ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬ গ্যাস সরবরাহ সংকট: যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির পথে কাতার দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেশে ইলিশের ঘাটতি: প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আমদানি রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা

ভূরুঙ্গামারীর কৃষকরা সোনালী আঁশ খ্যাত পাট নিয়ে মহাবিপাকে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ অগাস্ট ২০২২ ২৪০ বার পড়া হয়েছে

ভূরুঙ্গামারীর কৃষকরা সোনালী আঁশ খ্যাত পাট নিয়ে মহাবিপাকে

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কৃষকরা সোনালী আঁশ খ্যাত পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছে । ভরা বর্ষায় পাট কাটা, পিল দেওয়া, জাগ দেওয়া,পাটের আশঁ ছাড়ানো ও রোদে শুকানোসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকার কথা কৃষকদের।কিন্তু শ্রাবণ মাস পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না থাকায় খাল বিল শুকিয়ে পানি শূন্য হয়ে যাওয়ায় কৃষকের মাঝ সেই ব্যস্ততা নেই। পানির অভাবে পাট কেটে জাগ(পঁচানো) দিতে পারছেন না। কোন কোন কৃষকের পাট জমিতেই শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে পাট বেড়ে ওঠতে পারেনি। যতটুকু হয়েছে তাও এখন খরার কবলে পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে পাট চাষ করে লাভের আশা তো দূরে থাক হাল চাষের খরচও উঠবে না অনেক কৃষকের। এ ছাড়া বড় বড় বিল গুলোতে মাছ চাষ করায় সেখানে পাটের জাগ দিতে দিচ্ছেনা। বাধ্য হয়েই অল্প পানিতে পাটের জাগ দিতে হচ্ছে। ফলে পাটের রং সোনালী না হয়ে কালচে হচ্ছে। ফলে কালচে রংগের পাট বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেনা।

উপজেলার পশ্চিমছাট গোপালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, গত বছর পাটের ভালো দাম পেয়ে সেই আশায় এ বছর দেড় বিঘা জমিতে গম চাষ করি। টানা বৃষ্টিতে অর্ধেক পাট নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে পানি না থাকায় পাট জাগদিতে পারতেছি না।

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকেরছড়া গ্রামের কৃষক জছিম উদ্দিন বলেন, দুই বিঘা জমির পাট কেটে জাগ দিয়েছি খালের পানি শুকিয়ে গেছে। বৃষ্টি না হলে পাট নষ্ট হয়ে যাবে।

নজরুল নামের এক কৃষক বলেন, প্রচন্ড রোদের তাপে পাট শুকিয়ে কালো হয়ে মরে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষকরা ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেন।

উপজেলা উপসহকারি পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বৃষ্টি না হওয় খরার কারণে কৃষক কিছুটা অসুবিধায় পড়েছে। তিনি আরো বলেন-পাট দুটি পদ্ধতিতে পঁচানো যায়। একটি হলো ভারি বস্তুর সাহায্যে পানিতে ডুবিয়ে দেয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে পাট ছিলিয়ে গর্ত করে সেখানে পানি দিয়ে পঁচানো। তবে দ্বিতীয়টিতে এ অঞ্চলের কৃষকরা অভ্যস্ত নন। তাই এখনি পাট না কেটে বৃষ্টি হলে পাট কাটার পরামর্শ দেন তিনি।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূরুঙ্গামারীর কৃষকরা সোনালী আঁশ খ্যাত পাট নিয়ে মহাবিপাকে

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ অগাস্ট ২০২২

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কৃষকরা সোনালী আঁশ খ্যাত পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছে । ভরা বর্ষায় পাট কাটা, পিল দেওয়া, জাগ দেওয়া,পাটের আশঁ ছাড়ানো ও রোদে শুকানোসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকার কথা কৃষকদের।কিন্তু শ্রাবণ মাস পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না থাকায় খাল বিল শুকিয়ে পানি শূন্য হয়ে যাওয়ায় কৃষকের মাঝ সেই ব্যস্ততা নেই। পানির অভাবে পাট কেটে জাগ(পঁচানো) দিতে পারছেন না। কোন কোন কৃষকের পাট জমিতেই শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে পাট বেড়ে ওঠতে পারেনি। যতটুকু হয়েছে তাও এখন খরার কবলে পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে পাট চাষ করে লাভের আশা তো দূরে থাক হাল চাষের খরচও উঠবে না অনেক কৃষকের। এ ছাড়া বড় বড় বিল গুলোতে মাছ চাষ করায় সেখানে পাটের জাগ দিতে দিচ্ছেনা। বাধ্য হয়েই অল্প পানিতে পাটের জাগ দিতে হচ্ছে। ফলে পাটের রং সোনালী না হয়ে কালচে হচ্ছে। ফলে কালচে রংগের পাট বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেনা।

উপজেলার পশ্চিমছাট গোপালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, গত বছর পাটের ভালো দাম পেয়ে সেই আশায় এ বছর দেড় বিঘা জমিতে গম চাষ করি। টানা বৃষ্টিতে অর্ধেক পাট নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে পানি না থাকায় পাট জাগদিতে পারতেছি না।

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকেরছড়া গ্রামের কৃষক জছিম উদ্দিন বলেন, দুই বিঘা জমির পাট কেটে জাগ দিয়েছি খালের পানি শুকিয়ে গেছে। বৃষ্টি না হলে পাট নষ্ট হয়ে যাবে।

নজরুল নামের এক কৃষক বলেন, প্রচন্ড রোদের তাপে পাট শুকিয়ে কালো হয়ে মরে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষকরা ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেন।

উপজেলা উপসহকারি পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বৃষ্টি না হওয় খরার কারণে কৃষক কিছুটা অসুবিধায় পড়েছে। তিনি আরো বলেন-পাট দুটি পদ্ধতিতে পঁচানো যায়। একটি হলো ভারি বস্তুর সাহায্যে পানিতে ডুবিয়ে দেয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে পাট ছিলিয়ে গর্ত করে সেখানে পানি দিয়ে পঁচানো। তবে দ্বিতীয়টিতে এ অঞ্চলের কৃষকরা অভ্যস্ত নন। তাই এখনি পাট না কেটে বৃষ্টি হলে পাট কাটার পরামর্শ দেন তিনি।

 

Facebook Comments Box