ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারিপাতা শুধু মসলা নয় একাধিক মরণ রোগকে দূরে রাখতে পারে

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১০৩৩ বার পড়া হয়েছে

কারিপাতা শুধু মসলা নয় একাধিক মরণ রোগকে দূরে রাখতে পারে

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বারসুঙ্গা (Murraya koenigii) বা কারিপাতা (Curry) একাধিক মারণ রোগকে দূরে রেখে আয়ু বৃদ্ধিতে সক্রিয় কারি পাতা। এই পাতার গন্ধের জন্য বিখ্যাত। এর ব্যবহারে রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধির সাথে সাথে এক অনন্য গন্ধও যুক্ত হয়। টক রুচিবর্ধক হিসেবে দক্ষিণ এবং পশ্চিম-তীরবর্তী ভারতীয় রান্নায়,  শ্রীলঙ্কান রান্নায় বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়, বিশেষত ঝোল জাতীয় রান্নায় বেশী ব‍্যবহার করা হয়।

“এটি শুধুমাত্র  রান্নায় ব‍্যবহত হয় না।এর রয়েছে হাজারো ঔষধি গুণ।কারি পাতা ঔষধি হিসেবে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরিতেও প্রচুর  ব্যবহার করা হয়’

গাছের গঠন: এটি একটি ছোট উদ্ভিদ, যা ৪-৬ মিটার (১৩-২০ ফিট) উঁচু হয়, যার গুড়ির ব্যাস ৪০ সেমি (১৬ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয় । সুগন্ধি পাতাগুলো পক্ষল, প্রতি গুচ্ছে ১১-২১ টি করে পাতা, প্রতিটি পাতা ২–৪ সেমি (০.৭৯–১.৫৭ ইঞ্চি) লম্বা এবং ১–২ সেমি (০.৩৯–০.৭৯ ইঞ্চি) প্রশস্ত। এই গাছে ছোট সাদা ফুল ফোটে যা নিজে নিজে পরাগায়িত হয়ে ছোট চকচকে রসালো ফল উৎপন্ন করে যার ভেতর একটি মাত্র, বড় এবং টেকসই বীজ থাকে। যদিও ফলটির শাঁস খাওয়া যায়যেটি মিষ্টি এবং ঔষধের মত গন্ধযুক্ত। সাধারণভাবে, শাঁস বা বীজ কোনটিই রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয় না।

ভেষজগুণ:

কিছু ক্ষারসদৃশ উপাদান যা প্রধানত কারি গাছের পাতা, কাণ্ড এবং বীজ এ পাওয়া যায় সেগুলো হল:

মাহানিম্বিন (Mahanimbine), গ্রিনিম্বিন (girinimbine), কোয়েনিম্বিন (koenimbine), আইসোমাহানিন (isomahanine), মাহানিন (mahanine), ইন্ডিকোল্যাক্টোন (Indicolactone), ২-মিথোক্সি-৩-মিথাইল-কার্বাজল (2-methoxy-3-methyl-carbazole)।

পড়ুন>>অবাক হওয়া বিষাক্ত ২৯টি খাবার

এই গাছ থেকে পাওয়া গ্রিনিম্বিন এবং কার্বাজল ক্ষারক এর উপরে ২০১১ তে করা এক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, এটি “In Vitro (কোষের স্বাভাবিক অবস্থার বাইরে রেখে তার কার্য নিয়ন্ত্রণ)”

এর HepG2 কোষে, মানুষের শরীরে “Hepatocellular Carcinoma (এক ধরনের ক্যন্সার)” এর বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং Apoptosis (কোষের স্বাভাবিক মৃত্যু) বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

এই পাতাগুলো কে টক রুচিবর্ধক হিসেবে দক্ষিণ এবং পশ্চিম-তীরবর্তী ভারতীয় রান্নায়, শ্রীলঙ্কান রান্নায় বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়, বিশেষত ঝোল জাতীয় রান্নায়, সাধারণত পেঁয়াজ কুচির সাথে রান্নার প্রথম পর্যায়ে এটি ভেজে নেয়া হয়। এগুলো থোরান (Thoran), ভাদা (Vada), রাসাম (Rasam), কাধি (Kadhi) তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।

