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নিউ হ্যাম্পশায়ারে দীর্ঘদিনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন অবসরে যাওয়ায় এই আসনটি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এখানে রিপাবলিকান জন সুনুনুর সঙ্গে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাস। সুনুনুর পরিবার অঙ্গরাজ্যটিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী; তাঁর বাবা ও ভাই দুজনেই গভর্নর ছিলেন এবং সুনুনু নিজেও ২০০৮ সালে শাহিনের কাছে হেরে সিনেটের আসনটি হারিয়েছিলেন। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট এই লড়াইকে অনিশ্চিত বলে চিহ্নিত করেছে।
কানসাসের সিনেট আসনটি দীর্ঘ সময় ধরে রিপাবলিকানদের দখলে। ১৯৩২ সালের পর থেকে এখানে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটরে নির্বাচিত হননি। এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের বিরুদ্ধে বকেয়া বিল আদায়ে ৭০০-এরও বেশি রোগীর বিরুদ্ধে মামলা করার তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর বিতর্ক তুঙ্গে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় ৮১ জন রোগী গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন, যা নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্শালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রের বকেয়া বিল আদায়ে ৭০০-এর বেশি রোগীর বিরুদ্ধে মামলা করার কথা উঠে আসে।
মিনেসোটার সিনেট আসনটি ধরে রাখতে লড়াই করছে ডেমোক্র্যাটরা, কারণ বর্তমান সিনেটর টিনা স্মিথ অবসরে যাচ্ছেন। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর পেগি ফ্লানাগান লড়ছেন সাবেক এনএফএল প্রতিবেদক মিশেল তাফোয়ার বিরুদ্ধে। তাফোয়া পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ এবং গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে, বর্তমান গভর্নর টিম ওয়ালজের প্রশাসনের অধীনে সরকারি সেবায় জালিয়াতির অভিযোগ ফ্লানাগানের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
প্রতিনিধি পরিষদের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ফ্লোরিডার ১৩তম জেলায় রিপাবলিকান আনা পলিনা লুনার বিরুদ্ধে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল লীলা গ্রে। সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে আসনটি রিপাবলিকানদের জন্য নিরাপদ হলেও লুনার জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে। উইসকনসিনের প্রথম জেলায় রিপাবলিকান ব্রায়ান স্টেইলের বিরুদ্ধে লড়ছেন নার্স ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মিচেল বারম্যান। এখানে স্টেইলের আগের সাফল্য থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে আসনটি হাতবদল হতে পারে।
আলাবামার দ্বিতীয় কংগ্রেসনাল জেলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি শোমারি ফিগার্সের লড়াই কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তাঁর নিজ শহর মোবাইল সীমানার বাইরে চলে গেছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থী রেট মার্কেসের জন্য বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। একইভাবে টেক্সাসের ৩৪তম জেলায় ডেমোক্র্যাট ভিসেন্তে গনজালেসের প্রতিদ্বন্দ্বী এরিক ফ্লোরেস। সাবেক সেনাসদস্য ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন সীমানা ডেমোক্র্যাটদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউ জার্সির সপ্তম জেলায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেবেকা বেনেট রিপাবলিকান টম কিন জুনিয়রকে হারানোর সুযোগ খুঁজছেন। ২০২০ সালে বাইডেন এবং ২০২৪ সালে ট্রাম্প জয়ী হওয়ায় জেলাটি রাজনৈতিকভাবে বেশ অস্থিতিশীল। এছাড়া কিনের অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির বিষয়টিও প্রচারণায় এসেছে। নেভাডার গভর্নর নির্বাচনও ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকান গভর্নর জো লম্বার্ডোর বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট অ্যারন ফোর্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লম্বার্ডো ২০২২ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে হারিয়ে ক্ষমতায় এলেও এবার ফোর্ড জিতলে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ও নির্বাহী শাখা—উভয় ক্ষেত্রেই ডেমোক্র্যাটদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপিত হবে। লাস ভেগাসের ক্লার্ক কাউন্টির সাবেক শেরিফ লম্বার্ডো ২০২২ সালে একজন ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটকে হারিয়ে গভর্নর নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে অঙ্গরাজ্যের আইনসভার উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের আশা করলেও রিপাবলিকানরা আসন ধরে রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এছাড়াও রিপাবলিকান-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডেমোক্র্যাটদের অগ্রযাত্রাকে সীমিত করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর ফলাফলই নির্ধারণ করবে ওয়াশিংটনের ক্ষমতা কার দখলে থাকবে। তবে বহুল আলোচিত কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরেও দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আসন রয়েছে, যেগুলোর ফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























