ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন’ বিলুপ্ত করা হলো এবং এর পরিবর্তে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি ‘স্কুল সার্ভিস কমিশন’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সমন্বিত ও সুসংহত ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতেই এই কমিশন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে সংখ্যালঘু শিক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কেও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছিল।

মাদ্রাসা শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরাতে গত জুন মাস থেকে রাজ্যের সব মাদ্রাসার ওপর সরেজমিন সমীক্ষা শুরু করেছিল সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর পরিকাঠামো, অনুমোদন, পরিচালনব্যবস্থা এবং শিক্ষার মান যাচাই করাই ছিল এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে সরকারি অর্থায়ন ছাড়াই জন-অনুদান ও ট্রাস্টের টাকায় পরিচালিত ‘খারিজি’ মাদ্রাসাগুলোর ওপর বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছিল। এই সমীক্ষার ভিত্তিতেই গত মাসে সরকার বড় ধরনের ব্যবস্থা নেয়।

তালিকায় থাকা ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে পাঠানো হয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশ। প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই মালদা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলায় অবস্থিত। সমীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে যে, রাজ্যের মোট ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসা কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন বা নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। তবে নিয়ম মেনে বৈধ অনুমোদন নিয়ে চলা মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সরকার জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মূলধারার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা এবং অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত

আপডেট সময় : ১০:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন’ বিলুপ্ত করা হলো এবং এর পরিবর্তে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি ‘স্কুল সার্ভিস কমিশন’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সমন্বিত ও সুসংহত ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতেই এই কমিশন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে সংখ্যালঘু শিক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কেও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছিল।

মাদ্রাসা শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরাতে গত জুন মাস থেকে রাজ্যের সব মাদ্রাসার ওপর সরেজমিন সমীক্ষা শুরু করেছিল সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর পরিকাঠামো, অনুমোদন, পরিচালনব্যবস্থা এবং শিক্ষার মান যাচাই করাই ছিল এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে সরকারি অর্থায়ন ছাড়াই জন-অনুদান ও ট্রাস্টের টাকায় পরিচালিত ‘খারিজি’ মাদ্রাসাগুলোর ওপর বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছিল। এই সমীক্ষার ভিত্তিতেই গত মাসে সরকার বড় ধরনের ব্যবস্থা নেয়।

তালিকায় থাকা ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে পাঠানো হয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশ। প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই মালদা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলায় অবস্থিত। সমীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে যে, রাজ্যের মোট ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসা কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন বা নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। তবে নিয়ম মেনে বৈধ অনুমোদন নিয়ে চলা মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সরকার জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মূলধারার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা এবং অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

Facebook Comments Box