একাধিক মারণ রোগকে দূরে রেখে আয়ু বৃদ্ধিতে সক্রিয় কারি পাতা।ভারত ( বিশেষত দক্ষিণ ভারতে) ও শ্রীলঙ্কায় প্রাপ্ত, মূলত রান্নার মশলার অন্যতম উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত এক ধরণের গাছের পাতা হল কারিপাতা।ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক ধরনের রান্নায় ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন তরকারিতে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয় বলে একে কারি পাতা বলে।

“প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে কারি পাতার অন্দরে উপস্থিত কার্বেজল অ্যালকালয়েড নামক উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে”

 এই পাতার গন্ধের জন্য বিখ্যাত।এর ব্যবহারে রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধির সাথে সাথে এক অনন্য গন্ধও যুক্ত হয়।নিয়মিত কারি পাতা খাওয়া শুরু করলে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের প্রতি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে একাধিক মারণ রোগকে দূরে রেখে আয়ু বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ওজন কমায়:

কারিপাতা ওজন কমাতেও সাহায্য করে। খাবারে নিয়মিত কারিপাতা ব্যবহার করল বা নিয়মিত কারিপাতার রস খেলে চর্বি গলে যায়। ওজন কমে।

ডায়রিয়া নিরাময়:

সকাল-বিকাল বাইরে খাওয়ার অভ্যাস? তাহলে পেট ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত কারি পাতাও থাওয়া উচিত। আসলে নিয়মিত কারি পাতা খাওয়া শুরু করলে পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে ডায়ারিয়ার প্রকোপ কমাতেও এই ভুমিকা প্রচুর।

পড়ুন>>কিসমিসের পুষ্টিগুণ ও কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে কারি পাতার অন্দরে উপস্থিত কার্বেজল অ্যালকালয়েড নামক উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মর্নিং সিকনেস:

মর্নিং সিকনেস এবং সর্দির হাত থেকেও কারি পাতা বাঁচায়। কারি পাতা খেলে বমিভাব কমে। এবং কারি পাতার নিজস্ব গন্ধ শরীরকে তরতাজা রাখতে সাহায্য করে।

ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখে:

কারি পাতায় উপস্থিত ফেনলস নামক একটি উপাদান, লিউকোমিয়া এবং প্রস্টেট ক্যানসারের মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়:

চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্যও কারি পাতা খাওয়া খুব ভালো। কারি পাতায় উপস্থিত ভিটামিন এ-র প্রভাবেই চোখের কর্নিয়া ভালো থাকে বলে অনেকে দাবি করেন।

স্বাস্থ্যকর চুল:

চুল পড়ার হাতা থেকেও মুক্তি দেয় কারিপাতা। এতে উপস্থিত অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং ভিটামিন এ ও সি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শুধু তাই নয় ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও কারি পাতার কোনও তুলনা হয় না।

ক্ষত নিরাময় করে:

কারিপাতায় আছে উপকারী অ্যালকালয়েড। যে কোনও আঘাত বা জখম অনায়াসে নির্মূল করতে সাহায্য করে এটি। কারি পাতা সেদ্ধ জল চুলকানি, অল্প পোড়া, ইত্যাদি সারাতে ভালো কাজ দেয়। কারি পাতা বাটা খুব ভালো অ্যান্টিসেপ্টিকের কাজ করে।

হার্টের জন্য ভালো:

কারিপাতা ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারিতে পরিপূরণ থাকায় এটি হার্টের পক্ষে খুব উপকারী। নিয়মিত কারিপাতার রস খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ সহজ হয়।

অ্যানিমিয়া নিরাময়:

ফলিক এবং আয়রনে ভরপুর এই প্রকৃতিক উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর লোহিত রক্ত কনিকার মাত্রা এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে অ্যানিমিয়ার মতো রোগ বেশিদিন দাপাদাপি করার সুযোগই পায় না। এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে একটা খেজুরের সঙ্গে ২ টো কারি পাতা খেলেই উপকার মেলে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে:

প্রতিদিন কারি পাতা খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক লেভেলের উপরে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এখানেই শেষ নয়, কারি পাতায় উপস্থিত ফাইবারও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

