মিরসরাইয়ে গৃহায়নের দুই আবাসন প্রকল্পে স্থবিরতা ও অনিয়মের বেড়াজাল
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
মিরসরাইয়ে গৃহায়নের দুই আবাসন প্রকল্পে স্থবিরতা ও অনিয়মের বেড়াজাল
স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) দুটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। সোনাপাহাড় ও কিছমত জাফরাবাদে অবস্থিত এই প্রকল্প দুটির উদ্দেশ্য সফল হওয়া তো দূরের কথা, দীর্ঘ এক দশকের ব্যবধানে এগুলো এখন অনিয়ম, আইনি জটিলতা এবং নিরাপত্তা সংকটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রায় একই সময়ে দুটি আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছিল জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক)। তবে দীর্ঘ এক দশকেও সফলতার মুখ দেখেনি কোনোটিই।
উপজেলার ১৬ দশমিক ২৮ একর জমির ওপর বাস্তবায়নাধীন ‘কিছমত জাফরাবাদ’ আবাসন প্রকল্পের প্রাক্কলিত বাজেট ধরা হয়েছিল ৪২ কোটি ৩৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। এখান থেকে ১৬৩টি আবাসিক ও ৪টি বাণিজ্যিক প্লট গ্রাহকদের কাছে বরাদ্দ দিয়ে টাকা আদায় করা হলেও, ১০ বছরেও উন্নয়নমূলক কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
পড়ুন>>কৈশোরের আলো ছড়ানোর ১৩ বছর ও আমাদের ভাবনা
বিশেষ করে মাটি ভরাট নিয়ে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। প্রকল্পের ৮৭ হাজার ৯৩ ঘনমিটার মাটি ভরাটের ভুয়া বিল তোলা হলেও, দুদকের নিরপেক্ষ প্রকৌশলীদের পরিমাপে পাওয়া যায় মাত্র ৪৩ হাজার ১২৯ ঘনমিটার মাটি।
এই দুর্নীতির দায়ে গত ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (চট্টগ্রাম-২) একটি মামলা দায়ের করে, যা বর্তমানে জেলা স্পেশাল জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অনিয়ম, আত্মসাত, মামলা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভেস্তে যেতে বসেছে দুই আবাসন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। অসত্য তথ্য দিয়ে ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (চট্টগ্রাম-২) মামলা দায়ের করে।
পড়ুন>>ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটির স্বীকৃতি পেল ঈদুল ফিতর ও আজহা
মামলায় জাগৃকের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান ও ঠিকাদার মাঈনুল কবিরকে আসামি করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্ত কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় নথিপত্র সরবরাহে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছেন
উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসান। অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ ও আশ্রাফুজ্জামান তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি সচল করতে ১৮ কোটি টাকার নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলেও ঠিকাদারদের শর্ত পূরণ না হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম।
পড়ুন>>দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তিন
অন্যদিকে, ১৬ দশমিক ৪৮ একরের সোনাপাহাড় প্রকল্পে অবকাঠামো ও ভূমি উন্নয়নের পর ২০১৭ সালেই ১৮৩ জন গ্রাহকের কাছে প্লটের দলিল হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছরেও সেখানে কোনো বসতি গড়ে ওঠেনি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ১৬৩টি খালি প্লট এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
প্রকল্পের বৈদ্যুতিক খুঁটির তার চোরেরা খুলে নিয়ে গেছে। প্লট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার অভিযোগ করেন, বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, আনসার ক্যাম্প বা যথাযথ নজরদারি ছাড়া এখানে বসবাস অসম্ভব।
পড়ুন>>পেট্রোবাংলায় ৭৫৩ জন নিয়োগ: আবেদন চলবে এক মাস
ভুক্তভোগী প্লট মালিক নাছির উদ্দীন আক্ষেপ করে বলেন, এক দশক আগে জমানো টাকা দিয়ে প্লট কিনেছিলাম, কিন্তু আজ সেই স্বপ্ন ধ্বংসের মুখে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, জনসাধারণের সুবিধার জন্য গ্রহণ করা এই প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতা খতিয়ে দেখা জরুরি। অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। আজ আমাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























