ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমানে একটি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শনিবার ‘বে অফ বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক সেশনে তিনি এ কথা বলেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বারবার স্পষ্ট করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু আদালতের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও একই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ভারতের হাইকমিশনার বলেন, এ বিষয়ে উত্তর দিতে হলে প্রথমে আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। আমি নিজেও তখন টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, কোনো সামরিক বাহিনী বা ভারতীয় বিমানবাহিনী তাকে নিয়ে যায়নি। তৎকালীন বাংলাদেশে উদ্ভূত চরম পরিস্থিতির বাস্তবতায় তিনি ভারতে এসেছিলেন। ওই সময় কোনো দেশই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। ভারত যদি তাকে আশ্রয় না দিত বা অবতরণের অনুমতি না দিত, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। প্রতিবেশী হিসেবে সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতা গ্রহণ করাই ছিল ভারতের দায়িত্ব। বর্তমানে যে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, সেটি নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভারত তার বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা করে। পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই যেন এমন পরিস্থিতি আর কখনো সৃষ্টি না হয়, যেখানে নিরপরাধ মানুষকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। ফলে পরিস্থিতির বাস্তবতায় আমাদের সামনে খুব বেশি বিকল্পও ছিল না। ভারত যদি বলত যে তাকে গ্রহণ করবে না, এমনকি অবতরণের অনুমতিও না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা বলা কঠিন।

ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে তারা যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বোঝেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের কোনো অবকাশ নেই। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। নিরাপত্তা সম্পর্ক এবং লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক এক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তারা ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখেন। ভবিষ্যতেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেই তিনি আশাবাদী। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বাইরের বিশ্বের পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা কঠিন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশেরই জাতীয় সংগীতের রচয়িতা—এটিই আমাদের সাংস্কৃতিক বন্ধনের অনন্য প্রমাণ। নজরুলগীতি ও রবীন্দ্রসংগীতের মেলবন্ধন আমাদের এই গভীর সম্পর্কের মূলে রয়েছে। একদিকে নজরুলগীতি, অন্যদিকে রবীন্দ্রসংগীত।

দুই দেশের সম্পর্কে মতপার্থক্য থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও যেমন সমস্যা বা মতপার্থক্য থাকে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রেও তা হতে পারে। গণতন্ত্রে এমন মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এসব সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো সংলাপ, আলোচনা এবং পারস্পরিক পরামর্শ। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার ভিত্তি হওয়া উচিত আস্থা ও বিশ্বাস। বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

আপডেট সময় : ০৪:০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমানে একটি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শনিবার ‘বে অফ বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক সেশনে তিনি এ কথা বলেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বারবার স্পষ্ট করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু আদালতের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও একই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ভারতের হাইকমিশনার বলেন, এ বিষয়ে উত্তর দিতে হলে প্রথমে আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। আমি নিজেও তখন টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, কোনো সামরিক বাহিনী বা ভারতীয় বিমানবাহিনী তাকে নিয়ে যায়নি। তৎকালীন বাংলাদেশে উদ্ভূত চরম পরিস্থিতির বাস্তবতায় তিনি ভারতে এসেছিলেন। ওই সময় কোনো দেশই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। ভারত যদি তাকে আশ্রয় না দিত বা অবতরণের অনুমতি না দিত, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। প্রতিবেশী হিসেবে সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতা গ্রহণ করাই ছিল ভারতের দায়িত্ব। বর্তমানে যে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, সেটি নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভারত তার বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা করে। পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই যেন এমন পরিস্থিতি আর কখনো সৃষ্টি না হয়, যেখানে নিরপরাধ মানুষকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। ফলে পরিস্থিতির বাস্তবতায় আমাদের সামনে খুব বেশি বিকল্পও ছিল না। ভারত যদি বলত যে তাকে গ্রহণ করবে না, এমনকি অবতরণের অনুমতিও না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা বলা কঠিন।

ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে তারা যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বোঝেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের কোনো অবকাশ নেই। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। নিরাপত্তা সম্পর্ক এবং লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক এক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তারা ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখেন। ভবিষ্যতেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেই তিনি আশাবাদী। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বাইরের বিশ্বের পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা কঠিন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশেরই জাতীয় সংগীতের রচয়িতা—এটিই আমাদের সাংস্কৃতিক বন্ধনের অনন্য প্রমাণ। নজরুলগীতি ও রবীন্দ্রসংগীতের মেলবন্ধন আমাদের এই গভীর সম্পর্কের মূলে রয়েছে। একদিকে নজরুলগীতি, অন্যদিকে রবীন্দ্রসংগীত।

দুই দেশের সম্পর্কে মতপার্থক্য থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও যেমন সমস্যা বা মতপার্থক্য থাকে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রেও তা হতে পারে। গণতন্ত্রে এমন মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এসব সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো সংলাপ, আলোচনা এবং পারস্পরিক পরামর্শ। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার ভিত্তি হওয়া উচিত আস্থা ও বিশ্বাস। বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Facebook Comments Box