2 thoughts on “কারিপাতা শুধু মসলা নয় একাধিক মরণ রোগকে দূরে রাখতে পারে

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কারিপাতা শুধু মসলা নয় একাধিক মরণ রোগকে দূরে রাখতে পারে

আপডেট সময় : ১২:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২

বারসুঙ্গা (Murraya koenigii) বা কারিপাতা (Curry) একাধিক মারণ রোগকে দূরে রেখে আয়ু বৃদ্ধিতে সক্রিয় কারি পাতা। এই পাতার গন্ধের জন্য বিখ্যাত। এর ব্যবহারে রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধির সাথে সাথে এক অনন্য গন্ধও যুক্ত হয়। টক রুচিবর্ধক হিসেবে দক্ষিণ এবং পশ্চিম-তীরবর্তী ভারতীয় রান্নায়,  শ্রীলঙ্কান রান্নায় বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়, বিশেষত ঝোল জাতীয় রান্নায় বেশী ব‍্যবহার করা হয়।

“এটি শুধুমাত্র  রান্নায় ব‍্যবহত হয় না।এর রয়েছে হাজারো ঔষধি গুণ।কারি পাতা ঔষধি হিসেবে আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরিতেও প্রচুর  ব্যবহার করা হয়’

গাছের গঠন: এটি একটি ছোট উদ্ভিদ, যা ৪-৬ মিটার (১৩-২০ ফিট) উঁচু হয়, যার গুড়ির ব্যাস ৪০ সেমি (১৬ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয় । সুগন্ধি পাতাগুলো পক্ষল, প্রতি গুচ্ছে ১১-২১ টি করে পাতা, প্রতিটি পাতা ২–৪ সেমি (০.৭৯–১.৫৭ ইঞ্চি) লম্বা এবং ১–২ সেমি (০.৩৯–০.৭৯ ইঞ্চি) প্রশস্ত। এই গাছে ছোট সাদা ফুল ফোটে যা নিজে নিজে পরাগায়িত হয়ে ছোট চকচকে রসালো ফল উৎপন্ন করে যার ভেতর একটি মাত্র, বড় এবং টেকসই বীজ থাকে। যদিও ফলটির শাঁস খাওয়া যায়যেটি মিষ্টি এবং ঔষধের মত গন্ধযুক্ত। সাধারণভাবে, শাঁস বা বীজ কোনটিই রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয় না।

ভেষজগুণ:

কিছু ক্ষারসদৃশ উপাদান যা প্রধানত কারি গাছের পাতা, কাণ্ড এবং বীজ এ পাওয়া যায় সেগুলো হল:

মাহানিম্বিন (Mahanimbine), গ্রিনিম্বিন (girinimbine), কোয়েনিম্বিন (koenimbine), আইসোমাহানিন (isomahanine), মাহানিন (mahanine), ইন্ডিকোল্যাক্টোন (Indicolactone), ২-মিথোক্সি-৩-মিথাইল-কার্বাজল (2-methoxy-3-methyl-carbazole)।

পড়ুন>>অবাক হওয়া বিষাক্ত ২৯টি খাবার

এই গাছ থেকে পাওয়া গ্রিনিম্বিন এবং কার্বাজল ক্ষারক এর উপরে ২০১১ তে করা এক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, এটি “In Vitro (কোষের স্বাভাবিক অবস্থার বাইরে রেখে তার কার্য নিয়ন্ত্রণ)”

এর HepG2 কোষে, মানুষের শরীরে “Hepatocellular Carcinoma (এক ধরনের ক্যন্সার)” এর বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং Apoptosis (কোষের স্বাভাবিক মৃত্যু) বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

এই পাতাগুলো কে টক রুচিবর্ধক হিসেবে দক্ষিণ এবং পশ্চিম-তীরবর্তী ভারতীয় রান্নায়, শ্রীলঙ্কান রান্নায় বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়, বিশেষত ঝোল জাতীয় রান্নায়, সাধারণত পেঁয়াজ কুচির সাথে রান্নার প্রথম পর্যায়ে এটি ভেজে নেয়া হয়। এগুলো থোরান (Thoran), ভাদা (Vada), রাসাম (Rasam), কাধি (Kadhi) তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।

একাধিক মারণ রোগকে দূরে রেখে আয়ু বৃদ্ধিতে সক্রিয় কারি পাতা।ভারত ( বিশেষত দক্ষিণ ভারতে) ও শ্রীলঙ্কায় প্রাপ্ত, মূলত রান্নার মশলার অন্যতম উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত এক ধরণের গাছের পাতা হল কারিপাতা।ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক ধরনের রান্নায় ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন তরকারিতে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয় বলে একে কারি পাতা বলে।

“প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে কারি পাতার অন্দরে উপস্থিত কার্বেজল অ্যালকালয়েড নামক উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে”

 এই পাতার গন্ধের জন্য বিখ্যাত।এর ব্যবহারে রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধির সাথে সাথে এক অনন্য গন্ধও যুক্ত হয়।নিয়মিত কারি পাতা খাওয়া শুরু করলে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের প্রতি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে একাধিক মারণ রোগকে দূরে রেখে আয়ু বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ওজন কমায়:

কারিপাতা ওজন কমাতেও সাহায্য করে। খাবারে নিয়মিত কারিপাতা ব্যবহার করল বা নিয়মিত কারিপাতার রস খেলে চর্বি গলে যায়। ওজন কমে।

ডায়রিয়া নিরাময়:

সকাল-বিকাল বাইরে খাওয়ার অভ্যাস? তাহলে পেট ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত কারি পাতাও থাওয়া উচিত। আসলে নিয়মিত কারি পাতা খাওয়া শুরু করলে পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে ডায়ারিয়ার প্রকোপ কমাতেও এই ভুমিকা প্রচুর।

পড়ুন>>কিসমিসের পুষ্টিগুণ ও কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে কারি পাতার অন্দরে উপস্থিত কার্বেজল অ্যালকালয়েড নামক উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মর্নিং সিকনেস:

মর্নিং সিকনেস এবং সর্দির হাত থেকেও কারি পাতা বাঁচায়। কারি পাতা খেলে বমিভাব কমে। এবং কারি পাতার নিজস্ব গন্ধ শরীরকে তরতাজা রাখতে সাহায্য করে।

ক্যানসারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখে:

কারি পাতায় উপস্থিত ফেনলস নামক একটি উপাদান, লিউকোমিয়া এবং প্রস্টেট ক্যানসারের মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়:

চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্যও কারি পাতা খাওয়া খুব ভালো। কারি পাতায় উপস্থিত ভিটামিন এ-র প্রভাবেই চোখের কর্নিয়া ভালো থাকে বলে অনেকে দাবি করেন।

স্বাস্থ্যকর চুল:

চুল পড়ার হাতা থেকেও মুক্তি দেয় কারিপাতা। এতে উপস্থিত অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং ভিটামিন এ ও সি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শুধু তাই নয় ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও কারি পাতার কোনও তুলনা হয় না।

ক্ষত নিরাময় করে:

কারিপাতায় আছে উপকারী অ্যালকালয়েড। যে কোনও আঘাত বা জখম অনায়াসে নির্মূল করতে সাহায্য করে এটি। কারি পাতা সেদ্ধ জল চুলকানি, অল্প পোড়া, ইত্যাদি সারাতে ভালো কাজ দেয়। কারি পাতা বাটা খুব ভালো অ্যান্টিসেপ্টিকের কাজ করে।

হার্টের জন্য ভালো:

কারিপাতা ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারিতে পরিপূরণ থাকায় এটি হার্টের পক্ষে খুব উপকারী। নিয়মিত কারিপাতার রস খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ সহজ হয়।

অ্যানিমিয়া নিরাময়:

ফলিক এবং আয়রনে ভরপুর এই প্রকৃতিক উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর লোহিত রক্ত কনিকার মাত্রা এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে অ্যানিমিয়ার মতো রোগ বেশিদিন দাপাদাপি করার সুযোগই পায় না। এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে একটা খেজুরের সঙ্গে ২ টো কারি পাতা খেলেই উপকার মেলে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে:

প্রতিদিন কারি পাতা খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক লেভেলের উপরে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এখানেই শেষ নয়, কারি পাতায় উপস্থিত ফাইবারও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

Facebook Comments Box